খন্দকার জলিল-স্টাফ রিপোর্টার
পটুয়াখালীর গলাচিপায় মো. আমরান (১৬) নামে দশম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার (৩০ আগস্ট) বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে গলাচিপা পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের শেরে বাংলা রোডে তারা চৌরাস্তার অবসরপ্রাপ্ত শাহআলম মিয়ার বাসায় ভাড়া থাকা ঘর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
আমরান গলাচিপা সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী। সে মৃত ওয়াসিম দফাদারের ছেলে। তার মা সাবিনা সুলতানা লিয়া দ্বিতীয় বিয়ে করে বর্তমানে মেহেরপুরে বসবাস করছেন। দুই ভাইয়ের মধ্যে আমরান ছোট। বড় ভাই উৎসর বিবাহিত। স্ত্রী সন্তানসম্ভবা হওয়ায় তিনি বর্তমানে ঢাকায় অবস্থান করছেন। ফলে ঘটনার সময় বাসায় কেউ ছিলেন না।
আমরানের নানী নাজমুন্নাহার বেগম বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে বাসায় গিয়ে দরজা ভেতর থেকে বন্ধ পান। বারবার ডাকাডাকি করেও সাড়া না পেয়ে জানালা দিয়ে তাকিয়ে দেখেন, ঘরের ভেতর আমরান ফ্যানের সাথে ঝুলছে। তার আর্তচিৎকারে প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন এবং দরজা ভেঙে মরদেহ নিচে নামান। কিন্তু তখন আর কিছু করার ছিল না।
ঘটনার খবর পেয়ে গলাচিপা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে। পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় ময়নাতদন্ত করা হয়নি।
পুলিশ জানায়, ঘটনাস্থল থেকে আমরানের ব্যবহৃত স্মার্টফোন উদ্ধার করা হয়েছে। সেখানে সর্বশেষ কথোপকথন হয়েছে ‘রোদেলা’ নামের এক মেয়ের সঙ্গে। খাটের ওপর পাওয়া একটি ছবিও স্থানীয়রা রোদেলার বলে শনাক্ত করেছেন। পুলিশ ধারণা করছে, প্রেমঘটিত কোনো ভুল বোঝাবুঝির কারণেই আমরান হয়তো আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছে।
গলাচিপা থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আশাদুর রহমান বলেন, “আমরানের মৃত্যুর ঘটনায় প্রাথমিকভাবে প্রেমঘটিত বিষয় জড়িত থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয়রা জানান, বড় ভাই উৎসর ছোট ভাই আমরানকে খুব স্নেহ করতেন। ভাইকে একা ফেলে যেতে চাইতেন না, সব সময় পাশে থাকতেন। আর আমরানও ভাই ছাড়া কিছু ভাবত না। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস— উৎসরকে এভাবে ছোট ভাইয়ের নিথর দেহ দেখতে হলো। আমরানের মৃত্যুতে পরিবারসহ গোটা এলাকায় শোকের ছায়া বিরাজ করছে।