মোঃ জিয়াউদ্দিন, জেলা বিশেষ প্রতিনিধি (ভোলা):
নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আলাউদ্দিনকে ঘিরে উঠেছে একাধিক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন নারীর সঙ্গে অন্তরঙ্গ সম্পর্ক গড়ে তুলে গোপনে ভিডিও ধারণ এবং পরে সেগুলো ব্যবহার করে ব্ল্যাকমেইল করার অভিযোগ উঠেছে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, অভিযুক্ত এই সরকারি কর্মকর্তা পরিচয় ও যোগাযোগের সূত্র ধরে বিভিন্ন নারীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা তৈরি করতেন। পরবর্তীতে সেই ব্যক্তিগত মুহূর্তগুলো নিজের মোবাইল ফোনে ভিডিও আকারে ধারণ করে সংরক্ষণ করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি প্রাপ্ত একাধিক ভিডিওচিত্র ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য ঘিরে এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। ভিডিওগুলো পর্যালোচনায় ধারণা করা হচ্ছে, ঘটনাগুলো ভিন্ন ভিন্ন সময় ও স্থানে ধারণ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের দাবি, ভিডিওগুলো শুধুমাত্র ব্যক্তিগত সংরক্ষণের জন্য ধারণ করা হয়নি; বরং পরবর্তীতে সেগুলোকে চাপ প্রয়োগের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, আপত্তিকর ভিডিও প্রকাশের ভয় দেখিয়ে সংশ্লিষ্ট নারীদের ওপর মানসিক চাপ সৃষ্টি করা হতো এবং তাদেরকে বারবার তার সঙ্গে সময় কাটাতে বাধ্য করা হতো। অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, অন্তত ১২ জন ভিন্ন নারীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এমন ভিডিওচিত্র সামনে এসেছে। এতে ধারণা করা হচ্ছে, ঘটনাগুলো দীর্ঘদিন ধরে পরিকল্পিতভাবে সংঘটিত হয়ে থাকতে পারে। স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর পুরো হাতিয়া উপজেলাজুড়ে তীব্র আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। একজন প্রথম শ্রেণির সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এমন গুরুতর অভিযোগ ওঠায় প্রশাসনের ভাবমূর্তি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সচেতন নাগরিকদের মতে, রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা একজন বিসিএস কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ শুধু ব্যক্তিগত নৈতিকতার প্রশ্ন নয়; বরং এটি প্রশাসনিক কাঠামোর বিশ্বাসযোগ্যতার সঙ্গেও জড়িত। তাই অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত হওয়া জরুরি। এদিকে অভিযুক্ত কর্মকর্তা মো. আলাউদ্দিনের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে প্রশাসনের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, বিষয়টি উচ্চপর্যায়ে অবগত করা হলে তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। এ ঘটনায় স্থানীয় জনগণের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ বাড়ছে। অনেকেই মনে করছেন, সরকারি দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের নৈতিকতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত না হলে সাধারণ মানুষের প্রশাসনের প্রতি আস্থা ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সব মিলিয়ে হাতিয়ার এই ঘটনাটি এখন শুধু একটি ব্যক্তিগত অভিযোগের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; বরং এটি প্রশাসনিক জবাবদিহিতা, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং নৈতিকতার প্রশ্নকে সামনে এনে দিয়েছে। অভিযোগের সত্যতা উদঘাটনে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি এখন স্থানীয় জনগণের মুখে মুখে।