শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ০৪:২০ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় যুবলীগের বিক্ষোভ, শেখ হাসিনাসহ নেতাদের বিরুদ্ধে রায় প্রত্যাহারের দাবি। সাতক্ষীরা থেকে প্রকাশিত দৈনিক হৃদয় বার্তার পঞ্চম বর্ষে পদার্পণ উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত সাতক্ষীরায় একাধিক মামলার আসামি আসাদুলের জামিন আবেদন নামঞ্জুর ঝিনাইদহ কালীগঞ্জে বিএনপি নেতা ইসরাইল হোসেন জীবনের ইন্তেকাল জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ রিপোর্টার্স সোসাইটির নবনির্বাচিত কমিটির শপথ গ্রহণ চেয়ারম্যান শেখ মো. ফরিদ আহমেদ চিশতী, মহাসচিব কে.এম. মোহাম্মদ হোসেন রিজভী নির্বাচিত ফলোআপ: কেশবপুরে দম্পতি হত্যার রহস্য উদঘাটন : পরকীয়া প্রেমিক-প্রেমিকা গ্রেপ্তার গলাচিপায় ৫০০ গ্রাম গাঁজাসহ জেসমিন নামের এক নারী আটক বিমানের আর্থিক অনিয়ম ও যান্ত্রিক ত্রুটি নিয়ে সংসদীয় কমিটির কঠোর অবস্থান, চীফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনির সভাপতিত্বে বৈঠক ঢাকা, ২ নভেম্বর ২০২৬: বাংলাদেশ রিপোর্টার্স সোসাইটির নবনির্বাচিত কমিটির পরিচিতি সভা ও শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান মরহুম আঃ আজিজ মাহফুজের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিল ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নতুন উপজেলা গঠনের প্রস্তাব বাতিল চেয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে ইঞ্জিনিয়ার শ্যামলের লিখিত আবেদন।

লালমোহনে বিলুপ্তির পথে দৃষ্টিনন্দন ঢোল কলমি গাছ।

মোঃ জিয়াউদ্দিন। জেলা বিশেষ প্রতিনিধি (ভোলা)

নাম তার ঢোল কলমি। স্থানীয় ভাষায় যাকে বলে বেদমা গাছ, অনেকে আবার বেড়াগাছ বা বেড়ালতাও বলে। একসময় ভোলার লালমোহনের তজুমদ্দিনে প্রায় সকল রাস্তার ধারে, বাড়ির আশ-পাশে, মাঠে-ঘাটে, জঙ্গলে, জলাশয়ের ধারে, খাল-বিলের ধারে নদীর পাশে সর্বত্রই একসময় চোখে পড়ত এ গাছিটি। গ্রামে অযত্ন আর অবহেলায় বেড়ে ওঠা আগাছা হিসেবে পরিচিত বেড়ালতা বা ঢোল কলমি। ঢোল কলমি গুল্ম প্রজাতির উদ্ভিদ। এর কান্ড দিয়ে কাগজ তৈরি করা যায়। সবুজ পাতার গাছটি ছয় থেকে দশ ইঞ্চি লম্বা হয়ে থাকে। এই গাছটি এখন লালমোহনে বিলুপ্তির পথে।
অযত্নে অবহেলায় জন্ম নেয়া ঢোলকলমি বা বেদমা গাছের ফুল যেকোন বয়েসি মানুষের নজর কাড়বে। পাঁচটি হালকা বেগুনি পাপড়ির ফুল দেখতে খুব আকর্ষণীয়। সারা বছরই ঢোল কলমির ফুল ফোটে। তবে বর্ষার শেষে শরৎ থেকে শীতে ঢোলকলমি ফুল বেশি দেখা যায়। একটি মঞ্জরিতে চার থেকে আটটি ফুল থাকে।
এ গাছ অল্পদিনের মধ্যেই ঘন ঝাড়ে পরিণত হয়। এ গাছ জমির ক্ষয়রোধ করে ও সুন্দর ফুল দেয়। দেশের গ্রামাঞ্চলে এই গাছ জমির বেড়া হিসেবে ব্যবহার করা হয়। অনেকে আবার জ্বালানি হিসেবেও ব্যবহার করে। নদীর তীরে কিংবা বিশাল ফসলের মাঠে ঢোল কলমি জন্মে পাখির বসার জায়গা করে দেয়। এ গাছে বসে পাখি পোকামাকড় খায়। ফুলের মধু সংগ্রহ করতে কালো ভোমরার আনাগোনা দেখা যায়। গ্রামের ছোট ছোট শিশুরা ঢোলকলমির ফুল দিয়ে খেলা করে।
৯০ দশকের দিকে পোকার ভয়ে এ গাছ ধ্বংস করার একটা হিড়িক পড়ে গিয়েছিল। দেশজুড়ে ভয়ংকর আতঙ্ক ছড়িয়েছিল ঢোলকলমি গাছে থাকা একধরনের ভয়ংকর পোকা। গুজব রটে যায়, এই পোকা এতটাই ভয়ংকর যে, কামড় দিলে মৃত্যু অবধারিত, এমন কি স্পর্শ লাগলেও জীবন বিপন্ন হতে পারে। এরপর আতঙ্কে সকলে দিলে গণহারে ঢোলকলমি গাছ কেটে সাবার করেছিল। এখনো গ্রামাঞ্চলে কিছু ঢোল কলমি দেখা যায়।
লালমোহন উপজেলার রমাগঞ্জে ও ধলীগৌরনগর ইউনিয়নের কয়েকজন বৃদ্ধ করিম (৭৫), নাজিম (৬০), হাসান (৪৫) বলেন, ডোল কলমি গাছ এখন আর আগের মতো দেখা যায় না। এই গাছের সবচেয়ে বড় সুবিধা হল গরু ছাগলে না খাওয়ায় এটা বেড়া হিসেবে ব্যবহার করা যায়। আমাদের এ অঞ্চলের প্রায় মানুষই নতুন বাড়ী করলে এই বন্য গাছটি লাগাতো। কোন রকম যত্ন ছাড়াই এই গাছ বেড়ে উঠত। এই গাছটি এখন বিলুপ্তির পথে।


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.


ফেসবুকে আমরা