মো:মিল্টন হোসেন
বিশেষ প্রতিনিধি ঝিনাইদহ
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান হাদীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ঝিনাইদহে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনার রেশ ধরে ঝিনাইদহ জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কনক কান্তি দাসের বাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল রাত গভীর হলে সারা দেশে ওসমান হাদীর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ে। এরই ধারাবাহিকতায় গভীর রাতে ক্ষুব্ধ জনতার একটি অংশ ঝিনাইদহ শহরের শেরে বাংলা সড়কের হামদহ এলাকায় অবস্থিত কনক কান্তি দাসের বাসভবনে হামলা চালায়। এ সময় তারা বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করে আসবাবপত্রসহ বিভিন্ন মালামাল ভাঙচুর করে এবং বাড়ির সামনের অংশে আগুন ধরিয়ে দেয়।
ঘটনার সময় বাড়িতে অবস্থানরত কনক কান্তি দাসের ছোট ভাই গোপাল কৃষ্ণ দাস জানান, বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক ১২টার দিকে বাইরে বিক্ষুব্ধ জনতার চিৎকার ও শোরগোল শুনে পরিস্থিতির আঁচ করতে পারেন তিনি। সম্ভাব্য বিপদের কথা বুঝতে পেরে দ্রুত বাড়ির পেছনের দরজা দিয়ে বের হয়ে নিরাপদ স্থানে সরে যান। এরপর হামলাকারীরা নির্বিঘ্নে বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করে ব্যাপক ভাঙচুর চালায় এবং একপর্যায়ে বাড়ির সামনে আগুন ধরিয়ে দেয়।
গোপাল কৃষ্ণ দাসের দাবি, এ ঘটনায় তাদের প্রায় ১৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ভাঙচুরের ফলে ঘরের আসবাবপত্র, দরজা-জানালা ও অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী সম্পূর্ণভাবে নষ্ট হয়ে গেছে।
এদিকে জানা গেছে, গত ৫ আগস্টের পর থেকেই কনক কান্তি দাস সপরিবারে আত্মগোপনে রয়েছেন। তিনি ঝিনাইদহ জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সাধারণ সম্পাদক হওয়ার পাশাপাশি সাবেক জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
ঘটনা প্রসঙ্গে ঝিনাইদহ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শেখ বিল্লাল হোসেন বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। কয়েকটি এলাকায় বিক্ষুব্ধ ছাত্রদের মিছিল বের হলে পুলিশ তাদের সঙ্গে কথা বলে শান্ত করে। বর্তমানে শহরের পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং বড় ধরনের কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেনি।
এ ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।