বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:১৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ
মান্দায় গভীর রাতে তেল চুরির সিন্ডিকেটে ৬২০০ লিটার ডিজেলসহ লরি জব্দ ও আটক ২ প্রবাসীদের কষ্ট লাঘবে অনলাইন গণশুনানি একটি মাইলফলক: ডিসি জাহিদ গলাচিপায় বর্ণাঢ্য আয়োজনে জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস উদযাপিত পরিবেশ ধ্বংসের মহোৎসব: তারাগঞ্জে সেই অবৈধ ‘ফুয়েল টেক’ বন্ধ ও জরিমানা চুয়াডাঙ্গা মুমতাহেনা অহনা নামের এক তরুণীর মরদেহ উদ্ধার সাতক্ষীরায় অপরিপক্ক ৯ হাজার কেজি আম জব্দের পর ধ্বংস গলাচিপার তিন ইউনিয়নে স্বপদে ফিরলেন নির্বাচিত চেয়ারম্যানরা কক্সবাজারের ইনানীতে ৫০ কেজি গাঁজাসহ আটক ১ সাতক্ষীরায় জেলা পর্যায়ে প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট বালক ও বালিকা ২০২৬ উদ্বোধন শহীদ জিয়া স্মৃতি সংসদের কেন্দ্রীয় কমিটির (আংশিক) ঘোষণা ও পরিচিতি সভা অনুষ্ঠিত

গ্রামবাংলার প্রাণের সংস্কৃতি যাত্রা পালা—আজ বিলুপ্তির পথে

খন্দকার জলিল পটুয়াখালী

গ্রামবাংলার প্রাণের সংস্কৃতি যাত্রা পালা—আজ বিলুপ্তির পথে লোকজ ঐতিহ্যের ধারক এই শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন পরিকল্পিত উদ্যোগ, সরকারি সহায়তা ও সাংস্কৃতিক পুনর্জাগরণ , জেলা প্রধান,  বাংলার হাজার বছরের লোকজ ঐতিহ্যের অন্যতম উজ্জ্বল অধ্যায় যাত্রা পালা। গ্রামীণ জনপদের মানুষের আনন্দ, আবেগ, ইতিহাস ও সামাজিক বাস্তবতার এক জীবন্ত প্রতিফলন এই যাত্রা। এক সময় গ্রামবাংলার প্রতিটি উৎসব, মেলা ও আনন্দঘন আয়োজনে যাত্রা পালা ছিল প্রধান আকর্ষণ। রাতভর চলা অভিনয়, সংগীত ও সংলাপে মুখর থাকত পুরো এলাকা—যা মানুষের মধ্যে সৃষ্টি করত আনন্দ ও সম্প্রীতির এক অনন্য বন্ধন। যাত্রা পালা শুধু বিনোদন নয়; এটি আমাদের সংস্কৃতি, ইতিহাস ও ঐতিহ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ বাহক। এই শিল্পের মাধ্যমে প্রজন্মের পর প্রজন্ম মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে নৈতিকতা, সামাজিক মূল্যবোধ ও দেশীয় সংস্কৃতির চেতনা। তাই যাত্রা পালাকে সংরক্ষণ ও উন্নয়ন করা মানে আমাদের নিজস্ব শিকড়কে শক্তিশালী করা। সংস্কৃতি সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, যথাযথ পরিকল্পনা ও পৃষ্ঠপোষকতা পেলে যাত্রা পালা আবারও তার আগের জনপ্রিয়তা ফিরে পেতে পারে। বিশেষ করে সরকারের সক্রিয় উদ্যোগ এই ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। নিয়মিত সাংস্কৃতিক উৎসব আয়োজন, যাত্রা শিল্পীদের জন্য আর্থিক সহায়তা, প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালু এবং জেলা-উপজেলা পর্যায়ে যাত্রা মঞ্চ স্থাপন করা হলে এই শিল্প নতুন করে বিকশিত হওয়ার সুযোগ পাবে। এছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে লোকজ সংস্কৃতি অন্তর্ভুক্ত করা এবং তরুণ প্রজন্মকে যাত্রা পালার সঙ্গে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া গেলে এটি একটি শক্তিশালী সাংস্কৃতিক আন্দোলনে রূপ নিতে পারে। এতে যুবসমাজ সুস্থ বিনোদনের সুযোগ পাবে এবং সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তনও আসবে। বর্তমানে গ্রামাঞ্চলে সুস্থ ও সংস্কৃতিমূলক বিনোদনের অভাব ক্রমেই প্রকট হয়ে উঠছে। এক সময় যাত্রা পালা, কবিগানসহ বিভিন্ন লোকজ আয়োজন তরুণ সমাজকে ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত রাখত। কিন্তু এসব আয়োজন কমে যাওয়ায় অনেক যুবক অবসর সময় সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারছে না। সংশ্লিষ্টদের মতে, এই শূন্যতার সুযোগে কিছু তরুণ ভুল পথে জড়িয়ে পড়ছে এবং মাদকাসক্তির ঝুঁকিও বাড়ছে। তাই যাত্রা পালার মতো সাংস্কৃতিক কার্যক্রম পুনরুজ্জীবিত করা গেলে তা যুবসমাজকে সুস্থ বিনোদনের পথে ফিরিয়ে আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সংশ্লিষ্টদের মতে, বর্তমানে দেশীয় সংস্কৃতিকে এগিয়ে নিতে সরকার যেসব পদক্ষেপ গ্রহণ করছে, তার সঙ্গে যাত্রা পালাকে অন্তর্ভুক্ত করা হলে এটি আরও সমৃদ্ধ হবে। প্রয়োজন শুধু সঠিক দিকনির্দেশনা ও আন্তরিক উদ্যোগ। স্থানীয় সচেতন মহল মনে করেন, যাত্রা পালা আমাদের গৌরবময় ঐতিহ্যের অংশ। তাই এটিকে টিকিয়ে রাখতে সরকার, সংস্কৃতি সংগঠন ও সমাজের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে এই ঐতিহ্যবাহী শিল্প আবারও গ্রামবাংলার মাঠে-প্রান্তরে প্রাণ ফিরে পাবে—এমনটাই প্রত্যাশা সবার।


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.


ফেসবুকে আমরা