বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১১:০৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ
ভালুকায় যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন ঢাকার বিভিন্ন এলাকার ফুটপাত দখলমুক্ত করা হবে: ডিএনসিসি প্রশাসক গলাচিপায় বর্ণাঢ্য আয়োজনে গণঅধিকার পরিষদের ৫ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত টঙ্গীতে সাংবাদিক মহিউদ্দিন রিপনকে অপহরণ, নির্যাতন ও এক কোটি টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ: বাংলাদেশ সেন্ট্রাল প্রেসক্লাবের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ সরাইল থানার ওসি মনজুরুল কাদির ভূঁইয়াকে ঘিরে বিতর্ক, ‘ক্ষমতার উৎস কোথায়’—জনমনে প্রশ্ন। সাতক্ষীরায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মাদ্রাসা শিক্ষকের মৃত্যু গরুর মাংসের নামে ঘোড়ার মাংস বিক্রির অভিযোগ আটক-১ জননিরাপত্তা ও অপরাধ দমনে বিশেষ অবদান: গুণীজন সম্মাননা স্মারক পেলেন ওসি মোঃ হাফিজুর রহমান পিপিএম সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে গ্রেপ্তার, ১৭ দিন কারাভোগের অভিযোগ সাংবাদিক মোঃ জয় সরকারের সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা ও হামলা বন্ধের আহ্বান বাংলাদেশ সেন্ট্রাল প্রেসক্লাবের

গাজীপুরে স্ত্রীর লাশ ঘরে রেখে তালাবন্ধ করে পালিয়েছেন স্বামী

আলমগীর হোসেন সাগর
স্টাফ রিপোর্টার :

গাজীপুরের শ্রীপুরে স্ত্রীকে হত্যার পর মরদেহ ভাড়া বাসার ঘরে তালাবদ্ধ করে পালিয়ে গেছেন অপু (২০) নামের এক যুবক। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার বেড়াইদেরচালা গ্রামের মাসুদ মিয়ার বাড়িতে।

গতকাল শনিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে পুলিশ অপু দম্পতির ভাড়া ঘরের তালা ভেঙে ঝর্ণা আক্তারের মরদেহ উদ্ধার করে।

ঝর্ণা আক্তার (১৬) ওই গ্রামের মোহাম্মদ হামিদ মিয়ার মেয়ে। পলাতক অপু কিশোরগঞ্জ জেলার কটিয়াদী থানার দড়িচড়িয়াদী গ্রামের মোহাম্মদ হযরত আলীর ছেলে।

জানা যায়, স্ত্রী হত্যার অভিযুক্ত অপু পেশায় তাকওয়া পরিবহনের বাসচালক। প্রেম করে পরিবারের অমতে দুই বছর আগে ঝর্ণাকে বিয়ে করেন অপু। তবে ঝর্ণার পরিবার বিষয়টি মেনে নিতে পারেনি। অপু ঝর্ণাকে নিয়ে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন স্থানে ভাড়া থাকতো।

দুই মাস পূর্বে মাসুদ মিয়ার বাড়ির দু্ই তলার একটি কক্ষ ভাড়া নেয় অপু দম্পতি। বৃহস্পতিবার বিকেলের পর থেকে অপু ও ঝর্ণাকে স্থানীয়রা দেখতে পাননি। শনিবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে অপু ফোন করে বান্ধবী তানিয়াকে স্ত্রী হত্যার বিষয় জানায়। তাৎক্ষণিকভাবে তানিয়া বিষয়টি বাড়ির মালিককে জানান। বাড়ির মালিক মাসুদ মিয়া পুলিশকে অবহিত করলে রাত সাড়ে ১১টার দিকে পুলিশ অপু দম্পতির ভাড়া ঘরের তালা ভেঙে ঝর্ণার মরদেহ উদ্ধার করে।

বাড়ির মালিকের স্ত্রী জানান, বাড়ির দুটি কক্ষের মধ্যে নিজেরা থাকেন। বাকি পাঁচটি ঘরে থাকতো ব্যাচেলর ভাড়াটিয়া। একটি কক্ষে থাকতো অপু দম্পতি। তবে এপ্রিলের এক তারিখে সব ভাড়াটিয়ারা চলে যায়। দোতলার একটি কক্ষে থাকতো অপু। তারা বাসায় রান্নাবান্না করতো না। বাইরে থেকে খাবার এনে খেতো।

সব শেষ গত বৃহস্পতিবার বিকেলে অপু দম্পতিকে দেখেছিলেন জানিয়ে বাড়ির মালিকের স্ত্রী বলেন, তারপর থেকে অপু ও ঝর্ণার চলাফেরা করতে দেখা যায়নি। শনিবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে অপুর বান্ধবী তানিয়ার কাছ থেকে বিষয়টি জানতে পান।

তিনি আরও বলেন, বৃহস্পতিবার রাতের কোনো এক সময় অপু ঝর্ণাকে হত্যা করে ঘরে মরদেহ রেখে তালাবদ্ধ করে পালিয়ে যায়।

নিহতের বাবা হামিদ মিয়া জানান, ঝর্ণার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক করে পরিবারের অমতে দুই বছর পূর্বে তাদের বিয়ে হয়। অনেকটা অভিমান করেই মেয়ের খোঁজ নিতেন না তিনি।

তিনি বলেন, ‘শনিবার রাত নয়টার দিকে মেয়েকে হত্যার খবর পাই। ঘটনাস্থলে এসে তালাবদ্ধ ঘরে মেয়ের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখি। অপু পরিকল্পিতভাবে মেয়েকে হত্যা করে তালাবদ্ধ ঘরে লাশ ফেলে পালিয়েছে।’

এদিকে অভিযুক্ত অপুর বাবা জানান, অপু তার পালিত পুত্র। দুই দিনের শিশু অপুকে পুত্রের মতো স্নেহ মমতা দিয়ে লালন পালন করেছেন। তাকে না জানিয়ে গোপনে বিয়ে করে। বউকে নিয়ে শ্বশুরবাড়ি এলাকায় ভাড়া থাকতো। শনিবার রাত ১০টার দিকে জানতে পারি, স্ত্রীকে হত্যা করে পালিয়ে গেছে সে।’

শ্রীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মুহাম্মদ নাসির আহমেদ জানান, খবর পেয়ে রাতে তালাবদ্ধ ঘর থেকে ঝর্ণা আক্তারের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ তাজউদ্দীন আহমেদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

অভিযুক্তকে ধরতে অভিযান চলছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলেও জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.


ফেসবুকে আমরা