খন্দকার জলিল, জেলা প্রধান, পটুয়াখালী। পটুয়াখালীর গলাচিপায় চিরায়ত বাংলার ঐতিহ্য আর উৎসবের আবহে উদযাপিত হয়েছে পহেলা বৈশাখ তথা বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩। উপজেলা প্রশাসনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সামাজিক সংগঠনের পৃথক ও বর্ণিল কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিনটি উদযাপিত হয়। ‘এসো হে বৈশাখ এসো এসো’ গানের সুরে আর ঢোল-তবলা ও ভেপুর ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে ওঠে গোটা শহর। নববর্ষের এই আনন্দ উৎসবে অংশ নিতে দল-মত নির্বিশেষে সাধারণ মানুষের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। উপজেলা প্রশাসনের কর্মসূচি ও বৈশাখী শোভাযাত্রা: উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সকাল ৮:৩০ মিনিটে এক বর্ণাঢ্য বৈশাখী শোভাযাত্রা বের করা হয়। উপজেলা পরিষদ সম্প্রসারণ ভবনের সামনে থেকে শুরু হওয়া এই শোভাযাত্রাটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর। শোভাযাত্রা শেষে বাংলাদেশ-তুরস্ক ফ্রেন্ডশিপ স্কুল মাঠে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রতিমন্ত্রী বলেন, “বাংলা নববর্ষ আমাদের আত্মপরিচয়ের উৎসব। এই উৎসব কোনো ভেদাভেদ চিনে না।” উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও পৌর প্রশাসক মাহমুদুল হাসান-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গলাচিপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিল্লুর রহমান, উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মেজবাহ উদ্দিনসহ সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা। দিনটি উপলক্ষে রচনা ও চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা, প্রীতি ফুটবল ম্যাচ এবং হাসপাতাল ও এতিমখানায় উন্নত মানের খাবার পরিবেশন করা হয়। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যেও বৈশাখী উৎসবের ব্যাপক প্রস্তুতি লক্ষ্য করা গেছে। গণঅধিকার পরিষদের আনন্দ শোভাযাত্রা ও পান্তা উৎসব: সকাল ৯টায় গলাচিপা মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে গণঅধিকার পরিষদের উদ্যোগে একটি বিশাল আনন্দ শোভাযাত্রা বের হয়। দলটির চেয়ারম্যান ও প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর এই কর্মসূচিতে সরাসরি নেতৃত্ব দেন। শোভাযাত্রা শেষে বিদ্যালয়ের খেলার মাঠে ঐতিহ্যবাহী পান্তা-ইলিশ ভোজের আয়োজন করা হয়। এ সময় তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উৎসবে মেতে ওঠেন এবং বাঙালির লোকজ সংস্কৃতি লালনের প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন। বিএনপি একাংশ: উপজেলা বিএনপি কার্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে একটি ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’ বের করে উপজেলা বিএনপির একাংশ। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আলহাজ্ব গোলাম মোস্তফা। এছাড়াও জেলা যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শিপলু খান ও সাবেক ছাত্রনেতা ইখতিয়ার রহমান কবিরসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা সভা শেষে গলাচিপা বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে তারাও পান্তা-ইলিশের আয়োজন করেন। হাসান মামুন সমর্থক: এদিকে সকাল ১০:৩০ মিনিটে বিএনপির সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা হাসান মামুনের নেতৃত্বে পৌরসভা ফিডার রোড এলাকা থেকে পৃথক একটি বৈশাখী শোভাযাত্রা বের করা হয়। মিছিল শেষে খন্দকার ভিলার সামনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারন সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সাত্তার হাওলাদার, উপজেলা যুবদলের সাবেক আহবায়ক খন্দকার মশিউর রহমান শাহিন এবং উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক আহবায়ক মোহাম্মদ আলী জিন্নাহসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন। উৎসবের আমেজ ও জনজীবন: সকাল থেকেই গলাচিপা শহর ছিল বর্ণিল সাজে সজ্জিত। রঙিন ফেস্টুন, ব্যানার আর বৈশাখী পোশাক পরা শিশু-কিশোর ও তরুণ-তরুণীদের পদচারণায় এক উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়। প্রতিটি কর্মসূচিতেই সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ প্রমাণ করেছে যে, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রশ্নে বাঙালি এক ও অবিচ্ছেদ্য। দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে শান্তি ও সমৃদ্ধির প্রত্যাশায় গলাচিপাবাসী নতুন বছরকে বরণ করে নিয়েছে।