মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬, ০৭:৪২ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
ধলীগৌরনগর দাখিল মাদ্রাসায় সরকারি পাঠ্যবই সরিয়ে বিক্রির অভিযোগ, এলাকাজুড়ে তোলপাড় আকবরশাহ থানার বিশেষ অভিযানে ৯ কেজি গাঁজাসহ দুই মাদক কারবারি গ্রেফতার। জাহিদ ইকবাল জাহাঙ্গীরের কলমে ‘মতলবী’—সমাজবাস্তবতার অনন্য কাব্যচিত্র আলোচনা সমালোচনা, নিন্দা আর অসুস্থতাকে জয় করে মানুষের অধিকারের লড়াইয়ে অদম্য শারমিন আরা দূর্গাপুরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচার রোধে, আলোচনা সভা মনপুরায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে মসজিদের ৪-৫ লাখ টাকার ক্ষতি, সহায়তার আবেদন আটঘরিয়ায় বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে নবাগত ইউএনও’র মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত  গোমস্তাপুরে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন নেত্রকোনায় প্রবাসীর সম্পত্তি দখলের পাঁয়তারা! জাল দলিলের অভিযোগ মনপুরায় মাদক সরবরাহের সময় গাঁজাসহ দুই মাদককারবারি আটক, জেল হাজতে প্রেরণ।। সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার মোঃ শাকিল খান রাজু ভোলার মনপুরায় মাদক সরবরাহের সময় দুই মাদককারবারিকে গাঁজাসহ আটক করে পুলিশ। রোববার দুপুর দেড় টায় মাদক আইনে মামলা দায়ের পর আদালতের মাধ্যমে ভোলা জেল হাজতে প্রেরণ করে পুলিশ। এর আগে শনিবার রাতে উপজেলার দক্ষিণ সাকুচিয়া ইউনিয়নের সিকদার হাটের মুদি দোকানের সামনে থেকে এক মাদককারবারি ও অপর এক মাদককারবারীকে হাজিরহাট ইউনিয়নের ফকিরহাট বাজার থেকে আটক করে পুলিশ। এই দুই মাদককারবারির কাছ থেকে ৭০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়। আটককৃত দুই মাদককারবারি হলেন, মজির উদ্দিন ও রাজিব। উভয়ের বাড়ি উপজেলার হাজিরহাট ইউনিয়নের চরফৈজুদ্দিন গ্রামের ৮ ওয়ার্ডে। এই বিষয়ে মনপুরা থানান অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাজাহারুল ইসলাম জানান, আটককৃত দুই মাদককারবারিকে মাদক আইনে মামলা দায়ের পর আদালতের মাধ্যমে ভোলা জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়।

কালীগঞ্জে এমইউ কলেজের খেলার মাঠটি যেন মশা-জীবাণুর আবাসস্থল!

মোঃ শাকিল রেজা সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টারঃ

এক সময়কার ঝিনাইদহ কালীগঞ্জের এম ইউ ডিগ্রী কলেজ ছিল দক্ষিনবঙ্গের হাতে গোনা সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠগুলোর মধ্যে অন্যতম। প্রতিষ্ঠানটির মুল ক্যাম্পাস ছিল গাছের ছায়ায় সুশীতল। যেখানে শিক্ষার্থীরা অবস্থান নিয়ে ক্যাম্পাস জমিয়ে রাখতো। আর বিকাল হলেই বিশাল খেলার মাঠটি খেলাধুলায় মুখরিত থাকতো। অন্যদিকে বৈশাখ আসলেই জাকজমকের সঙ্গে বসতো বৈশাখী মেলাসহ নানা বিনোদনের আসর। প্রতিবছর এ মাঠের ঈদগাহ ময়দানে অনুষ্ঠিত হতো বিশাল ঈদের জামায়াত। কিন্ত আজকের দিনে এগুলো যেন এক সোনালী অতীত। কেননা দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় ধরে কলেজটির ক্যাম্পাস ও খেলার মাঠটির পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় দীর্ঘ জলাবদ্ধতায় এ যেন মশা মাছি আর রোগ জীবানুর আবাসস্থলে পরিণত হয়েছে। এক কথায় সকলের সামনেই যেন একটি জীবন্ত মাঠের মৃত্যু ঘটে গেছে। শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীর দাবি, ফিরিয়ে দেয়া হোক তাদের সেই কোলাহলপূর্ণ ক্যাম্পাস আর খেলার মাঠ।

সরেজমিনে কলেজটির ক্যাম্পাসে গেলে দেখা যায়, মাঠটির বৃষ্টির পানি নিষ্কাষনের কোন ব্যবস্থা নেই। ফলে হাঁটু পানি জমে আছে। যেখানে ভরে গেছে উচু ঘাস লতাপাতায়। মাঠের যে কোন প্রান্তে দাঁড়িয়ে অপরপ্রান্ত পর্যন্ত দেখলে মনে হচ্ছে এ যেন জলাবদ্ধ এক নিম্নভূমি। আর দীর্ঘদিন জমে থাকা বদ্ধ কালো রঙের পানি প্রমান করছে এ যেন জীবানু উৎপাদনের এক মহাউদ্যান। জমে থাকা লতাপাতা বনজঙ্গলে সাপ ব্যাঙ আর মশামাছির স্থায়ী আবাসস্থলে পরিণত হয়েছে। এ দিকে ঐতিহ্যবাহী এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির পুরাতন মুল ভবনের সামনেও দেখা যায় একই অবস্থা। সেখানে পানি জমে থাকা স্যাঁতসেতে কাঁদা পানির মধ্যে দাঁড়িয়ে থাকা ক্যাম্পাসটিতে ছায়া সুশীতল রাখার অনেকগুলো গাছের মধ্যে বেশিরভাগই মারা গেছে। শুকনো গাছগুলো প্রমান করছে জলাবদ্ধতার অভিশাপই এখন কলেজটির এক বিরাট সমস্যা।

জানা গেছে, ১৯৬৬ সালে যশোর – ঝিনাইদহ মহাসড়কের পাশে শহরের নিমতলা বাসস্ট্যান্ডের একটু উত্তর পাশে প্রতিষ্ঠা করা হয় মাহতাব উদ্দীন ডির্গ্রী কলেজ। সে সময়ে এ এলাকার মধ্যে এটিই ছিল একমাত্র বিদ্যাপীঠ। কলেজটির পরিবেশ, ফলাফলসহ অন্যান্য সুযোগ সুবিধার কোন কমতি ছিলনা। যে কারনে ধীরে ধীরে আশপাশের জেলা থেকেও অনেক শিক্ষার্থী এ কলেজটিতে ভর্তি হতে থাকে। সকাল হলেই শিক্ষার্থীদের পদচারনায় মুখরিত থাকতো। ফলে প্রতিষ্ঠানটি দক্ষিণবঙ্গের মধ্যে অন্যতম ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়। কিন্ত বর্তমানে কলেজ ক্যাম্পাসটিতে সব সময় ভূতুড়ে পরিবেশ বিরাজ করে। পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় এমন পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে।

কলেজের বানিজ্য বিভাগের অনার্স ২য় বর্ষের শিক্ষার্থী বৈশাখী দাস জানান, তাদের কলেজের মাঠে সব সময় হাঁটু পানি জমে থাকে। মুল ক্যাম্পাস থেকে শুরু করে কলেজের ভিতরকার মাঠ পর্যন্ত কোথাও দাঁড়ানোর পরিবেশ নেই। কলেজের ক্লাস শেষ হওয়ার পর তাদেরকে শুধু কলেজের ভিতরকার সড়কের ওপর দাঁড়িয়ে থাকা লাগে। আবার লাগাতর ভারী বর্ষা হলে সেই সড়কের উপরেও পানি জমে যায়। কলেজটির ক্যাম্পাস জুড়েই সারাবছর স্যাঁতসেতে পরিবেশ বিরাজ করে। এই শিক্ষার্থীর ভাষ্য, দেশের আর কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ১৪/১৫ বছরের অধিক সময় ধরে এমন পরিবেশ আছে বলে মনে হয় না।

এমরান হোসেন নামের আরেক শিক্ষার্থী জানায়, ক্যাম্পাস ও খেলার মাঠে পানি জমে থাকার কারনে তারা সমস্ত অনুষ্ঠান ও খেলাধুলা থেকে বঞ্চিত। কলেজের মাঠ, ক্যাম্পাসটি এখন মশা মাছি রোগ জীবানু পালনের খামারে পরিণত হয়ে গেছে। এই শিক্ষার্থী আরও বলেন, কলেজের মুল ক্যাম্পাসটিতে অনেক গাছ লাগানো ছিল। যে গাছগুলো কলেজটির শোভাবর্ধনসহ সুশীতল ছায়া দিত। পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় প্রায় সব গাছগুলোয় মারা গেছে। জলাবদ্ধতার কারনেই কলেজটির পরিবেশগত সবদিক নষ্ট হয়ে গেছে অথচ কারও কোন মাথা ব্যথা নেই।

আবু তালেব লস্কর নামের কলেজপাড়ার এক বাসিন্দা জানান, কলেজটির পাশেই তার বাড়ি। ছোটবেলায় তারা এই কলেজ মাঠে খেলা করেছেন। এ মাঠেই এক সময় বৈশাখী মেলা, বিভিন্ন ধরনের খেলাধুলার টুর্ণামেন্ট অনুষ্ঠিত হতো। তখন কলেজটির মাঠে ঢুকলে প্রান জুড়িয়ে যেতো। কিন্ত এখন সে সবের কিছুই নেই। বিশাল মাঠটি জলাবদ্ধতায় স্থায়ী বনজঙ্গলে রুপ নিয়েছে। এ কলেজের মাঠে একটি ঈদগাহ রয়েছে। যেখানে এক সময় ঈদের নামাজের বড় জামাত অনুষ্ঠিত হতো। কিন্ত বিগত প্রায় দেড় যুগ ধরে মাঠের এমন অবস্থায় এখানে আর ঈদের জামায়াত হয় না।

তিনি আরও বলেন, এই কলেজের পাশ দিয়ে একটি খাল ছিল। যে দিক দিয়ে কলেজের পানি নিষ্কাশন হতো। কিন্ত বিগত সরকারের আমলে এই খালের উপরেই একটি মহল সরকারী জায়গাতে অপরিকল্পিতভাবে একটি মার্কেট তৈরী করে নিজেদের আয়ত্বে নেয়। যে কারনে পানি মাঠের দিকে যেতে বাধা সৃষ্টি হয়। এখন এর পাশ দিয়ে একটি চিকন অগভীর নালা আছে সেটিও পরিষ্কার করে না পৌর কর্তৃপক্ষ ফলে কলেজের পানি কলেজ ক্যাম্পাসটিতেই থেকে যায়।

কলেজটির ক্রিড়া শিক্ষক মোঃ ওয়ালিয়ার রহমান সত্যতা স্বীকার করে বলেন, খেলার মাঠটিতে দীর্ঘদিন পানি জমে থাকার কারনে এখানে কোন খেলাধুলা হয় না। এটা নিজের কাছেও খারাপ লাগে।

কলেজটির দাতা সদস্য আলহাজ¦ মাহাবুবার রহমান জানান, স্নাতক পর্যায়ের দিক দিয়ে এ কলেজটি দেশের দক্ষিাণাঞ্চালের মধ্যে অন্যতম। ৬ একর জমির ওপর ১৯৬৬ সালে কলেজটি প্রতিষ্ঠিত হয়। এটি কালীগঞ্জের মানুষের সম্পদ। কিন্ত বিগত সরকারের আমলের দীর্ঘ অবহেলায় কলেজটি সকল দিক ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে গেছে। কলেজটির ভিতরে ঢুকলে মনে হয় এ যেন পরিত্যক্ত এক জঙ্গলখানা।

এ ব্যাপারে সরকারি মাহতাব উদ্দিন কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর চিন্ময় বাড়ৈ জানান, তিনি কিছুদিন আগে কলেজটিতে যোগদান করেছেন। এটি একটি ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কিন্ত মাঠ ও ক্যাম্পাসে সব সময় পানি জমে থাকে। তিনি বলেন এটি দীর্ঘদিনের সমস্যা। পানি নিষ্কাশনের জন্য ইতোমধ্যে উপজেলা প্রশাসন ও পৌর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.


ফেসবুকে আমরা

মনপুরায় মাদক সরবরাহের সময় গাঁজাসহ দুই মাদককারবারি আটক, জেল হাজতে প্রেরণ।। সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার মোঃ শাকিল খান রাজু ভোলার মনপুরায় মাদক সরবরাহের সময় দুই মাদককারবারিকে গাঁজাসহ আটক করে পুলিশ। রোববার দুপুর দেড় টায় মাদক আইনে মামলা দায়ের পর আদালতের মাধ্যমে ভোলা জেল হাজতে প্রেরণ করে পুলিশ। এর আগে শনিবার রাতে উপজেলার দক্ষিণ সাকুচিয়া ইউনিয়নের সিকদার হাটের মুদি দোকানের সামনে থেকে এক মাদককারবারি ও অপর এক মাদককারবারীকে হাজিরহাট ইউনিয়নের ফকিরহাট বাজার থেকে আটক করে পুলিশ। এই দুই মাদককারবারির কাছ থেকে ৭০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়। আটককৃত দুই মাদককারবারি হলেন, মজির উদ্দিন ও রাজিব। উভয়ের বাড়ি উপজেলার হাজিরহাট ইউনিয়নের চরফৈজুদ্দিন গ্রামের ৮ ওয়ার্ডে। এই বিষয়ে মনপুরা থানান অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাজাহারুল ইসলাম জানান, আটককৃত দুই মাদককারবারিকে মাদক আইনে মামলা দায়ের পর আদালতের মাধ্যমে ভোলা জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়।