শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ১০:৫১ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় যুবলীগের বিক্ষোভ, শেখ হাসিনাসহ নেতাদের বিরুদ্ধে রায় প্রত্যাহারের দাবি। সাতক্ষীরা থেকে প্রকাশিত দৈনিক হৃদয় বার্তার পঞ্চম বর্ষে পদার্পণ উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত সাতক্ষীরায় একাধিক মামলার আসামি আসাদুলের জামিন আবেদন নামঞ্জুর ঝিনাইদহ কালীগঞ্জে বিএনপি নেতা ইসরাইল হোসেন জীবনের ইন্তেকাল জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ রিপোর্টার্স সোসাইটির নবনির্বাচিত কমিটির শপথ গ্রহণ চেয়ারম্যান শেখ মো. ফরিদ আহমেদ চিশতী, মহাসচিব কে.এম. মোহাম্মদ হোসেন রিজভী নির্বাচিত ফলোআপ: কেশবপুরে দম্পতি হত্যার রহস্য উদঘাটন : পরকীয়া প্রেমিক-প্রেমিকা গ্রেপ্তার গলাচিপায় ৫০০ গ্রাম গাঁজাসহ জেসমিন নামের এক নারী আটক বিমানের আর্থিক অনিয়ম ও যান্ত্রিক ত্রুটি নিয়ে সংসদীয় কমিটির কঠোর অবস্থান, চীফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনির সভাপতিত্বে বৈঠক ঢাকা, ২ নভেম্বর ২০২৬: বাংলাদেশ রিপোর্টার্স সোসাইটির নবনির্বাচিত কমিটির পরিচিতি সভা ও শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান মরহুম আঃ আজিজ মাহফুজের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিল ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নতুন উপজেলা গঠনের প্রস্তাব বাতিল চেয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে ইঞ্জিনিয়ার শ্যামলের লিখিত আবেদন।

তারাবির নামাজ পড়তে গিয়ে ফিরল লাশ হয়ে

কবির হোসেন
স্টাফ রিপোর্টার
জাতীয় দৈনিক মাতৃ জগত পত্রিকা, চাঁদপুর
চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে তারাবির নামাজ পড়তে ঘর থেকে বের হয়ে আর জীবিত ফিরে আসতে পারেনি নূরানী মাদ্রাসার ৮ বছর বয়সী শিশু রুবেল হোসেন। প্রায় পাঁচ ঘণ্টা পর বাড়ির পাশের একটি বাঁশঝাড় থেকে তার রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ সময় শিশুটির গলায় আঘাতের চিহ্ন এবং নাক-মুখ দিয়ে রক্ত বের হতে দেখা যায়। কী এমন অপরাধ ছিল শিশু রুবেলের—এ প্রশ্ন এখন এলাকাবাসীর। হত্যাকারীদের দ্রুত শনাক্ত করে বিচারের দাবি জানিয়েছেন তারা।
বুধবার (১০ মার্চ) রাতে উপজেলার বালিথুবা পূর্ব ইউনিয়নের শোশাইরচর গ্রামের মাইজের বাড়ির পাশের একটি বাঁশঝাড়ের নিচে মরদেহটি পড়ে থাকতে দেখা যায়।
মর্মান্তিক এ ঘটনাটি ঠিক কখন ঘটেছে তা জানা যায়নি। তবে তারাবির নামাজের সময়ের মধ্যেই শিশুটি নিখোঁজ হয়।
নিহত শিশু মো. রুবেল হোসেন ওই গ্রামের দিনমজুর আব্দুল কাদেরের ছোট ছেলে। সে সানকিসাইর মাদ্রাসার নূরানী বিভাগের ছাত্র ছিল।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার ইফতারের পর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে রুবেল তারাবির নামাজ পড়তে ঘর থেকে বের হয়। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও সে বাড়িতে ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। রাত ১০টার দিকে স্বজনরা আশপাশের বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। সম্ভাব্য সব জায়গায় খুঁজেও তাকে না পেয়ে একপর্যায়ে এলাকাজুড়ে মাইকিং করা হয়।
পরে রাত পৌনে ১২টার দিকে বাড়ির পশ্চিম পাশে একটি বাঁশঝাড়ে টর্চলাইটের আলো ফেললে পাশের বাড়ির কালু নামের এক ব্যক্তি রুবেলের নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখেন। এ সময় তার নাক ও মুখ রক্তাক্ত ছিল। তার চিৎকারে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান। পরে তারা নিশ্চিত হন, শিশু রুবেল মারা গেছে।
খবর পেয়ে ফরিদগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) এমদাদুল হক ও এসআই বোরহান উদ্দিন ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেন। প্রাথমিক সুরতহালে শিশুটির গলায় ফাঁসের দাগ এবং নাক-মুখে রক্তাক্ত অবস্থার আলামত পাওয়া যায়।
এদিকে শিশুটির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। উৎসুক জনতা ঘটনাস্থলে ভিড় জমায়। তবে কে বা কারা এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
নিহত রুবেলের বাবা আব্দুল কাদের ও মা পরান বেগম আহাজারি করতে করতে বলেন,
“আমাদের কারও সঙ্গে কোনো শত্রুতা নেই। আমাদের নিষ্পাপ সন্তানকে কেন এমন নির্মমভাবে হত্যা করা হলো? সে কী অপরাধ করেছিল?”
নিহত শিশু রুবেল তিন ভাইয়ের মধ্যে সবার ছোট ছিল।
স্থানীয় বাসিন্দারা এ হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত, দোষীদের দ্রুত শনাক্ত এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
ফরিদগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মো. হেলাল উদ্দিন জানান, “ঘটনার সংবাদ পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে থানা হেফাজতে নিয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ মর্গে পাঠানো হবে। যদি এটি হত্যাকাণ্ড হয়ে থাকে, তবে জড়িতদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনা হবে। এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।”


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.


ফেসবুকে আমরা