মোঃ রাকিব শেখঃ শিশু টিকা কর্মসূচিতে বড় ধরনের বিশৃঙ্খলার অভিযোগ উঠেছে—দেশজুড়ে ৬ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ টিকার মজুত ফুরিয়ে যাওয়ার খবর সামনে এসেছে, যা জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনায় গুরুতর সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে। স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রতিবছর দেশে ৪০ লাখের বেশি শিশু জন্ম নেয়, যাদের সুরক্ষায় ১২টি রোগ প্রতিরোধে নিয়মিত টিকাদান করা হয়। কিন্তু বর্তমানে হাম-রুবেলা, পোলিও, যক্ষ্মা, নিউমোনিয়া, ডিপথেরিয়া-ধনুষ্টার ও হেপাটাইটিস-বি—এই ৬ ধরনের টিকার সরবরাহে ঘাটতির অভিযোগ উঠেছে। যদিও স্বাস্থ্য অধিদফতর দাবি করছে, মাঠ পর্যায়ে টিকা রয়েছে। তদন্তে জানা গেছে, অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর স্বাস্থ্য অধিদফতরের অপারেশনাল প্ল্যান (ওপি) বাতিল হওয়ায় টিকা সংগ্রহ ও সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের অচলাবস্থা তৈরি হয়। এতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অনেক শিশু নির্ধারিত টিকা থেকে বঞ্চিত হয়েছে এবং সামগ্রিক টিকাদানের হার কমে গেছে। পরবর্তীতে পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার প্রায় এক হাজার কোটি টাকার বিশেষ বরাদ্দ দেয়, যার মধ্যে ৮৪২ কোটি টাকা রাখা হয় শিশুদের টিকার জন্য। সিদ্ধান্ত হয়, সরাসরি ক্রয়ের পাশাপাশি উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমেও টিকা কেনা হবে। তবে প্রশাসনিক জটিলতা ও দীর্ঘসূত্রতার কারণে সেই প্রক্রিয়া শেষ হতে বিলম্ব হয়, ফলে সংকট আরও তীব্র আকার নেয়। স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. জাহিদ রায়হান বলেন, “আগে ইউনিসেফের মাধ্যমে সরাসরি টিকা কেনা হতো। পরে নীতিগত পরিবর্তন এনে অর্ধেক টিকা টেন্ডারের মাধ্যমে কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কিন্তু এই পরিবর্তন বাস্তবায়নে জটিলতা তৈরি হয়েছে এবং এর প্রভাব এখন স্পষ্ট। তিনি আরও জানান, সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের পর বিকল্প কোনো কার্যকর ব্যবস্থা রাখা হয়নি, যার ফল এখন ভোগ করতে হচ্ছে। পুনরায় সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে ফিরে যাওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলে জানান তিনি। এদিকে, টিকা সংকটের মধ্যেই দেশে হামের প্রকোপ উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। প্রতিদিনই বাড়ছে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য নতুন করে শঙ্কা তৈরি করেছে।