বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:১৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ
ভালুকায় যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন ঢাকার বিভিন্ন এলাকার ফুটপাত দখলমুক্ত করা হবে: ডিএনসিসি প্রশাসক গলাচিপায় বর্ণাঢ্য আয়োজনে গণঅধিকার পরিষদের ৫ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত টঙ্গীতে সাংবাদিক মহিউদ্দিন রিপনকে অপহরণ, নির্যাতন ও এক কোটি টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ: বাংলাদেশ সেন্ট্রাল প্রেসক্লাবের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ সরাইল থানার ওসি মনজুরুল কাদির ভূঁইয়াকে ঘিরে বিতর্ক, ‘ক্ষমতার উৎস কোথায়’—জনমনে প্রশ্ন। সাতক্ষীরায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মাদ্রাসা শিক্ষকের মৃত্যু গরুর মাংসের নামে ঘোড়ার মাংস বিক্রির অভিযোগ আটক-১ জননিরাপত্তা ও অপরাধ দমনে বিশেষ অবদান: গুণীজন সম্মাননা স্মারক পেলেন ওসি মোঃ হাফিজুর রহমান পিপিএম সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে গ্রেপ্তার, ১৭ দিন কারাভোগের অভিযোগ সাংবাদিক মোঃ জয় সরকারের সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা ও হামলা বন্ধের আহ্বান বাংলাদেশ সেন্ট্রাল প্রেসক্লাবের

কলাপাড়ায় নারী পুলিশ সদস্যের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার: স্বামী পুলিশ হেফাজতে

খন্দকার জলিল, জেলা প্রধান, পটুয়াখালী: কর্তব্যের পোশাকে যিনি মানুষের নিরাপত্তা দিতেন, সেই নারী পুলিশ সদস্য মেহেরুন্নেসা উর্মির (২৮) নিথর দেহ এখন মর্গের হিমঘরে। পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় এক নারী কনস্টেবলের এমন রহস্যজনক মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। শনিবার (২ মে) ভোররাতে উপজেলার টিয়াখালী ইউনিয়নের পশ্চিম বাদুরতলী গ্রামের একটি ভাড়া বাসার বন্ধ ঘর থেকে তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ​নিহত উর্মি কলাপাড়া থানায় কর্মরত ছিলেন এবং তিনি আমতলী পৌর শহরের শাহজাহান মিয়ার মেয়ে। এই ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য উর্মির স্বামী, বহিষ্কৃত পুলিশ সদস্য মহিববুর রহমান বাপ্পীকে (৩১) পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, প্রায় আট মাস আগে দেড় ও চার বছর বয়সী দুই সন্তানকে নিয়ে আমিরুল ইসলামের ভবনের তৃতীয় তলায় সংসার পেতেছিলেন এই দম্পতি। কিন্তু বাইরে থেকে সাজানো মনে হলেও ভেতরে ভেতরে তুষের আগুনের মতো জ্বলছিল তাদের দাম্পত্য কলহ। প্রায়ই তুচ্ছ বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে ঝগড়া-বিবাদ লেগেই থাকতো। ঘটনার রাতেও এর ব্যতিক্রম হয়নি। গভীর রাত পর্যন্ত স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা চলে। একপর্যায়ে বাপ্পী ঘর থেকে বাইরে বেরিয়ে যান। বাপ্পীর দাবি অনুযায়ী, কিছুক্ষন পর ফিরে এসে তিনি দেখেন ভেতর থেকে দরজা আটকানো। অনেক ডাকাডাকির পর সাড়া না পেয়ে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে তিনি স্তব্ধ হয়ে যান। দেখেন, ফ্যানের সাথে নিথর অবস্থায় ঝুলে আছেন উর্মি। রাত দেড়টার দিকে খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহটি উদ্ধার করে। যে মা কিছুক্ষণ আগেও সন্তানদের আগলে রেখেছিলেন, সেই মায়ের এমন প্রস্থানে অবুঝ শিশু দুটির কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে চারপাশ। ​ নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পটুয়াখালী মর্গে পাঠানো হয়েছে। কলাপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ মো. নজরুল ইসলাম জানান, “প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে মনে হলেও এর পেছনে অন্য কোনো রহস্য বা প্ররোচনা আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পেলেই মৃত্যুর আসল কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।” ​উর্মির মৃত্যুটি কি কেবলই অভিমান থেকে আসা আত্মহত্যা, নাকি এর নেপথ্যে অন্য কিছু লুকিয়ে আছে—সেই প্রশ্ন এখন কলাপাড়ার সাধারন মানুষের মুখে মুখে। পুলিশ বলছে, তদন্ত শেষে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.


ফেসবুকে আমরা