খন্দকার জলিল, জেলা প্রধান, পটুয়াখালী: পটুয়াখালীর গলাচিপায় যথাযোগ্য মর্যাদায় ও নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে জাতীয় যুব দিবস উদযাপিত হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন ও যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বর্ণাঢ্য র্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এবারের যুব দিবসের প্রতিপাদ্য ছিল— “দক্ষ যুব গড়বে দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ”। রোববার (১ নভেম্বর) সকাল ১০টায় গলাচিপা উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি পৌর শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় উপজেলা পরিষদ ভবনের সামনে এসে শেষ হয়। র্যালির মাধ্যমে যুবসমাজের দক্ষতা বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও বৈষম্যহীন সমাজ গঠনের বার্তা তুলে ধরা হয়। এতে বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের প্রতিনিধি, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং যুব সমাজের বিপুলসংখ্যক তরুণ-তরুণী অংশ নেন। র্যালি শেষে উপজেলা পরিষদ কনফারেন্স রুমে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবুজর মো. ইজাজুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে (ভার্চুয়ালি) যুক্ত ছিলেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক, এমপি। আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম, উপজেলা গণঅধিকার পরিষদের আহ্বায়ক মো. হাফিজুর রহমান ও উপজেলা বিএনপি নেতা আব্দুস সোবহান। এ ছাড়া অনুষ্ঠানে প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, যুব সমাজের বিপুলসংখ্যক তরুণ-তরুণী ও প্রিন্ট-ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। সভায় বক্তারা বলেন, যুবসমাজ একটি দেশের সবচেয়ে সম্ভাবনাময় ও মূল চালিকাশক্তি। তরুণদের মেধা, শ্রম, সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবনী চিন্তাকে কাজে লাগাতে পারলে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে। মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিতকরণ, কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি, উদ্যোক্তা হওয়ার পথ সুগম করা এবং নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে তরুণদের কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করাই যুব অধিকারের মূল কথা। বক্তারা আরও বলেন, বর্তমান সময়ে শুধু প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাই নয়, বরং কারিগরি শিক্ষা, প্রযুক্তিনির্ভর প্রশিক্ষণ এবং কর্মমুখী দক্ষতা অর্জন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যুবসমাজকে মাদক, অপরাধ ও নেতিবাচক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রেখে শিক্ষা, খেলাধুলা ও সামাজিক উন্নয়নে সম্পৃক্ত করতে হবে। দেশপ্রেম, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ তরুণ প্রজন্মই পারে একটি আত্মনির্ভরশীল, বৈষম্যহীন ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে। স্থানীয় পর্যায়ে তরুণদের মেধা বিকাশ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে প্রশাসনের আরও জোরালো ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান বক্তারা। সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবুজর মো. ইজাজুল হক তরুণদের উদ্দেশ্যে অত্যন্ত বাস্তবসম্মত ও কঠোর বার্তা দিয়ে বলেন, “আমাদের দেশে অনেক যুবক পড়ালেখা শেষ করেও বেকার ঘুরে বেড়ায় এবং সারাদিন মোবাইল নিয়ে সময় কাটায়। এমনকি মোবাইল চালানোর খরচও পরিবারের কাছ থেকে নিতে হয়—এর চেয়ে লজ্জার আর কিছু হতে পারে না। তাই আজ থেকে তোমরা শপথ নাও, অনার্স পাস করার পরে আর বেকার থাকবে না; নিজে কিছু না কিছু একটা করতেই পারবে।” তাঁর এই গঠনমূলক ও কর্মমুখী আহ্বান অনুষ্ঠানে উপস্থিত তরুণ সমাজকে দারুণভাবে অনুপ্রাণিত করে।