মো নাজিম আলী রাঙামাটি
গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে ১১ দলীয় ঐক্য জোটের কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে রাঙামাটিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা অংশ গ্রহণ করে ।
রোববার ১২ এপ্রিল ২০২৬ বিকাল ৫টায় রাঙামাটি ইসলামিক সেন্টার প্রাঙ্গণ থেকে রাঙামাটি পৌরসভা জামায়াতের উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়। মিছিলটি পৌরসভা এলাকা অতিক্রম করে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে বনরূপা সিএনজি স্টেশনে গিয়ে শেষ হয়। এসময় অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং কেন্দ্র ঘোষিত দাবির প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন।
মিছিল শেষে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন রাঙামাটি পৌরসভা জামায়াতের আমীর অ্যাডভোকেট মো. মাইনুদ্দিন এবং সঞ্চালনা করেন রাঙামাটি জেলা জামায়াতের শুরা সদস্য অ্যাডভোকেট মো. হারুনর রশীদ।
সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন রাঙামাটি জেলা জামায়াতের আমীর আব্দুল আলিম। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচির মাধ্যমে দেশের জনগণের ভোটাধিকার ও গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া হবে।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এলডিপির রাঙামাটি জেলা সভাপতি কমল বিকাশ দেওয়ান এবং এনসিপির জেলা সেক্রেটারি মো. শোয়াইব। এছাড়া ইসলামী ছাত্রশিবিরের জেলা সভাপতি মো. রবিউল ইসলামসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাঙ্গামাটি জেলা জামাতের আমির আব্দুল আলীম ১৩৩ টি অধ্যাদেশ থেকে গুরুত্বপূর্ণ আটটি বিষয়ের উপর বক্তব্য রাখেন।
গুরুত্বপূর্ণ আটটি বিষয় হলো (১) গণরায় ছিনতাই: জনগণের ক্ষমতা ও অভিপ্রায় খর্ব করার উদ্দেশ্যে গণভোট অধ্যাদেশ বাতিলের মাধ্যমে বিএনপি সরকার মূলত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে আপনার দেওয়া ‘হ্যাঁ’ ভোটের রায়কে চূড়ান্তভাবে নস্যাৎ করতে চায়।(২) আয়নাঘর’ ও দমনের রাজনীতি: গুম কমিশন ও মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ বাতিল করার মাধ্যমে সরকার বিরোধীমতকে দমন-পীড়নের উদ্দেশ্যে ফ্যাসিবাদী আমলের সেই নৃশংস ‘আয়নাঘর’ সংস্কৃতি এবং বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের পথ পুনরায় প্রশস্ত করতে চায়।(৩) দুর্নীতির মহোৎসব: জুলাই সনদের মূল চেতনার পরিপন্থী হিসেবে দুদককে দুর্বল করে নির্বাহী বিভাগ ও রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণে নিয়ে এই সরকার কার্যত অবাধ দুর্নীতির পথকেই প্রশস্ত করতে চায়। তাই একটি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রকাঠামো নিশ্চিত করতে নিরপেক্ষ সার্চ কমিটির মাধ্যমে অরাজনৈতিক নিয়োগ, প্রশাসনিক স্বায়ত্তশাসন এবং বিশেষ ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে।(৪) বিচার বিভাগকে নিয়ন্ত্রণ করা: নিজেদের দলীয় স্বার্থে এবং বিরোধীমত দমনে বিচার বিভাগকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতেই এই সরকার বিচারক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা চায় না।(৫) পুলিশ বাহিনীকে নিপীড়নের হাতিয়ার বানানো: পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশ বাতিল করে বিএনপি সরকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জনবান্ধব করার পরিবর্তে পুনরায় একটি দলীয় ও নিপীড়নমূলক বাহিনীতে পরিণত করতে চায়।(৬) আর্থিক খাতে লুটপাটের নীল নকশা: ব্যাংক রেগুলেশন অধ্যাদেশ বাতিলের মূল উদ্দেশ্য হলো ব্যাংক খাতে পুনরায় অবাধ লুণ্ঠন ও বিদেশে অর্থপাচারের মহোৎসব চালু রাখা।(৭) সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের স্বাধীনতা: নির্বাচন কমিশন, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও পিএসসি-সহ সকল সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে বাছাই ও নিয়োগ প্রক্রিয়ায় এই সরকার নিয়ন্ত্রণ করে সকল সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানকে আজ্ঞাবহ করে স্বৈরতন্ত্র কায়েম করতে চায়। নির্বাচনের আগে সংস্কারের কথা বলে দুই তৃতীয়াংশ আসন পেয়ে ক্ষমতার জোরে সকল স্বাধীন প্রতিষ্ঠানকে নিয়ন্ত্রণ করে দলীয় স্বার্থে ব্যবহার করতে চায়।(৮) সার্বভৌমত্বকে হুমকির মুখে ফেলা: একটি আত্মমর্যাদাশীল ও সার্বভৌম বাংলাদেশের পরিবর্তে এই সরকার বিদেশি আধিপত্যকে তোষণ করে প্রিয় মাতৃভূমিকে করদরাজ্যে পরিণত করার চক্রান্তে লিপ্ত।
বক্তারা বলেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের জনগণের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে এবং এ লক্ষ্যে আন্দোলন-সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে। তারা কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচির প্রতি সমর্থন জানিয়ে ভবিষ্যতেও ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।
সমাবেশে নেতৃবৃন্দ শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন।