, শারমিন আরা ঝিনাইদহ জেলা প্রতিনিধি,
ঝিনাইদহ জেলার কুশাবাড়িয়া বাজার, আউলিয়া পাড়া, রবি নারিকেল বাড়িয়া এলাকার হাফেজ মোঃ আব্দুল্লাহ সিয়াম ( খোকা মাওলানা) মসজিদে ইমামতি এবং শিক্ষকতার পাশাপাশি সিদ্ধান্ত নেন অবসর সময় টুকু কিভাবে কাজে লাগানো যায়, এবং তার আশপাশের বেকারত্ব দূর করণে কিভাবে নিজেকে দেশের উন্নয়নে এবং নিজের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য কাজে লাগানো যায়, প্রথমে তিনি মাত্র ৫০০০ টাকা নিয়ে শুরু করেন এই মাশরুম চাষ, সাত মাসেই পাঁচ হাজার টাকা থেকে তিনি প্রায় চার লক্ষ টাকা লাভবান হয়েছেন বলে জানান, তার এই সফলতায় এলাকাবাসী এবং তার পরিবার খুবই সন্তুষ্ট প্রকাশ করেছেন, আব্দুল্লাহ মাশরুম সেন্টারে এখন বর্তমানে চার পাঁচ জনের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা তিনি করে দিয়েছেন ,আজ তিনি মাশরুম চাষে সফল উদ্যোক্তা যার খামারে এখন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়েছে অনেকের জন্য। শনিবার (২৮ মার্চ) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, আব্দুল্লাহ সিয়াম এর মাশরুম খামারে এক উৎসবমুখর পরিবেশ। খামারের ভেতরে কর্মব্যস্ত শ্রমিকদের আনাগোনা। দৈনিক জাতীয় মাতৃজগত পত্রিকার এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, বেকারত্ব দূরীকরণের জন্য এবং নিজের আর্থিক অবস্থার উন্নতির জন্য সবসময় ভাবতাম কি করা যায়,কীভাবে পরিবারকে আরো ভালো রাখা যায়। একদিন সিদ্ধান্ত নিই মাশরুমের চাষ করবো, এবং ইমামতির এক মাসের বেতন ৫ হাজার টাকা দিয়েই শুরু করি পথচলা। আব্দুল্লাহ সিয়াম জানান, ঝিনাইদহ সদর উপজেলা কৃষি অফিসের সহায়তায় তিনি ১১ দিনের প্রশিক্ষণ নেন। প্রশিক্ষণ শেষে অর্জিত জ্ঞান কাজে লাগিয়ে শুরু করেন বাণিজ্যিকভাবে মাশরুম চাষ। ধীরে ধীরে পরিশ্রম ও সঠিক ব্যবস্থাপনায় সফলতা আসে তার জীবনে। বর্তমানে তার খামারে প্রতিদিন ৪থেকে ৫ জন দৈনিক মজুর কাজ করছেন। তিনি নিয়মিত তাদের বেতন পরিশোধ করছেন। আল্লাহর রহমতে এখন আর অভাব নেই। তার উৎপাদিত মাশরুম বিভি-ন্ন জেলায় সরবরাহ করা হচ্ছে ঝিনাইদহ/ ঢাকা, সহ বিভিন্ন জেলায়, পাশাপাশি তিনি মাশরুমের বীজ (স্পন) উৎপাদনও করছেন এবং নতুন উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করছেন। তিনি আরো বলেন যুবকদের বলব, ঘরে বসে সময় নষ্ট করবেন না। ছোট করে হলেও মাশ-রুম চাষ শুরু করুন। বেকারত্ব জীবনকে কঠিন করে তোলে। আমি সফল হয়েছি। আপনারাও পারবেন ইনশাল্লাহ। ঝিনাইদহের কৃষি কর্মকর্তা বলেন আব্দুল্লাহ সিয়াম মাশরুম চাষে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছেন। নতুন উদ্যোক্তারা চাইলে আমাদের অফিস থেকে বিনা খরচে পরামর্শ ও সহযোগিতা নিতে পারেন। মাশরুম চাষ বর্তমানে লাভজনক ও সম্ভাবনাময় খাত।