মোঃ জিয়াউদ্দিনের জেলা বিশেষ প্রতিনিধি ভোলা:
ভোলার চরফ্যাশনে এসএসসির তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) (১১জুলাই ২০২৬) শনিবার পরীক্ষা শেষে প্রশ্ন কমন না পড়া, প্রশ্ন তুলনামূলক কঠিন হওয়া এবং পরীক্ষা কেন্দ্রে কঠোর তদারকিকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। পরে একদল পরীক্ষার্থীর হামলা, ভাঙচুর এবং পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। এ ঘটনায় পুলিশ ও শিক্ষার্থীসহ উভয় পক্ষের অন্তত ১২ থেকে ১৩ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
শনিবার দুপুরে চরফ্যাশনের ফাতেমা মতিন মহিলা মহাবিদ্যালয় পরীক্ষা কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে।
কলেজ কর্তৃপক্ষের দাবি, পরীক্ষা শেষে চরফ্যাশন সরকারি কলেজের প্রায় ২০০ থেকে ৩০০ পরীক্ষার্থী কেন্দ্র থেকে বের হয়ে স্লোগান দিতে থাকে। একপর্যায়ে তারা কলেজ লক্ষ্য করে ডিম ও ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে এবং অধ্যক্ষের কার্যালয়ের জানালাসহ দুটি গেট ভাঙচুর করে।
ফাতেমা মতিন মহিলা মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ ও পরীক্ষা পরিচালনা কমিটির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মহিউদ্দিন বাচ্চু জানান, প্রশ্ন কমন না পড়া এবং পরীক্ষা কঠিন হওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে একদল শিক্ষার্থী হামলা ও ভাঙচুর চালায়।
অন্যদিকে কয়েকজন পরীক্ষার্থী অভিযোগ করেন, পরীক্ষা হলে তাদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করা হয়েছে। তাদের দাবি, হলে অতিরিক্ত কড়াকড়ি করা হয়, নকলের কোনো সুযোগ দেওয়া হয়নি এবং কঠোর তদারকির কারণে অনেক শিক্ষার্থী মানসিক চাপে পড়ে। তাদের ভাষ্য, প্রশ্নও তুলনামূলক কঠিন হওয়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি হয়।
তবে কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ জানায়, শিক্ষা বোর্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী নকলমুক্ত ও সুষ্ঠু পরিবেশে পরীক্ষা গ্রহণের জন্য নিয়ম মেনেই কঠোরভাবে দায়িত্ব পালন করা হয়েছে।
চরফ্যাশন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদ জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। এ ঘটনায় পুলিশ সদস্য ও শিক্ষার্থীসহ উভয় পক্ষের ১২ থেকে ১৩ জন আহত হয়েছেন।
চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রোমানা আফরোজা বলেন, “পরীক্ষা তুলনামূলক কঠিন হওয়ায় কিছু শিক্ষার্থী উত্তেজিত হয়ে পড়ে। প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এসেছে।”
ঘটনার পর পরীক্ষা কেন্দ্র এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।