রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬, ০২:০১ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
বর্ষসেরা রিপোর্টার’ সম্মাননায় ভূষিত আহসান হাবিব মিলন শিবগঞ্জে প্রশাসককে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে অবৈধ পুকুর খনন করছেন ইউপি সদস্য। আব্দুল আজিজ সাতক্ষীরায় দুর্নীতিবিরোধী সামাজিক আন্দোলনের অভিজ্ঞতা বিনিময় সভা অনুষ্ঠিত সুন্দরবনে দুলাভাই বাহিনীর সঙ্গে কোষ্টগার্ডের বন্দুক যুদ্ধে নিহত-১ আটক-২ সরাইলে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায় সংরক্ষিত মহিলা ইউপি সদস্য গ্রেপ্তার গোদাগাড়ীতে ঠিকাদারের লাইসেন্সে চেয়ারম্যান-মেম্বারদের কাজ পরিচালনার অভিযোগ, অনিয়মে বন্ধ ড্রেন নির্মাণকাজ আটঘরিয়ার কয়ড়াবাড়ি রত্নাই নদীতে ডুবে শিশু শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক মৃত্যু গলাচিপায় ৩ দিনব্যাপী ‘ক্লাইমেট স্মার্ট কৃষি প্রযুক্তি মেলা-২০২৬’ এর উদ্বোধন টেকনাফ শীলখালীতে ৪৬ হাজার ইয়াবাসহ আটক ১ চন্দ্রগঞ্জে যুব জামায়াতের মাদকবিরোধী মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত

নীলফামারীর মেয়ে শিক্ষিকা মাহেরীন চৌধুরী দগ্ধ শরীর নিয়ে ২০ শিশুকে বাঁচিয়ে তিনিও না ফেরার দেশে।

আশীষ বিশ্বাস

নীলফামারী প্রতিনিধি

রাজধানীর উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ক্যাম্পাসে বিমানবাহিনীর প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় যখন শোকের মাতম, তখন এক শিক্ষিকার আত্মত্যাগের গল্প উঠে এসেছে, যা সবাইকে স্তম্ভিত করেছে। ওই ভয়াবহ মুহূর্তে অন্তত ২০ জন শিক্ষার্থীকে নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচিয়ে নিজে প্রাণ হারিয়েছেন শিক্ষিকা মাহেরীন চৌধুরী। মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের কর্মরত নীলফামারী জেলার জলঢাকা পৌর শহরে র বগুলা গাড়ি চৌধুরী পাড়া মহিতুর চৌধুরীর মেয়ে মাহেরিন চধুরী।

এদিন দুপুরে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ বিমান মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রাইমারি সেকশনের একটি ভবনে বিধ্বস্ত হয়। দুর্ঘটনার সময় ওই ভবনে ক্লাস চলছিল, যেখানে বহু শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিল।
প্রত্যক্ষদর্শী ও উদ্ধারকর্মীদের সূত্রে জানা গেছে, বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার পর যখন আগুন ও ধোঁয়ায় চারদিক ছেয়ে যায়, তখন শিক্ষক মাহেরীন নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে শিক্ষার্থীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে শুরু করেন। তিনি দ্রুততার সঙ্গে আতঙ্কিত শিশুদের বের করে আনার চেষ্টা করেন।
তার প্রচেষ্টায় অন্তত ২০ জন শিক্ষার্থী অক্ষত বা সামান্য আহত অবস্থায় ভবন থেকে বের হতে সক্ষম হয়। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, এই বীরত্বপূর্ণ কাজ করতে গিয়েই তিনি নিজে আটকা পড়েন এবং শেষ পর্যন্ত প্রাণ হারান।

উদ্ধার অভিযানে থাকা এক সদস্যও ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। এক অভিভাবক বলেন, ম্যাডাম অনেক ভালো ছিল। সেনাবাহিনী আমাদের বলেছে— শিক্ষিকার জন্য অন্তত ২০ জন শিক্ষার্থী বেঁচে গেছেন।

এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১৯ জন নিহত এবং ১৭১ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ৫০ জনের বেশি দগ্ধ অবস্থায় জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন আছেন। সরকার এই ঘটনায় মঙ্গলবার (২২ জুলাই) একদিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে এবং দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া চলছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.


ফেসবুকে আমরা