বুধবার, ১০ জুন ২০২৬, ০৩:৪২ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ
রাজবাড়ীতে খাল পুনঃখনন ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে ৭৭১ শ্রমিকের কর্মসংস্থান, উর্বর হবে কৃষিজমি মোংলা বন্দরের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করলেন রিয়ার এডমিরাল আরিফ আহমেদ মোস্তফা এমটি ইপিআই এ দায়িত্বে থাকা স্বাস্থ্য সহকারী আনোয়ার হোসেন কর্তৃক নেত্রকোনার দুর্গাপুর হাসপাতালে বিভিন্ন খাতের অর্থ আত্মসাৎ এর অভিযোগ: ​গলাচিপায় বান্ধবীর বাসা থেকে তরুণীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার: মৃত্যুর আগে চলছিল ভিডিও রেকর্ড! ভাতিজার হাতে চাচা খুন! গোমস্তাপুরে কুখ্যাত মাদক দম্পতি গ্রেফতার। সাতক্ষীরাসহ দক্ষিণাঞ্চলের ৬ টি জেলার দায়িত্ব পেলেন সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য বীথিকা বনানী স্ট্যান্ডে সিএনজি-অটোরিকশা সংঘর্ষে আহত সাংবাদিক আরিফুল ইসলাম, চোখে অস্ত্রোপচারের পরামর্শ বকশীগঞ্জে আসফ (ASF)-এর বগারচর ইউনিয়ন শাখার কার্যালয় উদ্বোধন ঝিনাইদহে জেলা ছাত্রলীগের সাবেক নেতা ও যুবলীগ সদস্য সোহেল বিশ্বাস ডিবি পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার,

রাজবাড়ীতে খাল পুনঃখনন ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে ৭৭১ শ্রমিকের কর্মসংস্থান, উর্বর হবে কৃষিজমি

অতুল সরকার, রাজবাড়ী প্রতিনিধি:

রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলায় অতি দরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচি (ইজিপিপি)-এর আওতায় বাস্তবায়নাধীন খাল পুনঃখনন ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির প্রায় ৯০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। অবশিষ্ট কাজ নির্ধারিত প্রকল্প মেয়াদের মধ্যেই শেষ হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

উপজেলার যশাই ও পাট্টা ইউনিয়নে পৃথক দুটি প্রকল্পের আওতায় প্রায় ১৪ কিলোমিটার খাল পুনঃখনন করা হচ্ছে। এ কর্মসূচিতে ৭৭১ জন অতি দরিদ্র শ্রমিক কর্মসংস্থানের সুযোগ পেয়েছেন এবং নিয়মিত মজুরির মাধ্যমে আর্থিকভাবে উপকৃত হচ্ছেন।

দীর্ঘদিন পুনঃখননের অভাবে খাল দুটি ভরাট হয়ে যাওয়ায় কৃষিজমিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছিল এবং চাষাবাদ ব্যাহত হচ্ছিল। খাল পুনঃখননের ফলে জলাবদ্ধতা দূর হওয়ার পাশাপাশি কৃষিজমির উর্বরতা বৃদ্ধি পাবে। এছাড়া শুকনো মৌসুমে সেচের জন্য পর্যাপ্ত পানি সংরক্ষণ সম্ভব হবে, যা কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আওতায় খালের দুই তীরে তালগাছ রোপণ করা হচ্ছে। এতে বজ্রপাতের ঝুঁকি কমার পাশাপাশি কৃষকরা ছায়ার সুবিধাও পাবেন।

বৃহস্পতিবার (৪ জুন ২০২৬) পাট্টা ইউনিয়নের আঁধারকোটা খাল পুনঃখনন কাজ পরিদর্শনকালে পাংশা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শাহ মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, “এটি একটি পাট উৎপাদনকারী এলাকা। খাল পুনঃখননের ফলে কৃষকরা পাট জাগ দেওয়ার জন্য পর্যাপ্ত পানি পাবেন। একই সঙ্গে সেচ ব্যবস্থার উন্নয়ন হবে এবং প্রকৃতির ওপর নির্ভরশীলতা কমবে।” তিনি কাজের মান নিয়েও সন্তোষ প্রকাশ করেন।

পাংশা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিফাতুল হক জানান, প্রকল্প দুটির প্রায় ৯০ শতাংশ কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। অবশিষ্ট কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই শেষ হবে। তিনি বলেন, “খাল পুনঃখননের মাধ্যমে জলাবদ্ধতা দূর হবে, কৃষিজমির উর্বরতা বৃদ্ধি পাবে এবং কৃষি উৎপাদন বাড়বে। পাশাপাশি তালগাছ রোপণের ফলে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও বজ্রপাতের ঝুঁকি হ্রাস পাবে।”

আঁধারকোটা খাল খনন প্রকল্পের সভাপতি ও পাট্টা ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান আকিদুল বিশ্বাস জানান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিফাতুল হক এবং প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আসলাম হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিয়মিত তদারকি ও পর্যবেক্ষণের ফলে কাজের গুণগত মান বজায় রেখে দ্রুতগতিতে প্রকল্প বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়েছে।

পাট্টা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য এবং পাংশা উপজেলা প্রেসক্লাবের সহ-সাধারণ সম্পাদক অতুল সরকার বলেন, “খাল পুনঃখননের ফলে এলাকার জমির মূল্য বৃদ্ধি পাবে। এছাড়া খালটি গড়াই নদীর সঙ্গে সংযুক্ত থাকায় বর্ষা মৌসুমে মাছের রেণু পোনা বিলে প্রবেশ করবে, যা স্থানীয় মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি এবং দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক অবদান রাখবে।”

প্রকল্পে অংশগ্রহণকারী নারী শ্রমিকরা জানান, এলাকায় কাজের সুযোগ কম থাকায় তারা এই প্রকল্পে কাজ করে প্রতিদিন ৫০০ টাকা মজুরি পেয়ে পরিবার পরিচালনায় সহায়তা পাচ্ছেন। অন্যদিকে পুরুষ শ্রমিকরা বলেন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে বর্তমান মজুরি কিছুটা কম হলেও কর্মসংস্থানের সুযোগ থাকায় তারা উপকৃত হচ্ছেন।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, পাট্টা ইউনিয়নের আঁধারকোটা খালের প্রায় ৫ কিলোমিটার পুনঃখনন কাজে ব্যয় ধরা হয়েছে ১ কোটি ২ লাখ ২৬ হাজার ৪৪৫ টাকা এবং যশাই ইউনিয়নের ঢেঁকিপাড়া খালের ৯ কিলোমিটার পুনঃখনন কাজে ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ২ কোটি ৩১ লাখ ৭৭ হাজার ৯২৭ টাকা। প্রকল্প দুটির মেয়াদ আগামী ১৮ জুন ২০২৬ তারিখে শেষ হবে


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.


ফেসবুকে আমরা