শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ০৮:১৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় যুবলীগের বিক্ষোভ, শেখ হাসিনাসহ নেতাদের বিরুদ্ধে রায় প্রত্যাহারের দাবি। সাতক্ষীরা থেকে প্রকাশিত দৈনিক হৃদয় বার্তার পঞ্চম বর্ষে পদার্পণ উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত সাতক্ষীরায় একাধিক মামলার আসামি আসাদুলের জামিন আবেদন নামঞ্জুর ঝিনাইদহ কালীগঞ্জে বিএনপি নেতা ইসরাইল হোসেন জীবনের ইন্তেকাল জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ রিপোর্টার্স সোসাইটির নবনির্বাচিত কমিটির শপথ গ্রহণ চেয়ারম্যান শেখ মো. ফরিদ আহমেদ চিশতী, মহাসচিব কে.এম. মোহাম্মদ হোসেন রিজভী নির্বাচিত ফলোআপ: কেশবপুরে দম্পতি হত্যার রহস্য উদঘাটন : পরকীয়া প্রেমিক-প্রেমিকা গ্রেপ্তার গলাচিপায় ৫০০ গ্রাম গাঁজাসহ জেসমিন নামের এক নারী আটক বিমানের আর্থিক অনিয়ম ও যান্ত্রিক ত্রুটি নিয়ে সংসদীয় কমিটির কঠোর অবস্থান, চীফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনির সভাপতিত্বে বৈঠক ঢাকা, ২ নভেম্বর ২০২৬: বাংলাদেশ রিপোর্টার্স সোসাইটির নবনির্বাচিত কমিটির পরিচিতি সভা ও শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান মরহুম আঃ আজিজ মাহফুজের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিল ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নতুন উপজেলা গঠনের প্রস্তাব বাতিল চেয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে ইঞ্জিনিয়ার শ্যামলের লিখিত আবেদন।

গলাচিপায় তিন দফা দাবিতে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বিক্ষোভ সমাবেশ

খন্দকার জলিল, স্টাফ রিপোর্টার

পটুয়াখালীর গলাচিপায় এমপিওভুক্ত বেসরকারি স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষক-কর্মচারীরা তাদের তিন দফা ন্যায্য দাবি বাস্তবায়নের দাবিতে এক বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল করেছেন।

মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) সকাল ১১টায় গলাচিপা উপজেলা পরিষদ সম্প্রসারণ ভবনের সামনে উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শত শত শিক্ষক-কর্মচারী অংশগ্রহণে এই বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়।

তাদের তিন দফা দাবি হলো- ১. মূল বেতনের ২০ শতাংশ বাড়ি ভাতা বৃদ্ধি ২️. প্রতি মাসে ১ হাজার ৫ শত টাকা চিকিৎসা ভাতা ৩️. ৭৫ শতাংশ উৎসব ভাতা।

সমাবেশে উপস্থিত শিক্ষকরা জানান, বছরের পর বছর এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা অবহেলা ও বঞ্চনার শিকার হয়ে আসছেন। দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার মূল চালিকাশক্তি হয়েও তারা ন্যূনতম অর্থনৈতিক নিরাপত্তা থেকে বঞ্চিত। শিক্ষকরা বলেন, তাদের বেতন-ভাতা এতটাই অপ্রতুল যে বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে তা দিয়ে সংসার চালানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

বক্তারা বলেন, বর্তমানে দ্রব্যমূল্য লাগামহীনভাবে বেড়ে যাওয়ায় একজন শিক্ষককে মাস শেষে পরিবার চালাতে গিয়ে নানাভাবে হিমশিম খেতে হচ্ছে। শহরে একটি ছোট বাসা ভাড়া নিতে ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা লাগে। অথচ অধিকাংশ শিক্ষকের মাসিক আয় দিয়ে সেই ভাড়া দেওয়া সম্ভব নয়। ফলে অনেকে বাধ্য হয়ে ভাংগা ঘরে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বাস করছেন। চিকিৎসা ভাতা এতটাই সামান্য যে তা দিয়ে কোনো প্রকার চিকিৎসা করানো সম্ভব নয়।
একইভাবে উৎসব ভাতাও নগন্য, যা বর্তমান মূল্যস্ফীতির বাজারে তাদের জীবনে সামান্য স্বস্তিও আনতে পারে না।

তারা আরও বলেন, শিক্ষকরা মানুষ গড়ার কারিগর। তারা সমাজে সুশিক্ষিত নাগরিক তৈরি করেন—ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, প্রশাসনিক কর্মকর্তা সবাই তাদের হাতে গড়ে ওঠে। কিন্তু দুঃখজনকভাবে এই শিক্ষকরাই আজ অর্থনৈতিক অনটনে মানবেতর জীবন-যাপন করছেন। অনেক শিক্ষক নিজ সন্তানদের ভালো শিক্ষা দিতে পারছেন না, যা সমাজের জন্য এক ধরনের লজ্জা।

বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সরকারি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা নানা ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা পেলেও এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা একই কাজ করেও বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। একই বই পড়ানো, একই সময় ক্লাস নেওয়া—সবকিছু এক হলেও বেতন কাঠামোয় পার্থক্য অস্বাভাবিকভাবে বেশি। এই বৈষম্য শিক্ষক সমাজকে হতাশ করছে এবং শিক্ষার মানও এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, প্রতিটি উপজেলায় একটি করে কলেজ ও একটি করে বিদ্যালয় সরকারিকরণ করা হয়েছে। অথচ একই মান ও যোগ্যতার এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে উপেক্ষা করা হয়েছে। এতে শিক্ষক সমাজের মধ্যে গভীর ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। তারা প্রশ্ন তোলেন, “আমরা কি অপরাধ করেছি? একই বই পড়াই, একই পরিশ্রম করি, তাহলে আমাদের এই বৈষম্য কেন?”

শিক্ষকরা দাবি করেন, তারা আর কোনো রাজনৈতিক সুবিধার আশায় নয়—বরং ন্যায্য অধিকার আদায়ের জন্য আন্দোলনে নেমেছেন। তারা জানান, গেজেট প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত এই আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।

গলাচিপার সচেতন নাগরিক সমাজ শিক্ষকদের এই আন্দোলনের প্রতি একাত্মতা প্রকাশ করেছে। তারা বলেন, বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা যে অপ্রতুল বেতনে সংসার চালান, তা একেবারেই অমানবিক। শিক্ষক সমাজ জাতির বিবেক, অথচ তারাই আজ অবহেলিত। সরকারের উচিত দ্রুত শিক্ষকদের ন্যায্য দাবি মেনে নেওয়া।

সমাবেশ শেষে শত শত শিক্ষক-কর্মচারী একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করেন। বিক্ষুব্ধ শিক্ষকরা দাবি জানান, যতদিন তাদের তিন দফা দাবি বাস্তবায়ন না হবে, ততদিন আন্দোলন চলবে। তারা বলেন, এই আন্দোলন বেঁচে থাকার আন্দোলন, সম্মানের আন্দোলন।

গলাচিপা উপজেলা জুড়ে শিক্ষকদের এই ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, সরকারের পক্ষ থেকে ইতিবাচক পদক্ষেপ না এলে এই আন্দোলন আরও ভয়ংকর রূপ ধারন করবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.


ফেসবুকে আমরা