খন্দকার জলিল, জেলা প্রধান, পটুয়াখালী:
সব বাধা ও মিথ্যা তদন্ত প্রতিবেদন উপেক্ষা করে অবশেষে নিজের পৈতৃক ভিটায় ঘর তুলতে পেরেছেন ভুক্তভোগী শাহিনুর বেগম। পুলিশের ইতিবাচক হস্তক্ষেপের পর বিরোধীয় জমিতে নতুন ঘর তুলে সপরিবারে বসবাস শুরু করেছেন তিনি।
পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার ছোট বাইশদিয়া ইউনিয়নের নয়া ভাংগুনি গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নয়া ভাংগুনি গ্রামের মৃত সোনা খানের কন্যা শাহিনুর বেগম ও তার স্বামী নাসির শিকদার জীবিকার তাগিদে কিছুদিন ঢাকায় থাকায় তাদের বসতঘরটি জরাজীর্ণ হয়ে পড়ে। তিন মাস আগে তারা গ্রামে ফিরে ঘর সংস্কার করতে গেলে প্রতিবেশী বেল্লাল হোসেনের স্ত্রী সালেহা বেগম বাধা দেন এবং গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন।
আদালতের নির্দেশে রাঙ্গাবালী উপজেলা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার মো. আনছার উদ্দিন ঘটনাস্থল তদন্ত করে মোটা অঙ্কের ঘুষের বিনিময়ে আদালতে বাস্তবতাবিরোধী ও ‘মনগড়া’ প্রতিবেদন দাখিল করেন বলে ভুক্তভোগী পরিবারটি অভিযোগ তোলে। সার্ভেয়ারের রিপোর্টে জমিটি সালেহা বেগমের ভোগদখলে রয়েছে বলে উল্লেখ করা হলেও, স্থানীয় বাসিন্দা এবং স্বয়ং বাদী সাংবাদিকদের কাছে স্বীকার করেছিলেন যে এই ভিটেমাটি শাহিনুরের বাবার। সার্ভেয়ারের বৈরি প্রতিবেদন এবং বিএস রেকর্ডের ভুলের অজুহাতে জমি দখলের চেষ্টা চালানো হলেও শেষ পর্যন্ত সত্যের জয় হয়েছে।
বিবাদী সালেহা বেগম পরবর্তীতে রাঙ্গাবালী থানায় আবার একটি অভিযোগ দায়ের করলে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যায়। জমির প্রকৃত মালিকানা, দীর্ঘদিনের দখল এবং স্থানীয়দের সাক্ষ্য বিবেচনা করে পুলিশ শাহিনুর বেগমকে তার পৈতৃক ও ক্রয়কৃত জমিতে ঘর তোলার পরামর্শ দেয়।
ন্যায়সঙ্গত এই পরামর্শ পেয়ে শাহিনুর বেগম তার পৈতৃক ভিটায় ঘর নির্মাণ সম্পন্ন করেন এবং বর্তমানে সেখানে স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন। সরকারি কর্মকর্তার অনৈতিক প্রতিবেদন ও প্রতিবেশীর মামলার কারণে দীর্ঘ দিন চরম ভোগান্তিতে কাটলেও, শেষ পর্যন্ত নিজের বাবার ভিটায় মাথা গোঁজার ঠাঁই মেলায় স্বস্তি প্রকাশ করেছে শাহিনুরের পরিবার।