মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১২:০৪ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
গোমস্তাপুরে জুলাই শহীদ দিবস যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত উখিয়ায় বিজিবির পৃথক অভিযানে ইয়াবা ও সার জব্দ, আটক ৫ টেকনাফ-উখিয়ায় র‌্যাবের অভিযানে সাজাপ্রাপ্ত দুই পলাতক আসামি গ্রেপ্তার ‎দূর্গাপুরে পালিত হলো জুলাই শহীদ দিবস ও নবাগত ইউএনও’র যোগদান ‎ জলাবদ্ধতায় পানিবন্দী মানুষের স্বাস্থ্যসেবায় আমিনুল হক, পল্লবীর ৬ স্থানে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প আইনি প্রক্রিয়ায় মান্দায় গাছ অপসারণ: সড়ক প্রশস্ত ও ফসলি জমি রক্ষার উদ্যোগ গাড়াগঞ্জকে নতুন উপজেলা ও পৌরসভা ঘোষণার দাবিতে শৈলকূপায় মানববন্ধন, ঝিনাইদহে নানা কর্মসূচিতে ‘জুলাই শহীদ দিবস’ পালিত, কালুখালীর মারামারিতে পাংশা বনিক সমিতির সেক্রেটারির নামে মিথ্যা মামলার অভিযোগ। উত্তরায় সড়ক দুর্ঘটনায় দুই সাংবাদিকের মৃত্যু: বাংলাদেশ সেন্ট্রাল প্রেস ক্লাবের গভীর শোক, সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের জবাবদিহির দাবি

রাজনগরে উঠানের ৮ ফুট নিচে গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার

রাজনগর উপজেলা প্রতিনিধি

নিখোঁজের ১৮ দিন পর স্বামীর স্বীকারোক্তিতে মিলল লাশ, গ্রেপ্তার ৪

মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলায় নিখোঁজের ১৮ দিন পর এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। উপজেলার মুন্সীবাজার ইউনিয়নের করিমপুর চা বাগান এলাকায় নিজ বসতবাড়ির উঠানের প্রায় ৮ ফুট গভীর মাটির নিচে পুঁতে রাখা অবস্থায় জাহেদা বেগম (৩৮)-এর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সোমবার (৬ জুলাই) নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে খননকাজ পরিচালনা করে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গত ১৮ জুন থেকে জাহেদা বেগম নিখোঁজ ছিলেন। এ সময় স্বজন ও প্রতিবেশীরা তার খোঁজ জানতে চাইলে স্বামী আলমগীর আলী দাবি করেন, তার স্ত্রী বিদেশে চলে গেছেন। তবে দীর্ঘদিনেও কোনো খোঁজ না পাওয়ায় একই ইউনিয়নের সোনাটিকী গ্রামের বাসিন্দা নিহতের বাবা আব্দুল হান্নান গত ৩ জুলাই রাজনগর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

জিডির তদন্তে পুলিশ আলমগীর আলীকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে প্রথমে তিনি বিভ্রান্তিকর তথ্য দেন। পরে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদে স্ত্রীকে হত্যার কথা স্বীকার করেন। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী বাড়ির উঠানের সামনে প্রায় ৮ ফুট গভীর গর্ত খুঁড়ে মরদেহ মাটি চাপা দিয়ে রাখা হয়েছিল।

স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে জেলা পুলিশ সুপার মনিরুল ইসলাম ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বিপুল সিকদারের উপস্থিতিতে ঘটনাস্থলে খননকাজ চালানো হয়। পরে মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

এ ঘটনায় নিহতের স্বামী আলমগীর আলী (৪০), জালাল আহমদ, আমিনুল ইসলাম ও নুরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। হত্যাকাণ্ডে তাদের সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, জাহেদা ও আলমগীর দম্পতির ছয় বছর বয়সী একটি ছেলে সন্তান রয়েছে।

মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপার মনিরুল ইসলাম জানান, নিখোঁজের ঘটনায় জিডি হওয়ার পর তদন্তের অংশ হিসেবে আলমগীর আলীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। একপর্যায়ে তিনি স্ত্রীকে হত্যার বিষয়টি স্বীকার করেন। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী বাড়ির উঠান থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে দাম্পত্য কলহের জেরে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং অন্য কারও সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

এ বিভৎস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুরো এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে মামলার পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.


ফেসবুকে আমরা