শারমিন আরা
ঝিনাইদহ জেলা প্রতিনিধি,
১৩ মার্চ, ২০২৬
ঝিনাইদহ সদর উপজেলার গান্না ইউনিয়নে ইফতার মাহফিল ও নারীদের ধর্মীয় তালিম কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে ইউনিয়নের মাধবপুর গ্রামে এই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মাধবপুর গ্রামের একটি বাড়িতে জামায়াতে ইসলামীর নারী কর্মীরা একটি তালিম ও ইফতার মাহফিলের আয়োজন করেন।
বেলা ১১টার দিকে স্থানীয় বিএনপির কিছু নেতাকর্মী সেখানে গিয়ে কর্মসূচিতে বাধা দেন এবং আয়োজকদের সাথে বাদানুবাদে জড়িয়ে পড়েন।
খবরটি ছড়িয়ে পড়লে জামায়াতের পুরুষ কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছালে পরিস্থিতি সংঘর্ষে রূপ নেয়।
ক্ষয়ক্ষতি ও আহতদের অবস্থা
সংঘর্ষে উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। এবং তরু মিয়া নিহত হয়েছেন,
তরু মিয়া (বিএনপি নেতা): তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়েছিল,
অন্যান্য আহতদের মধ্যে শিপন মুন্সি, হোসেন আলী, শহিদুল ইসলাম এবং জামায়াত কর্মী তবিবার রহমানের পরিচয় পাওয়া গেছে।
তারা ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
সংঘর্ষের পর গান্না ইউনিয়ন বিএনপি কার্যালয় ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে।
এছাড়া বিকেলের দিকে গান্না বাজারে জামায়াত সমর্থকদের কয়েকটি দোকানে হামলার ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
পাল্টাপাল্টি অভিযোগ
জামায়াত নেতার বক্তব্য: সদর উপজেলা জামায়াতের আমির ড. হাবিবুর রহমান অভিযোগ করেন, “আমাদের নারী কর্মীরা শান্তিপূর্ণ ইফতারের আয়োজন করছিল।
সেখানে বিএনপির লোকজন অতর্কিত হামলা চালায়। জেলার বিভিন্ন স্থানে তারা আমাদের কর্মসূচিতে বাধা দিচ্ছে।”
বিএনপি নেতার বক্তব্য: অন্যদিকে স্থানীয় বিএনপি নেতাদের দাবি, জোরপূর্বক পরিবারের নারীদের তালিমে ডেকে নেওয়ার প্রতিবাদ করায় জামায়াতের লোকজন লাঠিসোঁটা নিয়ে তাদের ওপর হামলা করেছে এবং ঘরবাড়ি ভাঙচুর করেছে।
পুলিশের অবস্থান
ঝিনাইদহ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এবং বেতাই পুলিশ ক্যাম্পের তদন্ত কর্মকর্তা জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।
তবে এ ঘটনায় এখনও কোনো লিখিত অভিযোগ বা মামলা দায়ের হয়নি এখন পর্যন্ত।