নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজধানীর মিরপুর-১০ নম্বরের মতো ঢাকার বিভিন্ন এলাকার দখল হয়ে থাকা ফুটপাত উদ্ধার করে নগরবাসীর নির্বিঘ্নে চলাচল নিশ্চিত করা হবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বর এলাকায় পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের উদ্বোধনকালে তিনি এ কথা বলেন। ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, ঢাকা শহরের যেসব এলাকায় ফুটপাত দখল হয়ে আছে এবং জনসাধারণের চলাচলে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে, সেসব স্থান চিহ্নিত করে পর্যায়ক্রমে দখলমুক্ত করা হবে। একে একে ফুটপাত উদ্ধার করে নগরবাসীর স্বাভাবিক হাঁটাচলা নিশ্চিত করা হবে। তিনি বলেন, গত ১৭ তারিখে জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীদের ঢাকাকে পরিচ্ছন্ন ও সবুজ রাখতে কাজ করার নির্দেশনা দিয়েছেন। ঢাকাকে পরিচ্ছন্ন, আধুনিক ও বাসযোগ্য নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার ও সিটি করপোরেশনের পাশাপাশি নগরবাসীকেও সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে হবে। শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন বলেন, জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল একটি সুশৃঙ্খল সংগঠন। পরিচ্ছন্নতা ও সবুজায়ন কার্যক্রমে তাদের সম্পৃক্ত করা হলে নগরবাসী উপকৃত হবেন এবং সিটি করপোরেশনের কার্যক্রমেও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পাওয়া যাবে। তিনি আরও বলেন, দীর্ঘ ১৮ বছর ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন-সংগ্রাম করতে গিয়ে অনেকেই ত্যাগ স্বীকার করেছেন। এখন দেশ গড়ার সময়। প্রধানমন্ত্রী দেশকে আধুনিক ও বাসযোগ্য করে গড়ে তোলার যে নির্দেশনা দিচ্ছেন, তাঁর একজন সহকর্মী হিসেবে সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে কাজ করা আমাদের দায়িত্ব। পরিচ্ছন্নতা ও সবুজায়ন কার্যক্রমের বিষয়ে ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীরা ইতিমধ্যে যেসব স্থানে গাছ লাগানো হয়েছে, সেগুলোর পরিচর্যা করবেন। নতুন করে যেসব স্থানে গাছ লাগানো হবে, সেগুলোতেও নিয়মিত পানি দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। সপ্তাহে দুই থেকে তিন দিন নির্ধারিত রুটিন অনুযায়ী গাছে পানি দেওয়া এবং যেসব স্থানে বেশি ময়লা জমে আছে, সেগুলো নিজেদের উদ্যোগে পরিষ্কার করবেন তাঁরা। এ কাজে সিটি করপোরেশন সহযোগিতা করবে। নগরবাসীর বিভিন্ন সমস্যা দ্রুত সমাধানে ‘আমার ঢাকা’ নামে একটি অ্যাপ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, অ্যাপটির উন্নয়নকাজ চলছে। অল্প কিছুদিনের মধ্যেই এটি উদ্বোধন করা হবে। নগরীর যেকোনো এলাকার সমস্যা এই অ্যাপের মাধ্যমে জানানো হলে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তা সমাধানের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি জানান, এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘ফিক্স ইট ডিএনসিসি’ নামে একটি অ্যাপ তৈরি করা হয়েছিল। সেটির মাধ্যমে নগরীর অনেক সমস্যার সমাধান করা সম্ভব হয়েছে। মিরপুর-১০ নম্বরের ফুটপাত দখলমুক্ত করার বিষয়ে শফিকুল ইসলাম খান বলেন, আগে এ এলাকার ফুটপাত দিয়ে শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী ও সাধারণ মানুষ নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারতেন না। ব্যবসায়ীদেরও চলাচলে সমস্যা হতো। মিরপুরবাসী ও সহকর্মীদের সহযোগিতায় ফুটপাতটি দখলমুক্ত করা হয়েছে। বর্তমানে এলাকাটিকে আরও নান্দনিক ও দৃষ্টিনন্দন করে তুলতে সংস্কারকাজ চলছে। ইতিমধ্যে সেখানে গাছ লাগানো হয়েছে। তিনি বলেন, শুধু মিরপুর-১০ নয়, যেসব এলাকায় যানজট সৃষ্টি হয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াতে বিঘ্ন ঘটে কিংবা নগরবাসীর হাঁটাচলায় সমস্যা হয়, সেসব এলাকার ফুটপাতও পর্যায়ক্রমে দখলমুক্ত করা হবে। প্রধানমন্ত্রীর দেশ গড়ার আহ্বানের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, এখন দেশ গড়ার সময়। প্রধানমন্ত্রীর ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’ অঙ্গীকার বাস্তবায়নে তাঁরা প্রস্তুত রয়েছেন। রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচারের বিষয়ে তিনি বলেন, একটি রাজনৈতিক সংগঠন বিভিন্নভাবে প্রধানমন্ত্রীর কাজে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করছে। তবে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সব ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে প্রধানমন্ত্রীর অঙ্গীকার বাস্তবায়নে কাজ করা হবে। সাংবাদিকদের সহযোগিতা কামনা করে ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, নগরবাসী যেন তাঁকে সহযোগিতা করেন। মিরপুর-১০ নম্বরের মতো ঢাকার বিভিন্ন এলাকার দখল হয়ে থাকা ফুটপাত উদ্ধার করে মানুষের নির্বিঘ্নে চলাচলের উপযোগী করে তোলা হবে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক নাজমুল হাসান, ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক শেখ ফরিদ, সাধারণ সম্পাদক মহসিন সিদ্দিকী রনি, মিরপুর থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক রুস্তম আলী, সদস্যসচিব আওলাদ হোসেনসহ সংগঠনটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।