শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ০৬:০৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় যুবলীগের বিক্ষোভ, শেখ হাসিনাসহ নেতাদের বিরুদ্ধে রায় প্রত্যাহারের দাবি। সাতক্ষীরা থেকে প্রকাশিত দৈনিক হৃদয় বার্তার পঞ্চম বর্ষে পদার্পণ উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত সাতক্ষীরায় একাধিক মামলার আসামি আসাদুলের জামিন আবেদন নামঞ্জুর ঝিনাইদহ কালীগঞ্জে বিএনপি নেতা ইসরাইল হোসেন জীবনের ইন্তেকাল জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ রিপোর্টার্স সোসাইটির নবনির্বাচিত কমিটির শপথ গ্রহণ চেয়ারম্যান শেখ মো. ফরিদ আহমেদ চিশতী, মহাসচিব কে.এম. মোহাম্মদ হোসেন রিজভী নির্বাচিত ফলোআপ: কেশবপুরে দম্পতি হত্যার রহস্য উদঘাটন : পরকীয়া প্রেমিক-প্রেমিকা গ্রেপ্তার গলাচিপায় ৫০০ গ্রাম গাঁজাসহ জেসমিন নামের এক নারী আটক বিমানের আর্থিক অনিয়ম ও যান্ত্রিক ত্রুটি নিয়ে সংসদীয় কমিটির কঠোর অবস্থান, চীফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনির সভাপতিত্বে বৈঠক ঢাকা, ২ নভেম্বর ২০২৬: বাংলাদেশ রিপোর্টার্স সোসাইটির নবনির্বাচিত কমিটির পরিচিতি সভা ও শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান মরহুম আঃ আজিজ মাহফুজের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিল ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নতুন উপজেলা গঠনের প্রস্তাব বাতিল চেয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে ইঞ্জিনিয়ার শ্যামলের লিখিত আবেদন।

মনপুরায় নীরব মৃত্যু ফাঁদ: এক বছরে পানিতে ডুবে ৭ শিশুর মৃত্যু, আহত অন্তত ৪৫

মোঃ শাকিল খান রাজু সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার

নদী–খাল আর পুকুরে ঘেরা দ্বীপ উপজেলা মনপুরায় নীরবে বাড়ছে এক ভয়াবহ ট্র্যাজেডি। গত এক বছরে এ উপজেলায় পানিতে ডুবে আহত হয়েছে অন্তত ৪৫ জন। আর সবচেয়ে হৃদয়বিদারক বাস্তবতা—উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনার আগেই প্রাণ হারিয়েছে ৭টি নিষ্পাপ শিশু। যাদের সবার বয়স মাত্র ৪ থেকে ৫ বছরের মধ্যে।

এক মুহূর্তের অসাবধানতা, আর তাতেই শেষ হয়ে গেছে মায়ের কোলে ফিরে যাওয়ার গল্প। খেলতে খেলতে কখন যে বাড়ির পাশের পুকুর, খাল কিংবা নদীর পানিতে পড়ে গেছে—তা টেরই পাননি অভিভাবকরা। যখন বুঝেছেন, তখন অনেক ক্ষেত্রেই সব শেষ।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্র জানায়, পানিতে ডুবে অসুস্থ শিশুদের অনেককেই উদ্ধার করে আনার আগেই তাদের নিঃশ্বাস থেমে যায়। যেসব শিশুকে জীবিত অবস্থায় আনা হয়েছে, তাদের অনেকেই মৃত্যুর মুখ থেকে অল্পের জন্য ফিরে এসেছে। চিকিৎসকদের মতে, সময়মতো উদ্ধার এবং সঠিক প্রাথমিক চিকিৎসা নিশ্চিত করা গেলে বেশ কিছু প্রাণ বাঁচানো সম্ভব হতো।

স্থানীয়রা জানান, মনপুরার অধিকাংশ বাড়ির আশপাশেই খোলা পানির উৎস—পুকুর, খাল বা নদী—রয়েছে। কিন্তু শিশুদের নিরাপত্তায় নেই প্রয়োজনীয় অবকাঠামো বা সুরক্ষা ব্যবস্থা। নেই পর্যাপ্ত সচেতনতা, নেই কার্যকর নজরদারি। ফলে প্রতিনিয়ত ঝুঁকির মুখে পড়ছে কোমলমতি শিশুরা।

এ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সচেতন নাগরিকরা। তাদের ভাষ্য, এখনই কার্যকর উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে আরও অনেক মায়ের কোল শূন্য হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশুদের একা বাইরে না ছাড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা, বাড়ির আশপাশের পুকুর ও খাল ঘিরে রাখা, পানির উৎসে নিরাপত্তা বেষ্টনী স্থাপন এবং গ্রামভিত্তিক সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করা জরুরি। পাশাপাশি অভিভাবকদের প্রাথমিক চিকিৎসা ও ডুবন্ত ব্যক্তিকে উদ্ধার পদ্ধতি বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়ার ওপরও জোর দিয়েছেন তারা।

প্রশ্ন থেকেই যায়—আর কত শিশু প্রাণ হারালে আমরা সত্যিকার অর্থে সচেতন হব?


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.


ফেসবুকে আমরা