খন্দকার জলিল, জেলা প্রধান, পটুয়াখালী বাঙ্গালীর হাজার বছরের ঐতিহ্য ও পহেলা বৈশাখ তথা বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপনের লক্ষ্যে পটুয়াখালীর গলাচিপায় উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এক প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। উৎসবমুখর পরিবেশে দিনটি বরন করে নিতে এবার নেওয়া হয়েছে নানা বর্ণিল পরিকল্পনা। বুধবার (৮ এপ্রিল) সকালে উপজেলা পরিষদ সম্প্রসারণ ভবনের হলরুমে আয়োজিত এই প্রস্তুতি সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান। সভায় নববর্ষের কর্মসূচি বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা ও মতামত প্রদান করেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, শিক্ষক, সাংবাদিক এবং উপজেলা পর্যায়ের বিভিন্ন কর্মকর্তা বৃন্দ। সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. মেজ বাহাউদ্দিন, ফায়ার সার্ভিসের প্রতিনিধি, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, শিক্ষক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং সাংবাদিকবৃন্দ। সভায় সর্বসম্মতিক্রমে নববর্ষের দিনব্যাপী উৎসব পালনে বেশ কিছু সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়: • বৈশাখী শোভাযাত্রা: পহেলা বৈশাখ সকাল ৮টায় উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে একটি বর্ণাঢ্য ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’ বের করা হবে। গ্রাম-বাংলার ঐতিহ্যবাহী সাজে সজ্জিত হয়ে শোভাযাত্রাটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করবে। • প্রতিযোগিতা ও সাংস্কৃতিক আয়োজন: নতুন প্রজন্মের মাঝে দেশীয় সংস্কৃতি ছড়িয়ে দিতে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের জন্য চিত্রাঙ্কন ও রচনা প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। • সৌন্দর্য বর্ধন: শহরের বিভিন্ন সড়কে আলপনা অঙ্কিত করা হবে। • মানবিক উদ্যোগ: দিবসটি উপলক্ষে স্থানীয় হাসপাতাল ও এতিমখানাগুলোতে উন্নত মানের খাবার বিতরণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান বলেন: “বাংলা নববর্ষ আমাদের জাতীয় ঐক্যের প্রতীক। অসাম্প্রদায়িক চেতনা নিয়ে আনন্দঘন পরিবেশে নববর্ষ উদযাপনের মাধ্যমে আমরা আমাদের শেকড়কে স্মরণ করতে চাই। এই আয়োজনকে সুন্দর ও সার্থক করতে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক থাকবে। আমি উপজেলার সর্বস্তরের মানুষকে এই উৎসবে স্বতঃস্ফূর্তভাবে শামিল হওয়ার আহ্বান জানাই।” গলাচিপায় নববর্ষের এই প্রস্তুতিকে কেন্দ্র করে স্থানীয় সাংস্কৃতিক অঙ্গন ও সাধারণ মানুষের মাঝে উৎসবের আমেজ পরিলক্ষিত হচ্ছে।