রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬, ১২:১৫ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
বাংলাদেশ সেন্ট্রাল প্রেসক্লাব কক্সবাজার জেলা অভিষেক উপলক্ষে প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত ধামইরহাটে ছাগল বিতরণে ওজন জালিয়াতি: হট্টগোলের মুখে বিতরণ স্থগিত ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরে কৃষক লোকমান মিয়ার ওপর গভীর রাতে অতর্কিত হামলার অভিযোগ ঝিনাইদহে হজযাত্রীদের প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জে হরিণ শিকারের ফাঁদ উদ্ধার শিশু মৃত্যুর ঘটনায় লাকসাম ইউনিটি ট্রমা হাসপাতাল বন্ধ রহস্যে ঘেরা কিশোরের নিথর দেহ: শাহজাদপুরে চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডে আতঙ্ক কক্সবাজারে অস্ত্রসহ ১০ ডাকাত আটক, ৯ জন উদ্ধার ঝিনাইদহে সাইবার ক্রাইম সেলের উদ্যোগে উদ্ধার হওয়া মোবাইল ও টাকা ফেরত। লাকসামে বেওয়ারিশ কুকুরের উপদ্রব বৃদ্ধি: জলাতঙ্ক প্রতিরোধে ভ্যাকসিনেশন কার্যক্রম শুরু

মনপুরায় নীরব মৃত্যু ফাঁদ: এক বছরে পানিতে ডুবে ৭ শিশুর মৃত্যু, আহত অন্তত ৪৫

মোঃ শাকিল খান রাজু সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার

নদী–খাল আর পুকুরে ঘেরা দ্বীপ উপজেলা মনপুরায় নীরবে বাড়ছে এক ভয়াবহ ট্র্যাজেডি। গত এক বছরে এ উপজেলায় পানিতে ডুবে আহত হয়েছে অন্তত ৪৫ জন। আর সবচেয়ে হৃদয়বিদারক বাস্তবতা—উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনার আগেই প্রাণ হারিয়েছে ৭টি নিষ্পাপ শিশু। যাদের সবার বয়স মাত্র ৪ থেকে ৫ বছরের মধ্যে।

এক মুহূর্তের অসাবধানতা, আর তাতেই শেষ হয়ে গেছে মায়ের কোলে ফিরে যাওয়ার গল্প। খেলতে খেলতে কখন যে বাড়ির পাশের পুকুর, খাল কিংবা নদীর পানিতে পড়ে গেছে—তা টেরই পাননি অভিভাবকরা। যখন বুঝেছেন, তখন অনেক ক্ষেত্রেই সব শেষ।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্র জানায়, পানিতে ডুবে অসুস্থ শিশুদের অনেককেই উদ্ধার করে আনার আগেই তাদের নিঃশ্বাস থেমে যায়। যেসব শিশুকে জীবিত অবস্থায় আনা হয়েছে, তাদের অনেকেই মৃত্যুর মুখ থেকে অল্পের জন্য ফিরে এসেছে। চিকিৎসকদের মতে, সময়মতো উদ্ধার এবং সঠিক প্রাথমিক চিকিৎসা নিশ্চিত করা গেলে বেশ কিছু প্রাণ বাঁচানো সম্ভব হতো।

স্থানীয়রা জানান, মনপুরার অধিকাংশ বাড়ির আশপাশেই খোলা পানির উৎস—পুকুর, খাল বা নদী—রয়েছে। কিন্তু শিশুদের নিরাপত্তায় নেই প্রয়োজনীয় অবকাঠামো বা সুরক্ষা ব্যবস্থা। নেই পর্যাপ্ত সচেতনতা, নেই কার্যকর নজরদারি। ফলে প্রতিনিয়ত ঝুঁকির মুখে পড়ছে কোমলমতি শিশুরা।

এ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সচেতন নাগরিকরা। তাদের ভাষ্য, এখনই কার্যকর উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে আরও অনেক মায়ের কোল শূন্য হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশুদের একা বাইরে না ছাড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা, বাড়ির আশপাশের পুকুর ও খাল ঘিরে রাখা, পানির উৎসে নিরাপত্তা বেষ্টনী স্থাপন এবং গ্রামভিত্তিক সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করা জরুরি। পাশাপাশি অভিভাবকদের প্রাথমিক চিকিৎসা ও ডুবন্ত ব্যক্তিকে উদ্ধার পদ্ধতি বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়ার ওপরও জোর দিয়েছেন তারা।

প্রশ্ন থেকেই যায়—আর কত শিশু প্রাণ হারালে আমরা সত্যিকার অর্থে সচেতন হব?


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমরা