প্রতিবেদন: মোহাম্মদ রাহিম, বিশেষ প্রতিনিধি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া।
চার বছরের দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর পরিবারে এসেছিল প্রথম সন্তান। সন্তানকে ঘিরে মা-বাবার চোখে ছিল হাজারো স্বপ্ন, মনে ছিল নতুন জীবনের আনন্দ। কিন্তু সেই আনন্দ মুহূর্তেই পরিণত হয়েছে কান্না আর উৎকণ্ঠায়। ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল থেকে নিখোঁজ হয়েছে মাত্র তিন দিনের এক নবজাতক। অভিযোগ উঠেছে, এক নারী শিশুটিকে কোলে নিয়ে হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে গেছেন। হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজে ওই নারীকে দেখা গেছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। নিখোঁজ নবজাতককে উদ্ধারে কাজ করছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বিকেল ৩টা ৫ মিনিটের দিকে এ ঘটনা ঘটে।
নিখোঁজ নবজাতকের মা মরিয়ম ও বাবা শামীম ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার চান্দুরা গ্রামের বাসিন্দা। গত ৬ অক্টোবর সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তাঁদের ঘরে জন্ম নেয় বহু প্রতীক্ষিত সন্তান। দীর্ঘ চার বছরের অপেক্ষার পর প্রথম সন্তানের মুখ দেখে আনন্দে ভরে উঠেছিল পরিবারটি। কিন্তু জন্মের মাত্র তিন দিনের মাথায় নবজাতক নিখোঁজ হওয়ায় সেই আনন্দ এখন বিষাদে পরিণত হয়েছে। সন্তানকে হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন মা-বাবা ও পরিবারের সদস্যরা।
নাতিকে হারিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন নবজাতকের নানি মমতাজ বেগম। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, “চার বছর পর নাতির মুখ দেখেছি, কিন্তু তাকে ধরে রাখার ভাগ্য হলো না।” তাঁর আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে হাসপাতালের পরিবেশ।
এদিকে, নবজাতক নিখোঁজের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর হাসপাতালজুড়ে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে। ঘটনার পর হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে ওই নারীকে শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।
হাসপাতালের নার্সিং ইনচার্জ খাদিজা আক্তার সুবর্ণা জানান, বিষয়টি জানার পর সংশ্লিষ্টরা ঘটনাস্থলে যান। হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার শাহিন ভূঁইয়া বলেন, নবজাতক নিখোঁজের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় পুলিশকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হচ্ছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খায়রুল আলম জানান, হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। ফুটেজ বিশ্লেষণ করে ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিকে শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
অন্যদিকে, সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রকিব উর রাজা জানান, নবজাতককে উদ্ধারে থানা পুলিশের পাশাপাশি গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একাধিক দল কাজ করছে। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণসহ বিভিন্ন তথ্যের ভিত্তিতে জড়িত ব্যক্তিকে শনাক্ত এবং নবজাতককে উদ্ধারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
হাসপাতালের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসাপ্রতিষ্ঠান থেকে তিন দিনের নবজাতক নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। একই সঙ্গে হাসপাতালের নিরাপত্তাব্যবস্থা ও নবজাতকদের সুরক্ষা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
চার বছরের দীর্ঘ অপেক্ষার পর পাওয়া সন্তানকে ফিরে পেতে এখন প্রতিটি মুহূর্ত উৎকণ্ঠায় কাটছে মা-বাবার। কখন ফিরবে তাঁদের আদরের সন্তান, আবার কখন শিশুটিকে বুকে জড়িয়ে ধরতে পারবেন মা-সেই আশায় পথ চেয়ে আছেন পরিবারের সদস্যরা।
পরিবারের একটাই আকুতি, দ্রুত উদ্ধার করা হোক তাদের বুকের ধন। নিরাপদে মায়ের কোলে ফিরিয়ে দেওয়া হোক চার বছরের প্রতীক্ষায় পাওয়া সেই নবজাতককে।