সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ০২:৩৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ
ঐতিহ্য হারাচ্ছে গলাচিপা: এবার হচ্ছে না কাঙ্ক্ষিত বৈশাখী মেলা রাঙামাটিতে ১১ দলীয় ঐক্য জোটের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নের দাবিতে সাতক্ষীরাতে বিক্ষোভ সমাবেশে গোমস্তাপুরে জ্ঞানচক্র একাডেমি সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় সংবর্ধনা ও পুরস্কার বিতরণ করা হয়। গাজীপুরে স্ত্রীর লাশ ঘরে রেখে তালাবন্ধ করে পালিয়েছেন স্বামী শিক্ষার্থীদের মাঝে সচেতনতা ছড়াল কক্সবাজার জেলা পুলিশ কুষ্টিয়ায় মাজার ভাঙচুরের পর অগ্নিসংযোগ পীর নিহত চুয়াডাঙ্গা জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত: সীমান্ত নিরাপত্তা ও মাদক নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত উদ্যোগের ওপর জোর ঝিনাইদহে নবনিযুক্ত জেলা প্রশাসকের সভাপতিত্বে জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত,

গলাচিপা-দশমিনায় বিএনপির সাংগঠনিক ভাঙন: নেতৃত্ব শূন্যতায় তৃণমূল দিশেহারা, ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা

খন্দকার জলিল জেলা প্রধান, পটুয়াখালী।

পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা-দশমিনা) সংসদীয় আসনের সাম্প্রতিক জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে বিএনপির অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব এখন স্পষ্ট সাংগঠনিক সংকটে রূপ নিয়েছে। তৃণমূল নেতাকর্মীদের ভাষায়, “দল আছে, কিন্তু নেতৃত্ব নেই”—এই বাস্তবতাই এখন গলাচিপা-দশমিনার রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু। গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে এ আসনে মোট পাঁচজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এর মধ্যে প্রধান লড়াই হয় গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর (বিএনপি সমর্থিত) এবং বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান মামুনের মধ্যে। শেষ পর্যন্ত নুরুল হক নুর জয়লাভ করলেও ৮১,৩৬১ ভোট পেয়ে মাত্র ১৫,৯৬২ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন হাসান মামুন—যা রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে “বিএনপির ভাঙনের মাঝেও তৃণমূল সমর্থনের শক্ত প্রমাণ”। হাসান মামুন দীর্ঘদিন ধরে গলাচিপা-দশমিনায় বিএনপির তৃণমূল রাজনীতির অন্যতম সক্রিয় সংগঠক হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ছাত্রজীবন থেকেই দলীয় রাজনীতিতে যুক্ত থেকে তিনি দুর্দিনে নেতাকর্মীদের পাশে দাঁড়িয়েছেন এবং মাঠ পর্যায়ে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছিলেন। কিন্তু কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তে তাকে মনোনয়ন না দিয়ে নুরুল হক নুরকে সমর্থন দেওয়ায় তৃণমূলে চরম অসন্তোষ সৃষ্টি হয়। এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে হাসান মামুন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিলে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে তাকে বহিষ্কার করা হয়। শুধু তাই নয়, তার সমর্থনে কাজ করায় গলাচিপা ও দশমিনা উপজেলা, পৌরসভা এবং ইউনিয়ন-ওয়ার্ড পর্যায়ের সকল কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়—যা বিএনপির সাংগঠনিক কাঠামোয় বড় ধরনের শূন্যতা তৈরি করেছে। বর্তমানে সেই শূন্যতার প্রভাব স্পষ্ট। তৃণমূল নেতাকর্মীরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। অনেকেই বলছেন, “আমরা এখন অভিভাবকহীন। কার নির্দেশনা মেনে চলবো, সেটাই বুঝতে পারছি না।” দীর্ঘদিনের ত্যাগী নেতাদের বাদ দিয়ে নতুন করে আহ্বায়ক কমিটি গঠন করায় ক্ষোভ আরও বাড়ছে। অভিযোগ উঠেছে, এসব কমিটিতে অগ্রহণযোগ্য ও নিষ্ক্রিয় ব্যক্তিদের স্থান দেওয়া হয়েছে, যা মাঠ পর্যায়ে কার্যকর কোনো প্রভাব ফেলতে পারছে না। বিলুপ্ত কমিটির নেতৃবৃন্দের দাবি, হাসান মামুনের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে পূর্বের কমিটিগুলো পুনর্বহাল করতে হবে। অন্যথায় তারা রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই সংকট যদি দ্রুত সমাধান না হয়, তাহলে গলাচিপা-দশমিনা আসনটি বিএনপির জন্য দীর্ঘমেয়াদে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠবে। সাংগঠনিক দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তিগুলো ধীরে ধীরে শক্ত অবস্থান তৈরি করছে বলেও তারা মনে করছেন। এদিকে জেলা বিএনপির সিনিয়র নেতারা বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলতে অনিচ্ছুক। তাদের ভাষায়, “এটি কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের বিষয়”—যা কার্যত সংকট সমাধানে অনিশ্চয়তার ইঙ্গিত দেয়। অপরদিকে হাসান মামুন দাবি করেছেন, প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও বিপুল ভোট পাওয়া তার প্রতি তৃণমূলের আস্থার প্রতিফলন। তিনি অভিযোগ করেন, তার সমর্থকদের ওপর নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে হামলা, হয়রানি, মামলা ও হুমকির ঘটনা ঘটছে। তার ভাষায়, “গলাচিপা-দশমিনায় এখন বিএনপির প্রতিপক্ষ বিএনপিই।” তিনি আরও বলেন, দল সুযোগ দিলে তিনি পুনরায় সাংগঠনিক দায়িত্ব নিয়ে তৃণমূল নেতাকর্মীদের পাশে দাঁড়াতে ইচ্ছুক।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমরা