শনিবার, ৩০ মে ২০২৬, ০৩:৫৫ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন মানবাধিকার ও সাংবাদিক নেতা সেহলী পারভীন নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন ঈদ উদযাপনে পাশে আছে আরএমপি: পুলিশ কমিশনার আদালতের আদেশকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে উত্তর হালিশহর গলিচিপা পাড়ায় জোরজবদস্তি, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ। নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলা করেছিল জামায়াত-শিবিরের ক্যাডাররা: রাশেদ খাঁন বেগম খালেদা জিয়া স্মৃতি সংসদের চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আহ্বায়ক কমিটির সদস্য হলেন সাংবাদিক এম. সফিউল আজম চৌধুরী আটঘরিয়ায় পলিথিনে মোড়ানো বটগাছের শিকড়ের মাঝখান থেকে আধা কেজি ওজনের একটি মূর্তি উদ্ধার তালায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২ ঈদুল আযহার শুভেচ্ছাসহ ধলীগৌরনগরের গণমানুষের নেতা মাসুদ করিম নিরব আবারও আলোচনায় পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে তানোর বাসীদের এম,এ,মালেক মন্ডলের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন এবং ঈদ মোবারক। গোমস্তাপুরে প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার বিতরণ

শৈলকুপায় লোমহর্ষক জোড়া খুনের আসামীরা বিদেশে পালাচ্ছে

মোঃ শাকিল রেজা সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টারঃ

ঝিনাইদহের শৈলকুপায় একইসাথে লোমহর্ষক দুই সহদর খুনের অভিযুক্তরা এখন বিদেশমুখী। আদালতে বিচারাধীন মামলাটির কার্যক্রম শেষদিকে, স্বাক্ষ্যপ্রমাণ, আদালতে চলমান ন্যায় বিচারের আগাম আভাষ এবং ভবিষ্যত অন্ধকারের অজানা আতঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে পাড়ি জমানোর কার্যক্রমে ঝুঁকে পড়েছে বলে বাদী পরিবার থেকে অভিযোগ উঠেছে।
তথ্য অনুসন্ধান ও সরেজমিনে এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০২০ সালের ১১ মে উপজেলার ধূলিয়াপাড়া গ্রামের ঝিনাইদহ পলিটেকনিক ইনষ্টিটিউটের শেষ বর্ষের ছাত্র অভি ও তার ভাই লাল্টুকে একই গ্রামের অভিযুক্তরা নির্মমভাবে জোটবদ্ধ হয়ে বাদী’র বাড়ির উপর গিয়ে হত্যা করে। দুই ভাইকে নৃশংস খুনের হৃদয়বিদারক সে ঘটনা তৎকালীন প্রশাসন ও সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক ক্ষোভ অসন্তোষ সৃষ্টি করে।
নিহতের মা-বাবা, আত্মীয় পরিজনদের মাঝে নেমে আসে শোকের ছায়া।
শৈলকুপা থানায় ১২৪/২০ জিআর মামলা তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই শামসুর রহমান আসামীদের তথ্য অনুসন্ধানে ব্যাপক সফলতা লাভ করে মামলার প্রতিবেদন দাখিল করেন।
জহুরুল ইসলাম জিরো, মুকুল হোসেন, কালাম হোসেন, মিরাজ হোসেন, সোহেল খাঁ, শরিফ খাঁ, হাসিব খাঁ, আশা খাঁ, আলী খাঁসহ এজাহার নামীয় ৪৬ জনসহ মোট ৫২ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশীট করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা।
বর্তমানে মামলাটি এসসি ৮৮৫/২১ আকারে রুপান্তর হয়ে অতিরিক্ত জেলা জজ দ্বিতীয় আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। এলাকাঘুরে জানা গেছে মামলার কার্যক্রম শেষ পর্যায়ে খুব শিঘ্রই রায় চুড়ান্ত হতে পারে, পূর্বতন তথ্য অনুসন্ধান ও বিচারিক আদালতে ন্যায় বিচারের আগাম আভাস অনুভব করে অভিযুক্তরা বিদেশ গমনে মরিয়া হয়ে উঠেছে। এরই মাঝে ১৯নং অভিযুক্ত হোসেন আলী পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে সৌদি আরব পাড়ি জমিয়েছেন। আরো অন্তত ২০ জনের অধিক পাসপোর্ট সম্পন্ন করেছে বলে বিভিন্ন অফিসে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে।
এছাড়াও ৭/৮ জন অভিযুক্ত দেশ ত্যাগের আশায় সমুদ্বয় কাগজপত্র প্রায় সম্পন্ন করেছে বলে বিশ^স্থ সূত্রে জানা গেছে।
মামলা তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই শামসুর রহমান বলেন, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলাটি শেষ পর্যায়ে আগামী ১৬ জুলাই সর্বশেষ তার স্বাক্ষী রয়েছে। অভিযুক্তদের সাথে তার যোগাযোগ নেই তবে ঢাকার একটি চক্রের সাথে যোগসাজস করে অভিযুক্তরা বিদেশ পাড়ি জমাতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন। এছাড়াও বাদীপক্ষকে তিনি পুলিশের সহযোগিতা নেয়ারও পরামর্শ দিয়েছেন।
তদন্তকারী কর্মকর্তা জানান, ৪১নং অভিযুক্ত নজরুল ইসলাম সর্দার ১৬৪ ধারায় জবানবন্দীতে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে হত্যাকান্ডের সম্পূর্ণ ঘটনার বিবরণসহ সত্যতা ও দায় স্বীকার করেছেন। জোড়া খুনের এ মামলায় বাদীপক্ষকে সর্বাত্বক আইনী সহায়তা এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আদালতে সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানানো হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
ধুলিয়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দা খোকন আহম্মেদ বলেন, দুই সহোদর হত্যায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আদালতে চলমান মামলাটি শেষ পর্যায়ে, বাদীপক্ষ ন্যায় বিচার পেতে পারে এমন আশঙ্ককায় অভিযুক্তরা এলাকা ছেড়ে বিদেশের মাটিতে কর্ম খুঁজছে। এধরনের মামলায় অভিযুক্তরা দেশত্যাগের খবরে হত্যাকান্ডের শিকার অভি ও লাল্টুর পরিবার উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে।
মামলার অন্যতম স্বাক্ষী লুৎফর মন্ডল জানান, বাদী মকবুল হোসেন হৃদক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা যাওয়ার পর থেকে অভিযুক্তরা বিভিন্ন এলাকায় বিভ্রান্তি ছড়িয়ে ফায়দা লোটার চেষ্টা চালাচ্ছে, এরই মধ্যে তাদের বিদেশগমনে প্রস্তুুতির খবরটি বেশ দূঃখজনক।
বাদীপক্ষের আইনজীবি নেকবর হোসেন জানান, ইতমধ্যে ধুলিয়াপাড়া গ্রামের জোড়া খুনের ঘটনায় মামলাটির সব ধরনের স্বাক্ষি ও জেরা সম্পন্ন হয়েছে।
শুধুমাত্র তদন্তকারী কর্মকর্তার জেরা আগামী ১৬ জুলাই সম্পন্ন হলে মামলাটির যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে অতি সন্নিকটে চুড়ান্ত রায় প্রকাশ হবে বলে মন্তব্য করেন।
শৈলকুপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুম খান জানান, অনেক গুরুতর মামলার অভিযুক্তরা নিজেকে আড়াল করতে চিকিৎসা, ধর্মীয় বিষয় কিংবা বিশেষ অজুহাত দেখিয়ে আদালতের আদেশ নিয়ে আসেন সেক্ষেত্রে থানা পুলিশের কিছু করার থাকেনা। তবে বাদীপক্ষ স্বজাগ থাকলে উক্ত বিষয়টি আদালতেই সমাধান করতে পারেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.


ফেসবুকে আমরা