শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬, ০৪:৩৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ
চুয়াডাঙ্গায় তরুণীর রহস্যজনক মৃত্যু: নতুন বাসা থেকে উদ্ধার, পাশে অস্থির দুই পোষা বিড়াল দুর্নীতির বিরুদ্ধে তারুণ্যের জাগরণ, আটঘরিয়ায় বিতর্ক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত * উখিয়া কক্সবাজার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড় কেটে রাস্তা নির্মাণ ও স্থায়ী বসতি, স্থানীয়দের উদ্যোগ, ভবিষ্যৎ নিয়ে শষ্কা * মান্দায় গভীর রাতে তেল চুরির সিন্ডিকেটে ৬২০০ লিটার ডিজেলসহ লরি জব্দ ও আটক ২ প্রবাসীদের কষ্ট লাঘবে অনলাইন গণশুনানি একটি মাইলফলক: ডিসি জাহিদ গলাচিপায় বর্ণাঢ্য আয়োজনে জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস উদযাপিত পরিবেশ ধ্বংসের মহোৎসব: তারাগঞ্জে সেই অবৈধ ‘ফুয়েল টেক’ বন্ধ ও জরিমানা চুয়াডাঙ্গা মুমতাহেনা অহনা নামের এক তরুণীর মরদেহ উদ্ধার সাতক্ষীরায় অপরিপক্ক ৯ হাজার কেজি আম জব্দের পর ধ্বংস গলাচিপার তিন ইউনিয়নে স্বপদে ফিরলেন নির্বাচিত চেয়ারম্যানরা

জ্বালানি তেল সংকটে ভোগান্তি: গাজীপুরের কোনাবাড়ীতে পাম্পে পাম্পে দীর্ঘ লাইন

সিনিয়র রিপোর্টার: মোঃ জাহাঙ্গীর আলম রাজু
দেশজুড়ে জ্বালানি তেলের সংকটের প্রভাব এখন স্পষ্টভাবে পড়েছে সড়কপথে চলাচলকারী সাধারণ মানুষের জীবনে। Gazipur জেলার কোনাবাড়ী থেকে চন্দ্রা পর্যন্ত Dhaka–Tangail Highway ঘুরে দেখা গেছে, বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনের সামনে তেলের জন্য মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকার ও অন্যান্য যানবাহনের দীর্ঘ লাইন। অনেক চালক ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও কাঙ্ক্ষিত পরিমাণ জ্বালানি তেল পাচ্ছেন না।
স্থানীয়ভাবে দেখা গেছে, অধিকাংশ পাম্পের সামনে হাতে লেখা নোটিশ টানিয়ে রাখা হয়েছে— “অকটেন নেই”, “তেল নেই”, “সাময়িকভাবে বন্ধ”, “পাম্প বন্ধ” ইত্যাদি। ফলে অনেক চালক এক পাম্প থেকে আরেক পাম্পে ঘুরেও জ্বালানি সংগ্রহ করতে পারছেন না।
মোটরসাইকেল চালকদের চরম দুর্ভোগ
বিশেষ করে মোটরসাইকেল চালকদের দুর্ভোগ সবচেয়ে বেশি চোখে পড়েছে। অনেকেই পাম্পে পাম্পে ঘুরতে ঘুরতে মোটরসাইকেলের অবশিষ্ট তেল শেষ হয়ে যাওয়ায় বাধ্য হয়ে রাস্তায় গাড়ি ঠেলে বা হেঁটে নিয়ে যেতে দেখা গেছে।
এমনই একজন মোটরসাইকেল আরোহী বলেন,
“মোটরসাইকেলে তেল কম ছিল। কয়েকটি ফিলিং স্টেশনে ঘুরেও তেল পাইনি। খুঁজতে খুঁজতে গাড়ির বাকি তেলও শেষ হয়ে গেছে। এখন বাধ্য হয়ে হেঁটে পাম্প খুঁজছি, যদি কোথাও একটু তেল পাই।”
কোনাবাড়ীর আঞ্জুমান ফিলিং স্টেশনে দীর্ঘ লাইন
Anjuman Filling Station-এ গিয়ে দেখা যায় মোটরসাইকেলের দীর্ঘ সারি। প্রতিষ্ঠানটি সীমিত আকারে মোটরসাইকেল চালকদের জ্বালানি সরবরাহ করছে। সেখানে প্রত্যেক মোটরসাইকেলকে সর্বোচ্চ ৩০০ টাকার তেল দেওয়া হচ্ছে, যাতে বেশি সংখ্যক মানুষ অন্তত সামান্য হলেও জ্বালানি সংগ্রহ করতে পারেন।
এতে কিছু মোটরসাইকেল চালক সাময়িক স্বস্তি পেলেও অনেকেই দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও তেল না পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন।
সরকারি বক্তব্য বনাম বাস্তব চিত্র
সরকারের পক্ষ থেকে বারবার বলা হচ্ছে দেশে জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে এবং সরবরাহ স্বাভাবিক আছে। কিন্তু মাঠপর্যায়ে দেখা যাচ্ছে ভিন্ন চিত্র। পাম্পগুলোতে তেল না থাকা এবং দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষার ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
সাধারণ মানুষের প্রশ্ন
এই পরিস্থিতিতে সাধারণ জনগণের মধ্যে একটি প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে—
যদি পর্যাপ্ত মজুদ থাকে, তবে পাম্পগুলোতে তেল নেই কেন?
অনেকেই আশঙ্কা করছেন, বাজারে কোনো ধরনের সিন্ডিকেট বা সরবরাহ সংকট তৈরি হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা জরুরি।
দ্রুত সমাধানের দাবি
ভুক্তভোগী চালক ও সাধারণ জনগণ সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রতি দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের মতে, প্রশাসনিক নজরদারি বাড়ানো, জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক করা এবং জনগণের দুর্ভোগ কমাতে জরুরি ব্যবস্থা নেওয়া এখন সময়ের দাবি।
সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা—
সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত এই সংকট নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ নেবে এবং দেশের মানুষকে অপ্রয়োজনীয় হয়রানি থেকে মুক্তি


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.


ফেসবুকে আমরা