সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ০২:৩৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ
ঐতিহ্য হারাচ্ছে গলাচিপা: এবার হচ্ছে না কাঙ্ক্ষিত বৈশাখী মেলা রাঙামাটিতে ১১ দলীয় ঐক্য জোটের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নের দাবিতে সাতক্ষীরাতে বিক্ষোভ সমাবেশে গোমস্তাপুরে জ্ঞানচক্র একাডেমি সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় সংবর্ধনা ও পুরস্কার বিতরণ করা হয়। গাজীপুরে স্ত্রীর লাশ ঘরে রেখে তালাবন্ধ করে পালিয়েছেন স্বামী শিক্ষার্থীদের মাঝে সচেতনতা ছড়াল কক্সবাজার জেলা পুলিশ কুষ্টিয়ায় মাজার ভাঙচুরের পর অগ্নিসংযোগ পীর নিহত চুয়াডাঙ্গা জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত: সীমান্ত নিরাপত্তা ও মাদক নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত উদ্যোগের ওপর জোর ঝিনাইদহে নবনিযুক্ত জেলা প্রশাসকের সভাপতিত্বে জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত,

খেদাব না তোর ‍উঠান চূষব ভূমিকায় আপন চাচা মৃত্য ভাইয়ের সমপতিত কবজায়ের পায়তারা

নিজস্ব প্রতিবেদক:

বাবার মৃত্যুর পর আশ্রয় হওয়ার কথা ছিল যে চাচা, তিনিই হয়ে উঠলেন এতিম তিন বোনের জীবনের কাল ভোলার লালমোহনে পৈতৃক ভিটা রক্ষার লড়াই আজ পরিণত হয়েছে তিন এতিম বোনের জীবনের সবচেয়ে নির্মম দুঃস্বপ্নে। বাবার মৃত্যুর পর যে চাচার বুকে তারা খুঁজে পেতে পারত নিরাপত্তা, সেই চাচার হাতেই আজ তারা রক্তাক্ত, অসহায় ও নিঃস্ব। দফায় দফায় হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন তিন বোন। তাদের মধ্যে একজন নারী সাংবাদিক—যিনি অন্যায়ের বিরুদ্ধে কলম ধরেন, আজ নিজেই অন্যায়ের নির্মম শিকার। তাদের কান্না ও আর্তনাদে স্তব্ধ পুরো এলাকা। ঘটনাটি ঘটে গত মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) ও বুধবার (২৫ মার্চ) উপজেলার রমাগঞ্জ ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের মনু হাওলাদার বাড়িতে। অভিযোগ উঠেছে, চাচা ইসমাইল হাওলাদার তার সহযোগীদের নিয়ে দেশীয় অস্ত্রসহ এই হামলা চালান। আহতরা হলেন—মৃত আব্দুল হামিদের তিন মেয়ে কুলসুম (৩২), জিনাদ নুসাইবা (২৫) ও রাবেয়া (২২)। গুরুতর আহত কুলসুম বর্তমানে লালমোহন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন। নুসাইবা ‘Chdnews24’সহ বিভিন্ন গণমাধ্যম এবং মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (MRA)-এর সঙ্গে যুক্ত। অন্যায়ের বিরুদ্ধে যিনি কলম ধরেন, আজ তিনিই নিজের জীবনের জন্য লড়ছেন। প্রায় দুই যুগ আগে বাবার মৃত্যুর পর থেকেই শুরু তাদের দুঃখের যাত্রা। উপার্জনের কেউ ছিল না, মাথার ওপর ছিল না কোনো ছায়া। মা শাহানুর তিনটি ছোট মেয়েকে নিয়ে আশ্রয় নেন চট্টগ্রামে। দারিদ্র্য ও সংগ্রামের মধ্যেই বড় হয়ে ওঠে তিনটি কচি প্রাণ। এদিকে, শূন্য বাড়িটি একা থাকেনি। অভিযোগ রয়েছে, সেই সুযোগে পৈতৃক ভিটা দখলে নেন তাদের চাচা ইসমাইল হাওলাদার। বছরের পর বছর তিনি ভোগ করতে থাকেন সেই জমি—যেখানে ছিল তিন বোনের শৈশব, স্মৃতি আর বাবার ভালোবাসা। তিন বছর আগে বড় হয়ে নিজেদের শিকড়ে ফিরে আসে তারা—বুকভরা আশা নিয়ে, নিজেদের ঘরে শান্তিতে থাকার স্বপ্নে। সালিশের মাধ্যমে একটি ছোট ঘর নির্মাণও করেন। কিন্তু সেই ঘরই হয়ে ওঠে তাদের জীবনের সবচেয়ে বড় বিপদের কারণ। মঙ্গলবার কুলসুমের ছোট্ট শিশুপুত্র পুকুরপাড়ে মাছ ধরছিল। হঠাৎ অভিযোগ অনুযায়ী, ইসমাইল হাওলাদার শিশুটিকে মারধর করেন। সন্তানের আর্তচিৎকার শুনে ছুটে আসেন মা ও খালারা। কিন্তু সন্তানকে বাঁচাতে গিয়ে নিজেরাই পড়েন হামলার শিকার। অভিযোগ, ইসমাইল হাওলাদার, তার নাতি ইলিয়াস ও শফিকসহ কয়েকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তিন বোনের ওপর হামলা চালান। এলোপাতাড়ি মারধর ও কুপিয়ে জখম করা হয় তাদের। রক্তে ভিজে যায় সেই উঠান—যেখানে একদিন তারা বাবার কোলে বসে হাসত। পরদিন বুধবার বিচার চাইতে গেলে আবারও নেমে আসে হামলা। প্রাণভয়ে তিন বোন ঘরের দরজা বন্ধ করলে অভিযুক্তরা তাদের চলাচলের পথ কাঁটার বেড়া দিয়ে ঘিরে ফেলে। নিজ বাড়িতেই তারা হয়ে পড়েন অবরুদ্ধ। এমনকি পুকুরের ঘাটলাও উপড়ে ফেলা হয়। পরে খবর পেয়ে পুলিশ এসে তাদের উদ্ধার করে। তবে ভয় ও আতঙ্ক এখনো কাটেনি। আহতদের আকুতি আহত নুসাইবা ও কুলসুম বলেন, “আমাদের ভাইকে ভুলিয়ে-ভালিয়ে জমি লিখে নিয়েছে চাচা। এখন আমাদেরও উচ্ছেদ করতে চায়। আমরা কোথাও বিচার পাচ্ছি না। আমরা শুধু আমাদের পৈতৃক ভিটায় শান্তিতে থাকতে চাই।” অভিযুক্ত ইসমাইল হাওলাদার দাবি করেছেন, জমিটি তার ছেলে কামালের নামে বৈধভাবে দলিল করা। তবে দীর্ঘ ২৫–৩০ বছর ধরে জমিটি তার দখলে থাকার বিষয়টি তিনি স্বীকার করেছেন। এ ঘটনায় লালমোহন থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। লালমোহন থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. অলিউল ইসলাম বলেন, “খবর পেয়ে পুলিশ পাঠিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। বিষয়টি তদন্তাধীন। আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি স্থানীয়ভাবে মীমাংসার চেষ্টাও চলছে।” শেষ কথা পৈতৃক ভিটা—যেখানে থাকার কথা ছিল ভালোবাসা, নিরাপত্তা ও আশ্রয়—সেই ভিটাই আজ তিন এতিম বোনের জন্য রক্তাক্ত যুদ্ধক্ষেত্র। প্রশ্ন থেকেই যায়—এই সমাজে এতিমদের জন্য কি সত্যিই কোনো নিরাপদ আশ্রয় আছে?


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমরা