বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৫৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ
লালমোহনে স্পিকার মেজর হাফিজ ফুটবল টুর্নামেন্ট–২০২৬-এর শুভ উদ্বোধন যশোরে মাদ্রাসা শিক্ষকদের ২১ দিনব্যাপী ‘হাদিস শরিফ’ প্রশিক্ষণ কোর্সের সমাপনী অনুষ্ঠান মাদ্রাসা শিক্ষকদের দক্ষতা ও পেশাগত মানোন্নয়নে গুরুত্বারোপ কিশোরীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে: চীফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি প্রধানমন্ত্রীকে বরণ করতে প্রস্তুত চট্টগ্রাম: চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন আসন্ন ইউপি নির্বাচনকে সামনে রেখে ঘোড়শাল ইউনিয়নে বিএনপি প্রার্থী ইসহাক আলী মোল্লার সমর্থনে উঠান বৈঠক ও জনসভা, সাংবাদিক সুরক্ষা ও কল্যাণ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে কমলাপুর রেলস্টেশনে ৩০০ অসহায় মানুষের মাঝে খাবার বিতরণ # চুয়াডাঙ্গার বাজদিয়া গ্রামে শারদীয় দুর্গাপূজায় উৎসবমুখর পরিবেশ উখিয়ার হুমায়ুন হত্যা মামলার ২ নম্বর আসামি মরিচ্যায় গ্রেপ্তার নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগের নেতা শামসুল কবির খানের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে গুরুতর অভিযোগ, নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি ঝিনাইদহে আসক-এর ৩১ সদস্যের নতুন কমিটি গঠন,

পিতাহারা এক সন্তানের আর্তনাদ,তোমার পথ চেয়ে আছি বাবা তুমি ফিরে এসো

দূর্গাপুর(রাজশাহী) প্রতিনিধি:

রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার ৪নং দেলুয়াবাড়ী ইউনিয়নের ক্ষিদ্র লক্ষ্মীপুর গ্রামের এক সংবাদকর্মীর জীবনে নেমে এসেছে দীর্ঘ ছায়া। ছয় বছর ধরে নিখোঁজ তাঁর জন্মদাতা পিতা, অথচ আজও তার প্রত্যাবর্তনের অপেক্ষায় চোখে জল ধরে রেখেছেন সেই সন্তান। দৈনিক উপচার পত্রিকার ক্রাইম রিপোর্টার, জাতীয় সাপ্তাহিক অগ্রযাত্রা পত্রিকার রাজশাহী প্রতিনিধি, ও যমুনা প্রতিদিন অনলাইন স্টাফ রিপোর্টার সাংবাদিক মোঃ মনিরুল ইসলাম-যার বাবার সন্ধান আজও মেলেনি।

সাংবাদিক মনিরুল ইসলামের পিতা মাওলানা আতাউর রহমান (আক্তার) ২০২০ সালের ১২ এপ্রিল, করোনাকালীন সময়ে সারাদেশে চলমান লকডাউনের এক সকালে বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফিরে আসেননি। পরিবার ধারণাও করতে পারেনি যে, সেটিই হতে পারে তার শেষ দেখা। সকাল ৮টার দিকে তিনি বাড়ি ছাড়েন—এরপর দীর্ঘ ছয় বছর কেটে গেলেও তার কোনো সন্ধান মেলেনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মাওলানা আতাউর রহমান (আক্তার) চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার বিভিন্ন স্থানে প্রায় দুই দশক ধরে ইমামতি করেছেন। তিনি শিবগঞ্জ, কানসাট, রহনপুর, আমনুরা, গোদাগাড়ীসহ নানা এলাকায় মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি তাফসিরুল কোরআন মাহফিলে বক্তব্য দিতেন। জীবনের শেষ দিকে কিছুটা মানসিক উদ্বেগে ভুগছিলেন বলেও পরিবার জানিয়েছে।

নিখোঁজের সময় তার বয়স ছিল আনুমানিক ৫৫ বছর। গায়ের রং উজ্জ্বল শ্যামলা, মুখমণ্ডল গোলাকার, উচ্চতা ৫ ফুট ২ ইঞ্চি, পরনে ছিল চকলেট রঙের পাঞ্জাবি ও চেক লুঙ্গি। ডান গালের ওপরে একটি আঁচিলের দাগ ছিল এবং মুখে হালকা চাপ দাড়ি। তিনি রাজশাহী আঞ্চলিক ভাষায় কথা বলতেন।

তাঁর স্ত্রী মোছাঃ মনোয়ারা বেগম দুর্গাপুর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। মাইকিং, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, পোস্টার, বিজ্ঞপ্তি—সবই করা হয়েছে। তবুও আজও তিনি নিখোঁজ। দেশের প্রায় ৩০ থেকে ৪০টি সংবাদপত্র ও অনলাইন পোর্টালে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে তাঁর খোঁজে, কিন্তু কোনো সাড়া মেলেনি।

সাংবাদিক মনিরুল ইসলামের প্রশ্ন—যদি তাঁর পিতা মারা গিয়ে থাকেন, তবে তাঁর মৃতদেহ কোথায়? আর যদি তিনি জীবিত থাকেন, তাহলে এত বছরেও তিনি কোথায় আছেন? একবার কি তিনি বুঝতে পারেননি যে কেউ তাঁর জন্য আজও পথ চেয়ে বসে আছে? এ প্রশ্নগুলো আজও জ্বালা হয়ে পোড়ায় মনিরুলের পরিবারকে।

বাবার জন্য সাংবাদিক মনিরুল ইসলামের প্রার্থনা—যেনো আমার বাবা আমাদের মাঝে ফিরে আসেন। মহান আল্লাহ তো সবই পারেন, তিনি চাইলে আমার বাবাকেও ফিরিয়ে দিতে পারেন। দেশবাসীর কাছে অনুরোধ—আমার বাবার জন্য দোয়া করবেন।”

একজন সন্তানের দীর্ঘ ছয় বছরের অপেক্ষা, বুকের ভেতর জমে থাকা শূন্যতা, আর দিন রাতের প্রার্থনা—সমস্ত কিছুর কেন্দ্রবিন্দু একজন পিতা। সেই পিতা
আজ কোথায়? পরিবারটির এখন শুধু একটাই চাওয়া—যদি জীবিত থাকেন, সন্ধান মিলুক; আর যদি না থাকেন, অন্তত তার নিশ্চয়তা মিলুক।


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.


ফেসবুকে আমরা