শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬, ০৩:৫০ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ
মিরপুরে রামিসা হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে উত্তাল গোলচত্বর “দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হলে এমন ঘটনা থামবে না” বিক্ষোভকারীদের দাবি। শৈলকুপায় ডাকাতির শিকার মনিরুলকে অটোভ্যান উপহার দিল জামায়াত রাজবাড়ীর শ্রেষ্ঠ ওসি নির্বাচিত হলেন উত্তম ঘোষ। লোহাগাড়ায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে গেল কাভার্ডভ্যান। কাজ না করেই লাখ টাকা উত্তোলন! গাড়াদহ ইউনিয়নে প্রকল্পের অর্থ লোপাটের অভিযোগে তোলপাড় শিশু রামিসা হত্যার বিচার দাবিতে সাতক্ষীরায় মানববন্ধন অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ ন্যাশনাল নিউজ ক্লাবের স্থায়ী কার্যনির্বাহী কমিটির সভা অনুষ্ঠিত, ৭ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি গঠন সিরাজগঞ্জে বিটুমিনবাহী ট্রাক উল্টে নারীর মৃত্যু কুতুপালং ক্যাম্পে র‌্যাবের অভিযান: ৩ বছরের সাজাপ্রাপ্ত পলাতক রোহিঙ্গা গ্রেফতার ময়মনসিংহ রেঞ্জের মাসিক পর্যালোচনা সভায় শ্রেষ্ঠ পুলিশ সুপার নির্বাচিত হয়েছেন ফারহানা ইয়াসমিন

কাজ না করেই লাখ টাকা উত্তোলন! গাড়াদহ ইউনিয়নে প্রকল্পের অর্থ লোপাটের অভিযোগে তোলপাড়

কে এম নাছির উদ্দিন, সিনিয়র ক্রাইম রিপোর্টার:

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলা উপজেলার ২ নং গাড়াদহ ইউনিয়নে উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন না করেই সরকারি অর্থ উত্তোলনের ভয়াবহ অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের তীর ইউনিয়ন পরিষদের সচিব মো. আব্দুল হালিমের বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের দাবি, প্রকল্পের বাস্তব কাজ না করেই প্রায় অর্ধেক টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে চরম ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, “প্রকল্প নং-৬, গাড়াদহ ইউনিয়ন, মশিপুর বাজারে ওজেদের দোকান হইতে মাসুদের দোকান পর্যন্ত রাস্তা সংস্কার ও সিসি করণ” প্রকল্পের জন্য মোট ৪ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। কিন্তু সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, প্রকল্পের কাজ পুরোপুরি সম্পন্ন হয়নি। কোথাও কোন কাজের ছোয়া নেই ,অথচ প্রকল্পের প্রায় ৫০ শতাংশ অর্থ ইতোমধ্যেই উত্তোলন করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে রাস্তার দুর্ভোগে ভুগলেও প্রকল্পের নামে বরাদ্দ আসার পর তারা আশার আলো দেখেছিলেন। কিন্তু এখন সেই প্রকল্পই পরিণত হয়েছে “লুটপাটের মহোৎসবে”। এলাকাবাসীর অভিযোগ,কাগজে-কলমে কাজ দেখিয়ে সরকারি টাকা ভাগবাটোয়ারা করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত সচিব মো. আব্দুল হালিম বলেন,
সমস্যা ছিল, কাজ পরে হবে।”
তবে স্থানীয়দের প্রশ্ন— কাজ সম্পন্ন না হলে সরকারি অর্থ উত্তোলন হলো কিভাবে? কোন কর্তৃপক্ষের অনুমোদনে বিল পাশ করা হলো? প্রকল্প তদারকির দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা কি আদৌ মাঠ পরিদর্শন করেছেন, নাকি সবই হয়েছে যোগসাজশের মাধ্যমে?

এলাকাবাসীর দাবি, একই সচিব শাহজাদপুর উপজেলার দুই ইউনিয়নের দায়িত্বে থেকে দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব খাটিয়ে নানা অনিয়ম করে আসছেন। সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পকে ব্যক্তিগত আয়ের উৎসে পরিণত করার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা বলছেন, উন্নয়ন প্রকল্পে এই ধরনের দুর্নীতি শুধু রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয় নয়, এটি সাধারণ মানুষের অধিকার হরণের শামিল। সরকারের কোটি কোটি টাকার উন্নয়ন বাজেট মাঠপর্যায়ে এভাবেই লুটপাট হলে জনগণ কখনো কাঙ্ক্ষিত সুবিধা পাবে না।

স্থানীয় সচেতন মহল অবিলম্বে বিষয়টি তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। তারা দুর্নীতি দমন কমিশন, জেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সরকার বিভাগ এর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

এদিকে প্রকল্পের অর্থ উত্তোলন, কার্যাদেশ, বিল ভাউচার ও বাস্তব কাজের অগ্রগতি নিয়ে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হলে আরও বড় ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতির তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.


ফেসবুকে আমরা