স্টাফ রিপোর্টার: জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার চর ভাটিয়ানী মৌজার বাসিন্দা মো. রফিকুল ইসলাম মনোহর আকন্দ তার বিরুদ্ধে প্রকাশিত একটি অনলাইন সংবাদের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে এটিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার বলে দাবি করেছেন। তার ভাষ্য, জমি দখল, প্রভাব খাটানো ও প্রতারণার মতো যেসব অভিযোগ উত্থাপন করা হয়েছে সেগুলোর সঙ্গে বাস্তবতার কোনো মিল নেই এবং তার সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যেই একটি মহল পরিকল্পিতভাবে এসব তথ্য প্রচার করছে। রফিকুল ইসলাম মনোহর আকন্দ (পিতা: মৃত মো. দেলোয়ার হোসেন আকন্দ, গ্রাম: চর লোটাবর, ডাকঘর: গুনার বাড়ি, উপজেলা: মাদারগঞ্জ, জেলা: জামালপুর) জানান, যেসব জমি নিয়ে অভিযোগ তোলা হয়েছে সেগুলো তার এবং তার অংশীদারদের নামে বৈধ দলিলপত্রে নিবন্ধিত রয়েছে এবং দীর্ঘদিন ধরে তারা আইনসম্মতভাবে ওই জমি ভোগদখল করে আসছেন। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট জমির রেকর্ডে সিএস খতিয়ান নং ৩১৭ ও ৩১৯ এবং সিএস দাগ নং ৪০৩ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। পরবর্তীতে একই জমি আরএস খতিয়ান নং ১, আরএস দাগ নং ৬০৫ এবং বি.এস খতিয়ান নং ৯১৯-এর অধীনে বিআরএস ৭২২ নং দাগের ৬ শতাংশ জমির অন্তর্ভুক্ত হয়। এছাড়া বিআরএস ১ নং খাস খতিয়ানভুক্ত বিআরএস ৫৪৮২ নং দাগের ২৭ শতাংশ জমির মধ্যে ৪ শতাংশসহ মোট প্রায় ১০ শতাংশ জমি নিয়ে চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা প্রার্থনা সংক্রান্ত একটি মামলা রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি আরও জানান, সিএস ৩১৭ নং খতিয়ানভুক্ত সিএস ৪০৩ নং দাগের ১৪ শতাংশ এবং সিএস ৩১৯ নং খতিয়ানভুক্ত একই দাগের আরও ১৪ শতাংশসহ মোট ২৮ শতাংশ জমির রেকর্ডীয় মালিকানা তাদের নামে পূর্ব থেকেই বিদ্যমান রয়েছে। নথিপত্র অনুযায়ী সম্পত্তির একটি অংশে পুকুরের জমিও রয়েছে। মৌজা ভাটিয়ানী, প্রজার বিআরএস ১২৩৯ নং খতিয়ানভুক্ত জে.এল নং ৯৫-এর অন্তর্গত ৩২৪ নং দাগের ১০৬ শতাংশ জমির মধ্যে ২১ শতাংশ এবং ৪৫১ নং দাগের ৫ শতাংশ জমির মধ্যে ২ শতাংশসহ মোট প্রায় ২৩ শতাংশ পুকুরের জমি তার বৈধ অংশ হিসেবে উল্লেখ রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। রফিকুল ইসলাম মনোহর আকন্দ বলেন, জমির মালিকানা সংক্রান্ত মূল দলিল, খতিয়ান, রেকর্ড ও কর পরিশোধের কাগজপত্রসহ প্রায় ১১২ পৃষ্ঠার আইনগত নথি তার কাছে সংরক্ষিত রয়েছে এবং প্রয়োজনে এসব নথি প্রশাসন বা আদালতের কাছে উপস্থাপন করা সম্ভব। তিনি আরও জানান, জমির মালিকানা নিয়ে পূর্বে যে বিরোধ আদালতে গিয়েছিল সে বিষয়ে শুনানি শেষে আদালত তার পক্ষে রায় প্রদান করেন এবং আদালতের ওই রায়ের মাধ্যমে জমির বৈধ মালিকানা তার ও তার অংশীদারদের নামে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তার দাবি, বর্তমানে উক্ত জমির ওপর বসতবাড়ি, দোকানপাটসহ বিভিন্ন স্থাপনা নির্মিত রয়েছে এবং দীর্ঘদিন ধরেই সেগুলো তাদের দখল ও ব্যবস্থাপনায় রয়েছে। ফলে তার বিরুদ্ধে জবরদখলের অভিযোগ বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। প্রকাশিত প্রতিবেদনে ট্রাক সমিতি জোরপূর্বক দখল এবং প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগের বিষয়েও তিনি তীব্র প্রতিবাদ জানান এবং বলেন, এসব অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রামাণ্য দলিল বা নির্ভরযোগ্য তথ্য উপস্থাপন করা হয়নি। তিনি অভিযোগ করেন, ব্যক্তিগত বিদ্বেষ, পূর্ব শত্রুতা ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জের ধরে একটি মহল পরিকল্পিতভাবে তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানোর চেষ্টা করছে। রফিকুল ইসলাম মনোহর আকন্দ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত সত্য উদঘাটনের আহ্বান জানান এবং ভবিষ্যতে যাচাই-বাছাই ছাড়া বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রকাশ থেকে বিরত থাকার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি অনুরোধ জানান।