শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:০৩ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে গ্রেপ্তার, ১৭ দিন কারাভোগের অভিযোগ সাংবাদিক মোঃ জয় সরকারের সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা ও হামলা বন্ধের আহ্বান বাংলাদেশ সেন্ট্রাল প্রেসক্লাবের নিষেধাজ্ঞাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি! রায়পুরে মেঘনায় থামছে না মা ইলিশ শিকার সাংবাদিক আলিফ ফকিরের হত্যাকারীদের ফাঁসির দাবিতে জামালপুর প্রেসক্লাবের মানববন্ধন আওয়ামী লীগের সঙ্গে ৯৬’র মতো আবারো বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে জোট করেছে জামায়াত: রাশেদ খান টেকনাফে চাকমারকুল ক্যাম্পে চুরি মামলায় তিন রোহিঙ্গা গ্রেপ্তার, বাংলাদেশ সেন্ট্রাল প্রেসক্লাবের সিনিয়র সহ-সভাপতি শিহাব উদ্দিনের সুস্থতা কামনায় দোয়া প্রার্থনা লালমোহনে স্পিকার মেজর হাফিজ ফুটবল টুর্নামেন্ট–২০২৬-এর শুভ উদ্বোধন যশোরে মাদ্রাসা শিক্ষকদের ২১ দিনব্যাপী ‘হাদিস শরিফ’ প্রশিক্ষণ কোর্সের সমাপনী অনুষ্ঠান মাদ্রাসা শিক্ষকদের দক্ষতা ও পেশাগত মানোন্নয়নে গুরুত্বারোপ কিশোরীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে: চীফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি

গলাচিপা নির্বাহী আদালতের পেশকার আবু জাফর এর বিরুদ্ধে ঘুষ ও দুর্নীতির অভিযোগে আদালত বর্জন ঘোষনা

খন্দকার জলিল, স্টাফ রিপোর্টার

পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের পেশকার মো. আবু জাফরের বিরুদ্ধে ভয়াবহ ঘুষ, দুর্নীতি, অনিয়ম ও আইনজীবীদের প্রতি অমানবিক আচরণের অভিযোগ উঠেছে।

এ অভিযোগে ক্ষুব্ধ হয়ে গলাচিপা উপজেলা আইনজীবীরা আদালত বর্জনের ঘোষণা দেন এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট লিখিত অভিযোগ জমা দেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, আবু জাফর গত পাঁচ বছর ধরে গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী আদালতে দায়িত্ব পালন করছেন। আরও জানা যায়, তিনি এমএলএসএস পদ থেকে অবৈধভাবে প্রভাব খাটিয়ে পেশকার পদে উন্নীত হন। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তিনি নানা অনিয়মের মাধ্যমে আদালতকে ব্যক্তিগত আয়ের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করেছেন। এমনকি তিনি একজন সাধারন পরিবারের হয়েও এ চাকুরির পর পটুয়াখালী বাঁধ ঘাট এলাকায় পাঁচতলা একটি ভবন নির্মান করে বলে জানা যায়।

মামলার তারিখ পরিবর্তন, রায় প্রভাবিত করা, পক্ষভুক্তদের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা দাবি, মামলার নকল কপি ও সই-মহর কপি দিতে অতিরিক্ত টাকা আদায়সহ অসংখ্য অভিযোগ তার বিরুদ্ধে উঠে এসেছে। আইনজীবী ছাড়া নিজেই মামলা পরিচালনা এবং বিচারকের বরাত দিয়ে টাকা দাবি করাও তার নিয়মিত অনিয়মের অংশ বলে জানা যায়।

আইনজীবী প্রতিনিধি অ্যাডভোকেট মো. মোকলেছুর রহমান, এপিপি অ্যাডভোকেট গাজী আল-আমিন, সিনিয়র অ্যাডভোকেট দেলোয়ার হোসেনসহ একাধিক আইনজীবী ও আইনজীবী সহকারীরা জানান, আবু জাফরের অফিস যেন একপ্রকার ঘুষের ব্যাংক শাখায় পরিণত হয়েছে। প্রতিটি কাজে অতিরিক্ত টাকা না দিলে তিনি নথি আটকে রাখেন এবং ভুক্তভোগীদের হয়রানি করেন। এমনকি নিয়ম বহির্ভূতভাবে তিনি তার বোনের ছেলেকে আদালতের কাজে তার সাথে বসিয়ে রেখেছেন।

৮ সেপ্টেম্বর সোমবার আদালত শুরুর আগে আইনজীবীরা তার কক্ষে গিয়ে নথি সংক্রান্ত বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে অকথ্য ভাষা ব্যবহার করেন। শুধু তাই নয়, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দিয়ে একজন আইনজীবীকে বলেন, “টুপি নামিয়ে কথা বলুন।” এতে উপস্থিত আইনজীবীরা চরম ক্ষুব্ধ হয়ে আদালত বর্জনের ঘোষণা দেন।

এ ঘটনায় আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহামুদুল হাসান আইনজীবীদের সঙ্গে জরুরি বৈঠকে বসেন। বৈঠকে অভিযোগ শোনার পর তিনি আবু জাফরের বোনের ছেলে রাসেলকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন এবং অনুমতি ছাড়া অফিসে কাজ করায় তাকে তাৎক্ষণিকভাবে বহিষ্কার করেন। একই সঙ্গে পেশকার আবু জাফরের বিরুদ্ধে প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার বিষয়টিও নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আইনজীবী সমিতির নেতৃবৃন্দ জানিয়েছেন, আবু জাফরকে শুধু বদলি করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। কারণ, তিনি যেখানেই যাবেন সেখানেই দুর্নীতি চালিয়ে যাবেন। তাই তারা তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করে স্থায়ীভাবে চাকরি থেকে বরখাস্ত করার জোর দাবি জানিয়েছেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.


ফেসবুকে আমরা