সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ০২:১১ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ
ঐতিহ্য হারাচ্ছে গলাচিপা: এবার হচ্ছে না কাঙ্ক্ষিত বৈশাখী মেলা রাঙামাটিতে ১১ দলীয় ঐক্য জোটের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নের দাবিতে সাতক্ষীরাতে বিক্ষোভ সমাবেশে গোমস্তাপুরে জ্ঞানচক্র একাডেমি সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় সংবর্ধনা ও পুরস্কার বিতরণ করা হয়। গাজীপুরে স্ত্রীর লাশ ঘরে রেখে তালাবন্ধ করে পালিয়েছেন স্বামী শিক্ষার্থীদের মাঝে সচেতনতা ছড়াল কক্সবাজার জেলা পুলিশ কুষ্টিয়ায় মাজার ভাঙচুরের পর অগ্নিসংযোগ পীর নিহত চুয়াডাঙ্গা জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত: সীমান্ত নিরাপত্তা ও মাদক নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত উদ্যোগের ওপর জোর ঝিনাইদহে নবনিযুক্ত জেলা প্রশাসকের সভাপতিত্বে জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত,

রেকর্ড জটিলতায় শতভাগ জমি নিয়ে বিরোধ,বিদ্যালয়ের নামে জমি দখল

কাজল ইব্রাহিম স্টাফ রিপোর্টার:

শ্যামগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের নামে জমি দখল ও অতিরিক্ত বিক্রির অভিযোগ , জামালপুরের ঐতিহাসিক ব্রিটিশ কাচারির আওতাধীন মোহনগঞ্জ মহাকুমার উমানাথ চক্রবর্তী কাচারির একটি জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের জটিল বিরোধ নতুন করে আলোচনায় এসেছে। একাধিক রেকর্ড, দলিল ও মালিকানার অসামঞ্জস্য ঘিরে বিষয়টি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন থাকলেও, উঠেছে রেকর্ড জালিয়াতি, অতিরিক্ত জমি বিক্রি এবং বিদ্যালয়ের নামে জবরদখলের অভিযোগ। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সিএস (Cadastral Survey) রেকর্ড অনুযায়ী খতিয়ান নং ১৫০ এবং দাগ নং ৪০০, ৩৭০, ৩৭১ ও ৩৭২-এর আওতাধীন জমির প্রকৃত মালিক ছিলেন ঘাঠু শেখ ও হাটু শেখ গং। বিভিন্ন দাগে প্রায় ৬০ শতাংশ জমি তাদের দখলে ছিল। পরবর্তীতে তারা ৯২২৭ নং সাব-রেজিস্ট্রেশন দলিলের মাধ্যমে মো. কান্দু শেখের কাছে জমি বিক্রি করেন। কান্দু শেখের মৃত্যুর পর তার একমাত্র পুত্র জালাল উদ্দিন মন্ডল এবং চার কন্যা—রহিতন, সহিতন, আফিরন ও তাফিরন—উক্ত সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হন। পরে পৈত্রিক সূত্রে প্রাপ্ত জমির অংশ জালাল উদ্দিনের পুত্র ও ভাতিজা ইদ্রিস আলী মন্ডলের নিকট হস্তান্তর করা হয়। জালাল উদ্দিন মন্ডল জীবদ্দশায় প্রায় ৬০ শতাংশ জমি দীর্ঘদিন ভোগদখলে রাখেন এবং মৃত্যুর পর তার পরিবার সেই দখল বজায় রাখেন। তবে ২০১৮ সালে খারিজ (নামজারি) করতে গেলে স্থানীয় ভূমি অফিস জানায়, কান্দু শেখ ও জালাল উদ্দিনের নামে আরএস (RS) ও বিএস (BS) রেকর্ড না থাকায় খারিজ সম্ভব নয়। এতে মালিকানার ধারাবাহিকতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন দেখা দেয়। পরবর্তীতে অনুসন্ধানে দেখা যায়, আরএস রেকর্ডে খতিয়ান নং ৮৫৬ ও ৮৬১ অনুযায়ী দাগ নং ৫৯৬, ৫৯৭, ৫৯৮ ও ৫৯৯ জমি শ্যাম লাল মাল্লা ও সুরেশ চন্দ্র পালের নামে রেকর্ডভুক্ত হয়েছে, যা পূর্ববর্তী মালিকানার সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ। এখানেই শেষ নয়—শ্যাম লাল মাল্লা ৪৭ শতাংশ জমির মালিক হিসেবে রেকর্ড পান এবং ১৯৬৪ সালে ২৮৯৬ নং দলিলের মাধ্যমে ৩৩ শতাংশ জমি শ্যামগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের কাছে বিক্রি করেন। কিন্তু পরবর্তীতে তার পুত্র ইন্দ্র লাল মাল্লা ১৯৭৯ সালে ২০৩৫৫ নং দলিলের মাধ্যমে একই দাগে ১ একর ১.৪৬ শতাংশ জমি বিদ্যালয়ের কাছে সাব-কবলা দেন, যেখানে তার পিতার অবশিষ্ট জমি ছিল মাত্র ১৪ শতাংশ। এতে প্রায় ১৩২ শতাংশ অতিরিক্ত জমি বিক্রির অভিযোগ উঠেছে, যা সরাসরি আইনগত অসঙ্গতি ও সম্ভাব্য জালিয়াতির ইঙ্গিত দেয়। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় সচেতন মহলে ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে, সুরেশ চন্দ্র পালের নামে রেকর্ডকৃত ১১ শতাংশ জমি ওয়ারিশবিহীন হওয়ায় সরকারি খাস জমিতে পরিণত হয় এবং পরে তা স্থানীয় কানু শেখের কাছে লিজ দেওয়া হয়। তবে অবশিষ্ট ২ শতাংশ জমির কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি, যা প্রশাসনিক দুর্বলতার ইঙ্গিত বহন করে। পরবর্তীতে বিএস জরিপে দেখা যায়, শ্যামগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের নামে খতিয়ান নং ৫, দাগ নং ৪০৮-এ ৪৩ শতাংশ জমি রেকর্ড করা হয়েছে। একই সঙ্গে ১২ শতাংশ জমি আব্দুর রহমান এবং ৫ শতাংশ জমি কানু শেখের ওয়ারিশদের নামে রেকর্ডভুক্ত হয়। এদিকে সিএস খতিয়ান অনুযায়ী দাগ নং ৪০০-এর ৮১ শতাংশ জমির প্রকৃত মালিক হাটু শেখ ও তার উত্তরাধিকারীরা—মোহর মন্ডল, যহর মন্ডল ও কান্দু মন্ডল। অভিযোগ রয়েছে, এই জমির ওপর বর্তমানে শ্যামগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের ভবন নির্মিত হয়েছে, যদিও এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের কোনো বৈধ দলিল নেই। এছাড়া দাগ নং ৩৭০, ৩৭১ ও ৩৭২-এর প্রায় ৬০ শতাংশ খালি জমি, যা মামলা নং ১৬৪/২০১৮ (পরবর্তীতে ৭২৬/২০২১) হিসেবে আদালতে বিচারাধীন, সেখানে সম্প্রতি কিছু ব্যক্তি বিদ্যালয়ের নাম ব্যবহার করে জোরপূর্বক দখল ও প্রাচীর নির্মাণের চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ইদ্রিস আলী মন্ডল গং অভিযোগ করেন, জমি রক্ষায় বাধা দিলে তাকে ভয়ভীতি দেখানো হয় এবং প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়েছে। তিনি একে আইনের শাসনের চরম লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করেন। বাংলাদেশের প্রচলিত ভূমি আইন অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান তার মালিকানার অতিরিক্ত জমি বিক্রি করতে পারে না এবং বৈধ অধিগ্রহণ ছাড়া অন্যের জমি দখল করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এই প্রেক্ষাপটে ভুক্তভোগীরা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও বিচার বিভাগের কাছে সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছেন। তারা জানান, প্রয়োজন হলে প্রায় ৮০ পৃষ্ঠার দলিলপত্র উপস্থাপন করা সম্ভব। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, দীর্ঘদিনের এই জটিল বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য জরুরি ভিত্তিতে রেকর্ড যাচাই, দাগ সমন্বয় এবং আদালতের চূড়ান্ত রায় নিশ্চিত করা অত্যন্ত প্রয়োজন। অন্যথায় ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের বিরোধ ও সামাজিক অস্থিরতার আশঙ্কা রয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমরা