শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:২৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ
মিরপুর এভিনিউ-৫ এলাকায় সরকারি জায়গায় নির্মিত ভবন উচ্ছেদ বাড়ির মালিকদের দাবি—ক্রয়কৃত সম্পত্তিতে নির্মাণ করা হয়েছিল ভবন ৬৪ জেলার সাংবাদিকদের মিলন মেলায়, দৈনিক মাতৃজগত পত্রিকার ২৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন জমকালো আয়োজনে দৈনিক মাতৃজগত পত্রিকার ২৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন ৬৪ জেলার সাংবাদিকদের মিলনমেলা, সাংবাদিক সুরক্ষা আইনসহ গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা জাতীয় দৈনিক মাতৃজগত পত্রিকার ২৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে পল্লবী থানার ওসি মো. হাসান বাসিরের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জাতীয় দৈনিক মাতৃজগতের ২৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে কাফরুল থানার ওসি মোঃ সাইফুল ইসলামের শুভেচ্ছা সিএনজিতে ইয়াবা বহন, ৫ হাজার পিস ইয়াবাসহ ৫ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার। ভোলার লালমোহনের কৃতী সন্তান রূপনগর থানার ওসি মোহাম্মদ নোমান হোসেনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ রূপনগর থানায় ওসি মোহাম্মদ নোমান হোসেনের মানবিক ও দায়িত্বশীল ভূমিকা মাদক-সন্ত্রাস ও অপরাধ দমনে কঠোরতা, সাধারণ মানুষের পাশে থেকে আস্থা অর্জনের চেষ্টা গলাচিপায় বিপুল পরিমাণ ইয়াবাসহ ৩ মাদক কারবারি গ্রেফতার প্রতিভাবান তরুণ ক্রিকেটার মোঃ ইয়াসিন আরাফাত শান্তর ক্রিকেট ক্যারিয়ার অব্যাহত রাখা এবং পরিবারের আর্থিক স্বচ্ছলতায় সহায়তা করার লক্ষ্যে তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছে জেলা প্রশাসন, ময়মনসিংহ।

ঢাকার জাতীয় সমাবেশে অংশ নিতে না পেরে হতাশ ঝিনাইদহের হাজারো জামায়াত কর্মী….‘স্বপ্ন ছিল ঢাকায়,কিন্তু গাড়ির চাকা ঘোরেনি

মোঃ শাকিল রেজা সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টারঃ

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর জাতীয় সমাবেশকে ঘিরে ঝিনাইদহ জেলায় সৃষ্টি হয়েছিল ঈমানি উদ্দীপনার এক জোয়ার। সদর, হরিণাকুন্ডু, শৈলকূপা, কালীগঞ্জ, কোটচাঁদপুর ও মহেশপুরের প্রতিটি উপজেলার হাজারো কর্মী-সমর্থক রওনা দেওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন বহু আগেই। কিন্তু শেষ মুহূর্তে গাড়ির সংকট, নিরাপত্তা সংশয়, স্থানীয় বাধা, এবং ব্যক্তিগত কিছু প্রতিকূলতা,তাদের স্বপ্নকে ভেঙে চুরমার করে দেয়।

তারা বলেন,আমরা শরীর নিয়ে যেতে পারিনি, কিন্তু হৃদয় নিয়ে ছিলাম সমাবেশের প্রতিটি মুহূর্তে। চোখ ছিল লাইভ স্ক্রিনে, মন ছিল ঢাকার মঞ্চে।

ঝিনাইদহ সদরের আনিছ, হানিফ, রুহুল আমিন, আজিজুর রহমান, কদর আলী বলেন,শুক্রবার এশার নামাজের পর রওনার পরিকল্পনা ছিল। সবাই রেডি ছিলাম। কিন্তু গাড়ি পাওয়া গেল না। রাস্তায় বাধার আশঙ্কা, চালকদের অনীহা,সব মিলিয়ে আমরা গুটিয়ে গেলাম। শনিবার ফজরের পরও চেষ্টা করেছি, কিন্তু ব্যর্থ হয়েছি। আমাদের স্বপ্ন ছিল ঢাকায় গিয়ে ইসলামী চেতনার পতাকা উঁচু করা, সেই স্বপ্ন রয়ে গেল অতৃপ্ত।

এদিকে হরিণাকুন্ডুর সাহেদ, বাবুল, ইসলাম, জাহিদুর, মান্না, আব্দুর রহমান বলেন,আমরা সংকল্প করেছিলাম, যেকোনো মূল্যে ঢাকা যাবো। কিন্তু আমাদের যাওয়া হলো না। আমরা শুধু চোখের জল ফেলে বসে ছিলাম। এটা শুধু একটি সমাবেশ ছিল না, এটা ছিল ইসলামী জাগরণের অংশ আমরা সেই ইতিহাস থেকে ছিটকে পড়লাম।

শৈলকূপার কাইয়ুম, হাফিজ, আলমগীর, সাইফুল, রানা হামিদ জানান,আমরা খাবার, ব্যানার, সব রেডি করে রেখেছিলাম। হাজার হাজার ভাই প্রস্তুত ছিল। কিন্তু যাওয়ার কোন গাড়ি না পাওয়ায় শেষপর্যন্ত সবাই বাড়িতে ফিরে গেল চুপচাপ। এই হতাশা আমাদের জন্য হৃদয়ে গেঁথে থাকা ক্ষত হয়ে থাকবে।

কালীগঞ্জের মিজানুর, হযরত আলী, জয়নুল, শহিদুল, বিপ্লব বলেন,অনেকে পরিবার ও কাজের কারণে যেতে পারেননি, অনেকে গাড়ি রিজার্ভ করতে গিয়ে ব্যর্থ হয়েছেন। আমাদের প্রস্তুতি ছিল, কিন্তু পথ বন্ধ হয়ে গেল। শেষ পর্যন্ত টিভি আর মোবাইলের পর্দায় চোখ রেখেই কাটাতে হয়েছে ঐতিহাসিক এই দিনটি।

কোটচাঁদপুরের বিল্লাল, মাসুম, শফিকুল, ইসমাইল বলেন,সমাবেশে যাওয়ার জন্য আমরা সব প্রস্তুতি নিয়েছিলাম। কেউ কেউ নিজের বাইক নিয়ে রওনা দিতে চেয়েছিল, কিন্তু নিরাপত্তা ও রাস্তায় বাধার আশঙ্কায় পিছিয়ে আসে। এটা আমাদের জন্য চরম হতাশার।

মহেশপুরের সজল, হাবিবুর, নবাই মণ্ডল, শাহিন বলেন,
আমরা গাড়ি ভাড়া করেছিলাম, টাকা জোগাড় করেছিলাম। কিন্তু সীমান্ত এলাকা হওয়ায় যাত্রার আগেই একাধিক বাধা এসে পড়ে। ভাইয়েরা চোখের পানি ফেলেছেন,এটা মুখে বলার মতো নয়। আল্লাহ যদি চান, সামনে যেন এমন মজলুম দিন আর দেখতে না হয়।

এই ঐতিহাসিক সমাবেশে শারীরিকভাবে অংশ নিতে না পারলেও ঝিনাইদহ জেলার জামায়াত কর্মীরা ছিলেন মানসিক ও হৃদয় দিয়ে সম্পৃক্ত। তারা বলেন,
আমরা স্ব-শরীরে না থাকলেও, আমাদের চোখ ছিল পর্দায়, কান ছিল মঞ্চের দিকে। যে ভালোবাসা আর অনুভূতি ছিল তা কোনো কিছু থামাতে পারেনি।

তারা আরও বলেন, ভবিষ্যতে যেন এমন প্রস্তুতিহীনতা ও যানবাহনের সংকটে আর কেউ বঞ্চিত না হয়, সে জন্য আগেভাগেই দলীয়ভাবে সুসংগঠিত উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.


ফেসবুকে আমরা