শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬, ০৪:৩০ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ
চুয়াডাঙ্গায় তরুণীর রহস্যজনক মৃত্যু: নতুন বাসা থেকে উদ্ধার, পাশে অস্থির দুই পোষা বিড়াল দুর্নীতির বিরুদ্ধে তারুণ্যের জাগরণ, আটঘরিয়ায় বিতর্ক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত * উখিয়া কক্সবাজার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড় কেটে রাস্তা নির্মাণ ও স্থায়ী বসতি, স্থানীয়দের উদ্যোগ, ভবিষ্যৎ নিয়ে শষ্কা * মান্দায় গভীর রাতে তেল চুরির সিন্ডিকেটে ৬২০০ লিটার ডিজেলসহ লরি জব্দ ও আটক ২ প্রবাসীদের কষ্ট লাঘবে অনলাইন গণশুনানি একটি মাইলফলক: ডিসি জাহিদ গলাচিপায় বর্ণাঢ্য আয়োজনে জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস উদযাপিত পরিবেশ ধ্বংসের মহোৎসব: তারাগঞ্জে সেই অবৈধ ‘ফুয়েল টেক’ বন্ধ ও জরিমানা চুয়াডাঙ্গা মুমতাহেনা অহনা নামের এক তরুণীর মরদেহ উদ্ধার সাতক্ষীরায় অপরিপক্ক ৯ হাজার কেজি আম জব্দের পর ধ্বংস গলাচিপার তিন ইউনিয়নে স্বপদে ফিরলেন নির্বাচিত চেয়ারম্যানরা

মনপুরায় নীরব মৃত্যু ফাঁদ: এক বছরে পানিতে ডুবে ৭ শিশুর মৃত্যু, আহত অন্তত ৪৫

মোঃ শাকিল খান রাজু সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার

নদী–খাল আর পুকুরে ঘেরা দ্বীপ উপজেলা মনপুরায় নীরবে বাড়ছে এক ভয়াবহ ট্র্যাজেডি। গত এক বছরে এ উপজেলায় পানিতে ডুবে আহত হয়েছে অন্তত ৪৫ জন। আর সবচেয়ে হৃদয়বিদারক বাস্তবতা—উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনার আগেই প্রাণ হারিয়েছে ৭টি নিষ্পাপ শিশু। যাদের সবার বয়স মাত্র ৪ থেকে ৫ বছরের মধ্যে।

এক মুহূর্তের অসাবধানতা, আর তাতেই শেষ হয়ে গেছে মায়ের কোলে ফিরে যাওয়ার গল্প। খেলতে খেলতে কখন যে বাড়ির পাশের পুকুর, খাল কিংবা নদীর পানিতে পড়ে গেছে—তা টেরই পাননি অভিভাবকরা। যখন বুঝেছেন, তখন অনেক ক্ষেত্রেই সব শেষ।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্র জানায়, পানিতে ডুবে অসুস্থ শিশুদের অনেককেই উদ্ধার করে আনার আগেই তাদের নিঃশ্বাস থেমে যায়। যেসব শিশুকে জীবিত অবস্থায় আনা হয়েছে, তাদের অনেকেই মৃত্যুর মুখ থেকে অল্পের জন্য ফিরে এসেছে। চিকিৎসকদের মতে, সময়মতো উদ্ধার এবং সঠিক প্রাথমিক চিকিৎসা নিশ্চিত করা গেলে বেশ কিছু প্রাণ বাঁচানো সম্ভব হতো।

স্থানীয়রা জানান, মনপুরার অধিকাংশ বাড়ির আশপাশেই খোলা পানির উৎস—পুকুর, খাল বা নদী—রয়েছে। কিন্তু শিশুদের নিরাপত্তায় নেই প্রয়োজনীয় অবকাঠামো বা সুরক্ষা ব্যবস্থা। নেই পর্যাপ্ত সচেতনতা, নেই কার্যকর নজরদারি। ফলে প্রতিনিয়ত ঝুঁকির মুখে পড়ছে কোমলমতি শিশুরা।

এ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সচেতন নাগরিকরা। তাদের ভাষ্য, এখনই কার্যকর উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে আরও অনেক মায়ের কোল শূন্য হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশুদের একা বাইরে না ছাড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা, বাড়ির আশপাশের পুকুর ও খাল ঘিরে রাখা, পানির উৎসে নিরাপত্তা বেষ্টনী স্থাপন এবং গ্রামভিত্তিক সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করা জরুরি। পাশাপাশি অভিভাবকদের প্রাথমিক চিকিৎসা ও ডুবন্ত ব্যক্তিকে উদ্ধার পদ্ধতি বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়ার ওপরও জোর দিয়েছেন তারা।

প্রশ্ন থেকেই যায়—আর কত শিশু প্রাণ হারালে আমরা সত্যিকার অর্থে সচেতন হব?


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.


ফেসবুকে আমরা