শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬, ০৭:৪১ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ
চুয়াডাঙ্গায় তরুণীর রহস্যজনক মৃত্যু: নতুন বাসা থেকে উদ্ধার, পাশে অস্থির দুই পোষা বিড়াল দুর্নীতির বিরুদ্ধে তারুণ্যের জাগরণ, আটঘরিয়ায় বিতর্ক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত * উখিয়া কক্সবাজার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড় কেটে রাস্তা নির্মাণ ও স্থায়ী বসতি, স্থানীয়দের উদ্যোগ, ভবিষ্যৎ নিয়ে শষ্কা * মান্দায় গভীর রাতে তেল চুরির সিন্ডিকেটে ৬২০০ লিটার ডিজেলসহ লরি জব্দ ও আটক ২ প্রবাসীদের কষ্ট লাঘবে অনলাইন গণশুনানি একটি মাইলফলক: ডিসি জাহিদ গলাচিপায় বর্ণাঢ্য আয়োজনে জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস উদযাপিত পরিবেশ ধ্বংসের মহোৎসব: তারাগঞ্জে সেই অবৈধ ‘ফুয়েল টেক’ বন্ধ ও জরিমানা চুয়াডাঙ্গা মুমতাহেনা অহনা নামের এক তরুণীর মরদেহ উদ্ধার সাতক্ষীরায় অপরিপক্ক ৯ হাজার কেজি আম জব্দের পর ধ্বংস গলাচিপার তিন ইউনিয়নে স্বপদে ফিরলেন নির্বাচিত চেয়ারম্যানরা

লালমোহনে বিলুপ্তির পথে দৃষ্টিনন্দন ঢোল কলমি গাছ।

মোঃ জিয়াউদ্দিন। জেলা বিশেষ প্রতিনিধি (ভোলা)

নাম তার ঢোল কলমি। স্থানীয় ভাষায় যাকে বলে বেদমা গাছ, অনেকে আবার বেড়াগাছ বা বেড়ালতাও বলে। একসময় ভোলার লালমোহনের তজুমদ্দিনে প্রায় সকল রাস্তার ধারে, বাড়ির আশ-পাশে, মাঠে-ঘাটে, জঙ্গলে, জলাশয়ের ধারে, খাল-বিলের ধারে নদীর পাশে সর্বত্রই একসময় চোখে পড়ত এ গাছিটি। গ্রামে অযত্ন আর অবহেলায় বেড়ে ওঠা আগাছা হিসেবে পরিচিত বেড়ালতা বা ঢোল কলমি। ঢোল কলমি গুল্ম প্রজাতির উদ্ভিদ। এর কান্ড দিয়ে কাগজ তৈরি করা যায়। সবুজ পাতার গাছটি ছয় থেকে দশ ইঞ্চি লম্বা হয়ে থাকে। এই গাছটি এখন লালমোহনে বিলুপ্তির পথে।
অযত্নে অবহেলায় জন্ম নেয়া ঢোলকলমি বা বেদমা গাছের ফুল যেকোন বয়েসি মানুষের নজর কাড়বে। পাঁচটি হালকা বেগুনি পাপড়ির ফুল দেখতে খুব আকর্ষণীয়। সারা বছরই ঢোল কলমির ফুল ফোটে। তবে বর্ষার শেষে শরৎ থেকে শীতে ঢোলকলমি ফুল বেশি দেখা যায়। একটি মঞ্জরিতে চার থেকে আটটি ফুল থাকে।
এ গাছ অল্পদিনের মধ্যেই ঘন ঝাড়ে পরিণত হয়। এ গাছ জমির ক্ষয়রোধ করে ও সুন্দর ফুল দেয়। দেশের গ্রামাঞ্চলে এই গাছ জমির বেড়া হিসেবে ব্যবহার করা হয়। অনেকে আবার জ্বালানি হিসেবেও ব্যবহার করে। নদীর তীরে কিংবা বিশাল ফসলের মাঠে ঢোল কলমি জন্মে পাখির বসার জায়গা করে দেয়। এ গাছে বসে পাখি পোকামাকড় খায়। ফুলের মধু সংগ্রহ করতে কালো ভোমরার আনাগোনা দেখা যায়। গ্রামের ছোট ছোট শিশুরা ঢোলকলমির ফুল দিয়ে খেলা করে।
৯০ দশকের দিকে পোকার ভয়ে এ গাছ ধ্বংস করার একটা হিড়িক পড়ে গিয়েছিল। দেশজুড়ে ভয়ংকর আতঙ্ক ছড়িয়েছিল ঢোলকলমি গাছে থাকা একধরনের ভয়ংকর পোকা। গুজব রটে যায়, এই পোকা এতটাই ভয়ংকর যে, কামড় দিলে মৃত্যু অবধারিত, এমন কি স্পর্শ লাগলেও জীবন বিপন্ন হতে পারে। এরপর আতঙ্কে সকলে দিলে গণহারে ঢোলকলমি গাছ কেটে সাবার করেছিল। এখনো গ্রামাঞ্চলে কিছু ঢোল কলমি দেখা যায়।
লালমোহন উপজেলার রমাগঞ্জে ও ধলীগৌরনগর ইউনিয়নের কয়েকজন বৃদ্ধ করিম (৭৫), নাজিম (৬০), হাসান (৪৫) বলেন, ডোল কলমি গাছ এখন আর আগের মতো দেখা যায় না। এই গাছের সবচেয়ে বড় সুবিধা হল গরু ছাগলে না খাওয়ায় এটা বেড়া হিসেবে ব্যবহার করা যায়। আমাদের এ অঞ্চলের প্রায় মানুষই নতুন বাড়ী করলে এই বন্য গাছটি লাগাতো। কোন রকম যত্ন ছাড়াই এই গাছ বেড়ে উঠত। এই গাছটি এখন বিলুপ্তির পথে।


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.


ফেসবুকে আমরা