মোঃ আসাদুজ্জামান আসাদ, স্টাফ রিপোর্টার:
টানা বৃষ্টিতে মাঠঘাট প্লাবিত হওয়ায় দিনমজুর ও নিম্নআয়ের মানুষের কর্মসংস্থানও ব্যাহত হয়েছে। রিকশা, ইজিবাইকসহ গণপরিবহনের চলাচল কমে যাওয়ায় শহরের জনজীবন অনেকটাই স্থবির হয়ে পড়েছে। টানা ভারী বর্ষণে চুয়াডাঙ্গার জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। জেলার বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে, তলিয়ে গেছে বিস্তীর্ণ ফসলি জমি এবং বেশ কয়েকটি সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পানিবন্দি হয়ে আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের পাশাপাশি জেলা পরিষদ।
শনিবার (১১ জুলাই) ভোট রাত সাড়ে ৩টার দিকে শুরু হওয়া টানা বৃষ্টিতে জেলার চারটি উপজেলা সদর ও পৌর এলাকার বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। নোংরা ড্রেনের পানির সঙ্গে বৃষ্টির পানি মিশে সড়কে ছড়িয়ে পড়ায় দুর্ভোগে পড়েছেন পথচারী ও সাধারণ মানুষ। অনেক এলাকায় যান চলাচলও ব্যাহত হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দামুড়হুদা উপজেলার চিৎলা-গোবিন্দহুদা এলাকায় ফসলি জমি থেকে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারণে দামুড়হুদা-কার্পাসডাঙ্গা সড়কের পাশের মাটি দুর্বল হয়ে পড়ে। টানা বৃষ্টির পানির তোড়ে সড়কের একাংশ ধসে যাওয়ায় যাতায়াত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এছাড়া জয়রামপুর কাঁঠালতলা বাজার থেকে কুমারীদহগামী সড়কের একটি অংশও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লাভলী ইয়াসমিন জানান, তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এলজিইডির প্রকৌশলীদের সাথে সমন্বয় করে ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক দ্রুত সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
টানা বৃষ্টিতে মাঠঘাট প্লাবিত হওয়ায় দিনমজুর ও নিম্নআয়ের মানুষের কর্মসংস্থানও ব্যাহত হয়েছে। রিকশা, ইজিবাইকসহ গণপরিবহনের চলাচল কমে যাওয়ায় শহরের জনজীবন অনেকটাই স্থবির হয়ে পড়েছে।
শনিবার (১১ জুলাই) সকালে চুয়াডাঙ্গার
ভিমরুল্লা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আশ্রয় নেয়া পানিবন্দী মানুষের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের প্রশাসক শরীফুজ্জামান শরীফ।এর আগে নিজ নিজ বাড়িতে পানি ওঠায় বিদ্যালয়টিতে আশ্রয় নেয়া ২৭টি পরিবারের ১১৮ সদস্যের খোঁজখবর নেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) নয়ন কুমার রাজবংশী ও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তিথি মিত্র। প্রশাসনের পক্ষ থেকে পাঁচ প্যাকেট শুকনো খাবার, নগদ চার হাজার টাকা, ১০ কেজি চিড়া এবং ২৭টি কম্বল বিতরণ করা হয়। পাশাপাশি দ্রুত বসতবাড়ি থেকে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেয়া হয়। এ সময় সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা নাহিদা ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।