নাজিম আল হাসান রাঙ্গামাটি
পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর রাঙ্গামাটি পৌরসভা শাখার উদ্যোগে এক মনোজ্ঞ ও ভাবগম্ভীর ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার ২৮ মার্চ ২০২৬ মাগরিবের নামাজ শেষে রাঙ্গামাটি শহরের বনরূপা এলাকায় অবস্থিত ইসলামী সেন্টার (আই.সি.) কনফারেন্স হলরুমে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে সঞ্চালনা করেন রাঙ্গামাটি পৌরসভা জামায়াতের সেক্রেটারি হাফেজ আবুল বাশার। রাঙ্গামাটি পৌরসভা জামায়াতের আমীর অ্যাডভোকেট মাইনুদ্দিনের সভাপতিত্বে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও চট্টগ্রাম অঞ্চল টিম পরিচালক আবু জাফর সাদেক। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাঙ্গামাটি জেলা জামায়াতের আমীর আব্দুল আলীম, জেলা নায়েবে আমীর মাওলানা জাহাঙ্গীর আলম, সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা তোফায়েল আহমেদ, জেলা শূরা সদস্য মাওলানা নুরুল আলম ছিদ্দিকী, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের জেলা সভাপতি আব্দুস সালাম, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের জেলা সভাপতি রবিউল ইসলাম এবং রাঙ্গামাটি পৌরসভার সহকারী সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট রহমতুল্লাহসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। প্রধান অতিথির বক্তব্যে আবু জাফর সাদেক বলেন, তাকওয়া শুধুমাত্র ব্যক্তিগত জীবনে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না; বরং তা পারিবারিক, সামাজিক এবং রাষ্ট্রীয় জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠা করতে হবে। সমাজে যে অবক্ষয় ও অস্থিরতা বিরাজ করছে, তার অন্যতম কারণ তাকওয়ার অভাব। একটি সুশৃঙ্খল ও কল্যাণমুখী সমাজ গঠনে তাকওয়ার বিকল্প নেই। তিনি আরও বলেন, ঈদ মানেই খুশি ও আনন্দ, যেখানে ধনী-গরিব সকল মানুষ সমানভাবে অংশীদার। সমাজের অবহেলিত ও দুঃখী মানুষের পাশে দাঁড়ানোই ঈদের প্রকৃত শিক্ষা। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সবসময় সাধারণ মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে নির্দেশনা দিয়ে বলেন, ইসলামি মূল্যবোধের আলোকে একটি সুন্দর, ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনে সকলকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। এ লক্ষ্যে মানুষের মাঝে নৈতিকতা, মানবিকতা ও দায়িত্ববোধ জাগ্রত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। আলোচনা সভায় বক্তারা পবিত্র রমজান মাসের তাৎপর্য তুলে ধরে বলেন, দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনার মাধ্যমে অর্জিত তাকওয়া যেন আমাদের জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রতিফলিত হয়। রমজানে অর্জিত আত্মসংযম, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধ বছরের বাকি সময়েও ধরে রাখার আহ্বান জানান তারা।