রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ০৪:১০ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ
ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর ঘিরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিএনপির বিশাল শোভাযাত্রা ও সমাবেশ, নেতাকর্মীদের ঢল, স্লোগানে মুখর রাজপথ। নতুন প্রজন্মের কাছে ৭ নভেম্বরের ইতিহাস তুলে ধরতে হবে: আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ নেত্রকোনার খালিয়াজুরীতে ৩৯ বোতল দেশীয় চোলাই মদসহ তপু রবি দাস (২৪) নামের এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ। গ্রাম পুলিশের ঐতিহাসিক অর্জন: জাতীয় দরবারে গলাচিপার শংকর “চুয়াডাঙ্গা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের মূল গেটের বিপরীতে স্কুলের দেওয়ালে অশালীন ভাষা ও নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের রাজনৈতিক স্লোগান লেখার অভিযোগ উঠেছে। ফরিদগঞ্জ বাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান, ৮ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা ফরিদগঞ্জ নলডাঙ্গায় স্বর্ণ ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে দেড় কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, বিচারের দাবিতে মানববন্ধন নওগাঁয় জমির শ্রেণি পরিবর্তনের অভিযোগ, রাজস্ব হারানোর শঙ্কা ১০ কোটি টাকা নওগাঁ সাতক্ষীরায় ৫ দিনের ব্যবধানে ১ কোটি ৩৯ লাখ টাকার হেরোইন ও মাদক তৈরির কাঁচামাল জব্দ মহেশপুর জামায়াতের জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্টিত ।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ: ২০২৬–২৭ সেশনের কমিটি গঠনে পরামর্শ ও বাস্তবতা

মোঃ নেছার উদ্দিন, স্টাফ রিপোর্টার
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কমিটি সাধারণত প্রতি বছর গঠিত হলেও ২০২৬–২৭ সেশনের নতুন কমিটি এখনো ঘোষণা করা হয়নি। নির্বাচন ও পবিত্র রমজান মাসের ব্যস্ততা মিলিয়ে হয়তো ঈদের পর নতুন কমিটি ঘোষণা করা হবে। অনেকেই ধারণা করছেন, নতুন কমিটির মাধ্যমে দলটি চমক দেখাতে পারে।
এই প্রেক্ষাপটে ব্যক্তিগত কিছু অনুধাবন ও পরামর্শ তুলে ধরতে চাই। একে সরাসরি পরামর্শ না বলে চিন্তার খোরাক হিসেবেও বিবেচনা করা যেতে পারে।
দলের আমীর ও সিনিয়র নায়েবে আমীর প্রায় নিশ্চিতভাবেই নেতৃত্বে থাকবেন। তাঁদের রাজনৈতিক পরামর্শক হিসেবে দলের বর্তমান মহাসচিবকে রাখা যেতে পারে। তিনি অত্যন্ত মেধাবী ও অভিজ্ঞ একজন ব্যক্তি। তাঁর ধৈর্য ও সংযত বক্তব্য প্রজ্ঞাবানের লক্ষণ। তবে কখনও কখনও অতিরিক্ত সংযমী স্বভাবের কারণে মিডিয়া সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। অনেক সময় দেখা যায়, তাঁর এই বিনয়ী স্বভাবের সুযোগ নিয়ে অন্যরা সামনে চলে আসে। তবুও তিনি এ নিয়ে প্রকাশ্যে অভিযোগ করেন না। তাই তাঁকে পীরদ্বয়ের ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক পরামর্শক হিসেবে রাখলে দল ও নেতৃত্ব উভয়ের জন্যই ইতিবাচক হতে পারে।
মহাসচিব পদে আমার ব্যক্তিগতভাবে দু’জনকে উপযুক্ত মনে হয়।
প্রথমত, ড. আ. ফ. ম. খালেদ—তিনি একজন বিজ্ঞ ও পরিমিত স্বভাবের মানুষ। মহাসচিব হিসেবে তিনি দলের সাংগঠনিক কার্যক্রমকে শক্তিশালী করতে সক্ষম বলে মনে করি।
দ্বিতীয়ত, ড. বেলাল নুর আজিজী—আন্তর্জাতিক বিষয়ে তাঁর গভীর জ্ঞান রয়েছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দলের অবস্থান তুলে ধরতে তাঁর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
এ ছাড়া মুফতি রেজাউল করিম আবরার বর্তমানে জাতীয় ওলামা–আইম্মা পরিষদের সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁকে দলের সক্রিয় অ্যাক্টিভিস্ট হিসেবে যুক্ত করা গেলে ন্যারেটিভ বা বুদ্ধিবৃত্তিক আলোচনায় তিনি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারবেন।
মিডিয়া ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে শেখ ফজলুল করীম মারুফ, নুরুল করীম আকরাম, শরিফুল ইসলাম রিয়াদ, হাবিবুর রহমান মেসবাহ, সগির চৌধুরী এবং হাসিব আর রহমান—এই ব্যক্তিরা দক্ষতার সঙ্গে কাজ করতে পারেন বলে মনে হয়।
দলে আরও অনেক যোগ্য ব্যক্তি রয়েছেন, যারা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের সক্ষমতা রাখেন। কিন্তু কখনও কখনও দেখা যায়, ভুল জায়গায় ভুল মানুষকে দায়িত্ব দেওয়ার কারণে সম্ভাবনাগুলো ঠিকভাবে কাজে লাগানো যায় না।
উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, দায়িত্বশীল পদে থাকা মারুফ ভাই বা সগির চৌধুরী যখন রাজনৈতিক বিষয়ে ব্যক্তিগত মতামত বা বিশ্লেষণধর্মী লেখা দেন, তখন অনেক সময় তা বিতর্কের জন্ম দেয়। দায়িত্বশীল পদে থেকে এমন বক্তব্য অনেকের কাছে বেমানান মনে হতে পারে। তবে তাঁরা যদি অ্যাক্টিভিস্ট হিসেবে এসব মতামত প্রকাশ করেন, তাহলে তা রাজনৈতিক আলোচনাকে আরও সমৃদ্ধ করতে পারে এবং অন্য মতের সঙ্গে বুদ্ধিবৃত্তিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।
যেমন হাসিব আর রহমান একজন তুলনামূলক স্বাধীন অ্যাক্টিভিস্ট হিসেবে বিভিন্ন বিষয়ে বক্তব্য দিতে পারেন। এতে পাঠকদের চিন্তার জায়গা তৈরি হয় এবং ভিন্ন রাজনৈতিক দলের লোকজনও আলোচনায় আগ্রহী হয়। বর্তমান সময়ে দলীয় পদ ব্যবহার করে অন্য দলের সমালোচনা করাকে অনেকেই ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করে না।
আশা করি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নীতিনির্ধারকরা এসব অনুধাবন ও ভাবনাকে বিবেচনায় নেবেন এবং ভবিষ্যতের জন্য আরও কার্যকর সাংগঠনিক কাঠামো গড়ে তুলবেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.


ফেসবুকে আমরা