আবদুর রহমান, রায়পুর প্রতিনিধি: লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার মেঘনা নদীতে সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মা ইলিশ শিকারের অভিযোগ উঠেছে একশ্রেণির জেলের বিরুদ্ধে। ইলিশের প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ সংরক্ষণে সরকারের নিষেধাজ্ঞা চলাকালে নদীতে মাছ শিকারের এমন অভিযোগ স্থানীয় সচেতন মহলে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। অভিযোগ রয়েছে, নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকা সত্ত্বেও মেঘনা নদীর বিভিন্ন এলাকায় কিছু জেলে সুযোগ বুঝে জাল ফেলে মাছ শিকার করছেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য ও স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য পাওয়া প্রয়োজন। মা ইলিশ সংরক্ষণে নিষেধাজ্ঞার উদ্দেশ্য প্রতিবছর ইলিশের প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশকে নির্বিঘ্নে ডিম ছাড়ার সুযোগ দিতে সরকার নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ইলিশ আহরণ, পরিবহন, মজুত, বাজারজাত ও বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো ইলিশের প্রজনন ও বংশবৃদ্ধি নিশ্চিত করা এবং দেশের মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণ করা। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ নির্বিঘ্নে ডিম ছাড়তে পারলে ভবিষ্যতে ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। তাই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাছ শিকার করা হলে সংরক্ষণ কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। নজরদারি ও অভিযান নিয়ে প্রশ্ন নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে মৎস্য বিভাগ, উপজেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বিত তদারকি গুরুত্বপূর্ণ। নদীতে অবৈধভাবে মাছ শিকারের অভিযোগ ওঠায় সংশ্লিষ্ট এলাকায় নজরদারি ও অভিযান আরও জোরদারের দাবি জানিয়েছেন সচেতন নাগরিকেরা। তবে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাছ শিকারের সঙ্গে কোনো কর্মকর্তা বা প্রভাবশালী ব্যক্তির সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, সে বিষয়ে নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়নি। তাই এ ধরনের অভিযোগের ক্ষেত্রে যথাযথ তদন্ত ও প্রমাণের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন। মা ইলিশ রক্ষায় কঠোর পদক্ষেপের দাবি সচেতন মহলের দাবি, মা ইলিশ সংরক্ষণে নদীতে নিয়মিত টহল বাড়ানো, নিষিদ্ধ জাল জব্দ, অবৈধ মাছ শিকারিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং মাছের পরিবহন ও বিক্রির ওপর নজরদারি জোরদার করতে হবে। একই সঙ্গে নিষেধাজ্ঞাকালীন প্রকৃত জেলেদের জন্য বরাদ্দ সরকারি সহায়তা যথাযথভাবে পৌঁছে দেওয়া এবং বিকল্প জীবিকার বিষয়ে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দিতে হবে। মা ইলিশ রক্ষা শুধু প্রশাসনের দায়িত্ব নয়; জাতীয় মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণে জেলে, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষেরও সচেতন ভূমিকা রয়েছে। সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়ন করা গেলে ইলিশের প্রজনন সুরক্ষা ও ভবিষ্যৎ উৎপাদন বৃদ্ধির পথ সুগম হবে। এদিকে, রায়পুর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মাহফুজুল হাসনাইনের বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাঁর বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে সংযুক্ত করা হবে।