বিশেষ প্রতিনিধি : বিশ্ব গণমাধ্যম দিবস উপলক্ষে দেশের সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা, ন্যায্য অধিকার ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে ১৩ দফা দাবি উত্থাপন করেছে ঢাকা প্রেসক্লাব। সংগঠনটির সভাপতি আওরঙ্গজেব কামাল এক বিবৃতিতে এসব দাবি তুলে ধরে দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান।
বিবৃতিতে বলা হয়, সাংবাদিকদের ওপর হামলা, হুমকি ও হয়রানি দিন দিন উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় কঠোর আইন প্রয়োগ এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি সকল গণমাধ্যমকর্মীর জন্য নির্ধারিত বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন, বকেয়া পরিশোধ এবং উৎসব ও চিকিৎসা ভাতা চালুর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। সাংবাদিক কল্যাণ তহবিলকে আরও কার্যকর করতে ফেডারেশন অব বাংলাদেশ জার্নালিস্ট অর্গানাইজেশন (এফবিওজ)-এর অন্তর্ভুক্তির দাবি জানানো হয়। একইসঙ্গে প্রতিটি সাংবাদিককে সরকারিভাবে স্বীকৃত পরিচয়পত্র (সাংবাদিক কার্ড) প্রদান এবং পেশাগত ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়মিত ভাতা চালুর আহ্বান জানানো হয়।
বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সাংবাদিকদের জন্য বিশেষ সহায়তা ডেস্ক বা অগ্রাধিকার সেবা চালু করতে হবে। পাশাপাশি চাকরির স্থায়িত্ব নিশ্চিত, চুক্তিভিত্তিক শোষণ বন্ধ এবং স্বচ্ছ নিয়োগ নীতিমালা প্রণয়নের দাবি জানানো হয়। ঢাকা প্রেসক্লাব পেশাগত স্বাধীনতা ও মত প্রকাশের অধিকার রক্ষায় অযাচিত হস্তক্ষেপ বন্ধ, তথ্য অধিকার আইন বাস্তবায়নের মাধ্যমে তথ্যপ্রাপ্তি সহজ করা এবং সাংবাদিকতার স্বাধীনতায় বাধা সৃষ্টি করে এমন আইনসমূহ পর্যালোচনা ও সংস্কারের আহ্বান জানায়।
এছাড়াও আধুনিক সাংবাদিকতার সাথে তাল মিলিয়ে নিয়মিত প্রশিক্ষণ, ওয়ার্কশপ ও আন্তর্জাতিক সুযোগ সৃষ্টি এবং সাংবাদিকদের জন্য স্বাস্থ্য ও দুর্ঘটনা বীমাসহ পরিবারিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়। ঢাকা প্রেসক্লাবের সভাপতি আওরঙ্গজেব কামাল বলেন, “গণমাধ্যম একটি রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ। সাংবাদিকদের নিরাপত্তা, অধিকার ও স্বাধীনতা নিশ্চিত না হলে গণতন্ত্রের ভিত দুর্বল হয়ে পড়বে। তাই দ্রুত এসব দাবি বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি। দাবিগুলোর
মধ্যে রয়েছে,১. পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ
সাংবাদিকদের উপর হামলা, হুমকি ও হয়রানি বন্ধে কঠোর আইন প্রয়োগ এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
২. ন্যায্য বেতন ও সুযোগ-সুবিধা সকল গণমাধ্যমকর্মীর জন্য নির্ধারিত বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন, বকেয়া বেতন পরিশোধ এবং উৎসব ভাতা ও চিকিৎসা ভাতা নিশ্চিত করতে হবে।
৩. সাংবাদিক কল্যাণ তহবিলে এফবিওজের নাম অন্তর্ভুক্তি
সাংবাদিক কল্যাণ তহবিলকে আরও কার্যকর ও প্রতিনিধিত্বশীল করতে এফবিওজ (FBOJ)-এর নাম অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
৪. সরকার কর্তৃক সাংবাদিক কার্ড প্রদান
প্রতিটি সাংবাদিককে সরকারিভাবে স্বীকৃত পরিচয়পত্র (সাংবাদিক কার্ড) প্রদান করতে হবে, যাতে মাঠ পর্যায়ে কাজ সহজ ও নিরাপদ হয়।
৫. সরকারিভাবে ভাতা প্রদান
সাংবাদিকদের পেশাগত ঝুঁকি ও সামাজিক নিরাপত্তা বিবেচনায় সরকারিভাবে নিয়মিত ভাতা চালু করতে হবে।
৬. হাসপাতাল ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বিশেষ সুবিধা
প্রতিটি সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালসহ গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে সাংবাদিকদের জন্য আলাদা সহায়তা ডেস্ক বা অগ্রাধিকার সেবা চালু করতে হবে।
৭. কর্মসংস্থানের স্থায়িত্ব ও নিয়োগ নীতিমালা
চাকরির নিশ্চয়তা, চুক্তিভিত্তিক শোষণ বন্ধ এবং স্বচ্ছ নিয়োগ নীতিমালা প্রণয়ন করতে হবে।
৮. পেশাগত স্বাধীনতা ও মত প্রকাশের অধিকার
সাংবাদিকদের নিরপেক্ষভাবে সংবাদ পরিবেশনের অধিকার রক্ষা এবং অযাচিত হস্তক্ষেপ বন্ধ করতে হবে।
৯. তথ্যপ্রাপ্তির অধিকার নিশ্চিতকরণ
তথ্য অধিকার আইন বাস্তবায়নের মাধ্যমে সাংবাদিকদের তথ্যপ্রাপ্তি সহজ করতে হবে।
১০. আইন সংস্কার ও সুরক্ষা
সাংবাদিকতার স্বাধীনতায় বাধা সৃষ্টি করে এমন আইনসমূহ পর্যালোচনা ও প্রয়োজনীয় সংস্কার করতে হবে।
১১. প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়ন
আধুনিক সাংবাদিকতার সাথে তাল মিলিয়ে নিয়মিত প্রশিক্ষণ, ওয়ার্কশপ ও আন্তর্জাতিক সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে।
১২. স্বাস্থ্যসেবা ও বীমা সুবিধা
সাংবাদিকদের জন্য স্বাস্থ্য বীমা, দুর্ঘটনা বীমা ও পরিবারিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।
১৩. সরকারের উন্নয়নমূলক কাজে বিভিন্ন প্রকল্পগুলোতে সাংবাদিকদের অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
বিবৃতিদাতারা বলেন, সব সময় নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পরে সাংবাদিকদের নতুন নানাবিধ আশা জাগায়। কিন্তু কিছুদিন পরে সেগুলো আবার ভুলে যায়। স্বাধীনতার পরবর্তীতে প্রতিটি সরকার সাংবাদিকদের স্বাধীন সাংবাদিকতা করার তেমন সুযোগ দেয়নি। ফলে বিশ্ব গণমাধ্যম দিবস উপলক্ষে সরকারের কাছে জোর দাবি সাংবাদিকদের উল্লেখিত দাবি গুলো বাস্তবায়ন করা হোক। উল্লেখ্য,
বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস (World Press Freedom Day) প্রতি বছর ৩ মে বিশ্বব্যাপী পালিত হয়। ১৯৯৩ সালে জাতিসংঘের সাধারণ সভায় ইউনেস্কোর সুপারিশে এই দিনটি স্বীকৃতি পায়। এটি সাংবাদিকতার স্বাধীনতা, তথ্যের অবাধ প্রবাহ, গণমাধ্যমের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং মতপ্রকাশের অধিকার রক্ষায় সচেতনতা তৈরির দিন।
দিবসটির মূল উদ্দেশ্য ও তাৎপর্য:
স্বাধীনতার মূল্যায়ন: বিশ্বব্যাপী গণমাধ্যমের স্বাধীনতার মূল্যায়ন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ।