রিনা আক্তার আখি,স্টাফ রিপোর্টার:
রাজধানীর দক্ষিণখান এলাকার নিপা গার্মেন্টসে সম্প্রতি দুটি গরু মানত করা হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অতীতেও প্রতিষ্ঠানটিতে প্রতিবছর তিন থেকে পাঁচটি গরু মানত করার প্রচলন ছিল। তবে বিগত দুই বছর এ ধরনের কোনো মানত করা হয়নি।
এলাকার কিছু মানুষের বিশ্বাস, মানত বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর থেকেই গার্মেন্টসে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা ও অস্থিরতা দেখা দিতে শুরু করে। তাদের ধারণা, পুনরায় মানত করার মাধ্যমে আল্লাহর রহমতে এসব সমস্যা দূর হতে পারে। তবে সমাজের অনেকেই এ ধরনের বিশ্বাসকে কুসংস্কার হিসেবে দেখেন। প্রকৃত সত্য ও কল্যাণের বিষয়টি একমাত্র মহান আল্লাহই ভালো জানেন।
ইসলামে মানতের বিষয়টি রয়েছে। তবে মানত কেবল আল্লাহর উদ্দেশ্যেই হওয়া উচিত—এ বিষয়ে আলেমদের মধ্যে ব্যাপক ঐকমত্য রয়েছে। অন্যদিকে, আমাদের সমাজে দীর্ঘদিন ধরে ওলি-আউলিয়াদের দরগা বা মাজারকে কেন্দ্র করে মানত করার একটি সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় ঐতিহ্যও বিদ্যমান। অনেকে মনে করেন, এটি তাদের পারিবারিক বিশ্বাস ও আধ্যাত্মিক অনুশীলনের অংশ। আবার অন্যরা এ বিষয়ে ভিন্নমত পোষণ করেন। ফলে বিষয়টি নিয়ে সমাজে নানা ধরনের মতামত রয়েছে।
অনেক প্রবীণ মানুষ বলেন, ছোটবেলা থেকে তারা দেখেছেন, কোনো রোগ-ব্যাধি, বিপদ বা মুসিবতের সময় পরিবারের মুরুব্বিরা মানত করতেন এবং আল্লাহর কাছে দোয়া চাইতেন। তাদের বিশ্বাস ছিল, আল্লাহ তাআলা দোয়া কবুল করলে সমস্যা দূর হয়ে যায়। তবে এই বিশ্বাস ও এর চর্চা নিয়ে বর্তমানে সমাজে ভিন্নমত ও বিতর্ক রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো প্রতিষ্ঠানে সমস্যা দেখা দিলে শুধু ধর্মীয় বা সামাজিক বিশ্বাসের ওপর নির্ভর না করে বাস্তব কারণও খতিয়ে দেখা জরুরি। শ্রমিকদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, সময়মতো বেতন-ভাতা প্রদান, অগ্নিনিরাপত্তা, কর্মক্ষেত্রের স্বাস্থ্যবিধি এবং ব্যবস্থাপনার উন্নয়নের প্রতিও সমান গুরুত্ব দিতে হবে।
মানত উপলক্ষে অসহায় ও ক্ষুধার্ত মানুষের মাঝে খাবার বিতরণ, দান-সদকা এবং আল্লাহর কাছে আন্তরিক দোয়া নিঃসন্দেহে উত্তম কাজ। মহান আল্লাহ তাআলা সকল পোশাকশ্রমিককে সুস্থ, নিরাপদ ও কল্যাণে রাখুন এবং দেশের গার্মেন্টস শিল্পে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধি দান করুন—এটাই সবার প্রত্যাশা।