মো:মিল্টন হোসেন
বিশেষ প্রতিনিধি ঝিনাইদহ
ঝিনাইদহে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের এক কর্মীকে আটক করে বিক্ষুব্ধ জনতা। আটক ব্যক্তির নাম সজীব হোসেন। আজ শহরের একটি এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কর্মী সজীব হোসেন এলাকায় অবস্থান করছেন—এমন সংবাদের ভিত্তিতে বিক্ষুব্ধ জনতা তাকে আটক করে। আটকের পরপরই উত্তেজিত জনতা সজীব হোসেনকে বেপরোয়া মারধর করতে থাকে। এক পর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে জনতা তাকে নিয়ে ঝিনাইদহ শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও প্রাণকেন্দ্রে ঘোরাঘুরি করে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শহরের একাধিক সড়ক ও মোড়ে সজীব হোসেনকে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানে লোকজন ভিড় জমায় এবং উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় সজীব হোসেনের বিরুদ্ধে নানা স্লোগান দিতে থাকে বিক্ষুব্ধ জনতা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলেও শুরুতে জনতার তোপের মুখে পড়তে হয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে।
পরবর্তীতে পরিস্থিতি আরও অবনতি হওয়ার আশঙ্কায় জনতা সজীব হোসেনকে ঝিনাইদহ সদর থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করে। পুলিশ তাকে হেফাজতে নিয়ে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে।
ঝিনাইদহ সদর থানা সূত্রে জানা গেছে, আটক সজীব হোসেন নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের একজন সক্রিয় কর্মী ছিলেন। তার বিরুদ্ধে পূর্বের কোনো মামলা বা অভিযোগ রয়েছে কি না—তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এছাড়া জনতার মারধরের ঘটনায় তার শারীরিক অবস্থাও পরীক্ষা করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে ঝিনাইদহ সদর থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, “সজীব হোসেনকে জনতা থানায় সোপর্দ করেছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে, এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ঝিনাইদহ শহরে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। যে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ ও প্রশাসন সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, আইন নিজের হাতে তুলে না নিয়ে অপরাধী হলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে সোপর্দ করাই শ্রেয়। তারা এ ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।