বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ ২০২৬, ০২:০৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ
মৌলভীবাজার একতার বন্ধনের ইফতার মাহফিল চকরিয়ায় ডাকাতির প্রস্তুতিকালে অস্ত্রসহ নারীসহ ৪ জন আটক ঝিনাইদহে মানবতার সেবায় এগিয়ে তারুণ্যের প্রতিধ্বনি গলাচিপায় উন্নয়নের নতুন দিগন্ত: রাবনাবাদ সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন উখিয়ায় বিজিবির অভিযানে ২০ হাজার ইয়াবা, অস্ত্রসহ চোরাকারবারী আটক ঈদ সামগ্রী বিতরণে মানবিক দৃষ্টান্ত গড়েছে কোটচাঁদপুর ব্লাড ব্যাংক খাল খননের মাধ্যমে বাংলাদেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পন্ন করেছিলেন জিয়াউর রহমান: ভূমিমন্ত্রী নাটোরে পাটুল বাজারে ভয়াবহ অগ্নিকান্ড ৬টি দোকান পুড়ে ৩০ লক্ষ টাকার ক্ষতির আশংকা। ঈদে বাড়ি ফেরা মানুষের যাত্রা নিরাপদ হোক ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শহরের ২৬০ জন অসচ্ছল মানুষের মাঝে ঈদ সামগ্রী বিতরণ।

ঈদযাত্রা নিরাপদ করতে সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি খান সেলিম রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক:

খান সেলিম রহমান,

সভাপতি, বাংলাদেশ সেন্ট্রাল প্রেসক্লাব কেন্দ্রীয় কমিটি  ও দৈনিক মাতৃজগত পত্রিকার সম্পাদক বলেন,

পবিত্র ঈদুল ফিতর বাংলাদেশের মানুষের জীবনে শুধু একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি এক বিশাল সামাজিক-অর্থনৈতিক বাস্তবতা। প্রতি বছর এই উৎসবকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ মৌসুমি মানবস্রোত—‘ঈদযাত্রা’। ২০২৬ সালেও এর ব্যতিক্রম নয়; বরং সাম্প্রতিক তথ্য বলছে, এ বছরও বিপুলসংখ্যক মানুষ রাজধানী ঢাকা ছেড়ে দেশের বিভিন্ন জেলায় ফিরবেন, যা পরিবহনব্যবস্থা ও ব্যবস্থাপনার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তথ্য অনুযায়ী, এবারের ঈদে প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ মানুষ ঢাকা ছেড়ে যেতে পারেন। কিছু পূর্বাভাসে এ সংখ্যা ১.৫ থেকে ১.৭ কোটিরও বেশি হতে পারে। অর্থাৎ, অল্প কয়েক দিনের মধ্যে একটি মহানগরের অর্ধেকের বেশি জনসংখ্যা স্থানান্তরিত হচ্ছে—যা যেকোনো দেশের জন্যই বিশাল লজিস্টিক চ্যালেঞ্জ। পরিবহন মাধ্যমভেদে দেখা যায়, প্রায় ৬০ শতাংশ যাত্রী সড়কপথে যাতায়াত করেন, যা প্রায় ৯০ লাখ মানুষের সমান। বাকিরা রেল, নৌ ও আকাশপথ ব্যবহার করেন। তবে এই বিশাল যাত্রীচাপ সামাল দেওয়ার মতো অবকাঠামোগত সক্ষমতা এখনো পুরোপুরি গড়ে ওঠেনি। সরকার এবারের ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ১৭ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত ৭ দিনের ছুটি ঘোষণা করলেও বাস্তবে অধিকাংশ মানুষ একই সময়ে যাত্রা করতে চান—বিশেষ করে ঈদের ২-৩ দিন আগে। ফলে নির্দিষ্ট সময়ে চাপ তীব্র হয়ে ওঠে। এবারের ঈদযাত্রায় দেশজুড়ে ২০৭টি মহাসড়ক পয়েন্টকে ‘জটপ্রবণ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যা অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা ও ব্যবস্থাপনাগত দুর্বলতার স্পষ্ট চিত্র তুলে ধরে। একইভাবে রেলপথেও চাহিদা ব্যাপক। রাজধানীর কমলাপুর রেলস্টেশনে স্বাভাবিক সময়েই প্রতিদিন প্রায় ১ লাখ ১৫ হাজার যাত্রী চলাচল করে, যা ঈদের সময় বহুগুণ বেড়ে যায়। ফলে টিকিটসংকট ও অতিরিক্ত ভিড়ের ঝুঁকি তৈরি হয়। নৌপথেও যাত্রীচাপ কম নয়। অতীতের অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, শুধু নৌপথেই এক ঈদে ২০ লাখের বেশি মানুষ যাতায়াত করে। কিন্তু নিরাপত্তা ঘাটতি ও অতিরিক্ত যাত্রী বহনের কারণে একাধিক দুর্ঘটনা ঘটেছে, যা প্রাণহানির কারণ হয়েছে। এ পরিস্থিতির সঙ্গে যুক্ত হয়েছে কিছু আচরণগত সমস্যা—যেমন একই দিনে যাত্রার প্রবণতা, অতিরিক্ত ভিড়ের মধ্যেও ভ্রমণ এবং নিয়ম অমান্য করে দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছানোর চেষ্টা—যা ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে তোলে। এই প্রেক্ষাপটে বিশেষজ্ঞরা কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ করণীয় তুলে ধরেছেন। এর মধ্যে রয়েছে তথ্যভিত্তিক পরিকল্পনা গ্রহণ, জটপ্রবণ এলাকায় বিশেষ ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, বিকল্প রুট চালু, ধাপে ধাপে ছুটি কার্যকর করা, কঠোর আইন প্রয়োগ এবং প্রযুক্তিনির্ভর পরিবহন ব্যবস্থাপনা চালু করা। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে উঠে এসেছে সচেতনতা। যাত্রীদের দায়িত্বশীল আচরণ—অতিরিক্ত ভিড় এড়ানো, ঝুঁকিপূর্ণ ভ্রমণ থেকে বিরত থাকা এবং ট্রাফিক নিয়ম মেনে চলা—নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ সেন্ট্রাল প্রেসক্লাব কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ও দৈনিক মাতৃজগত পত্রিকার সম্পাদক খান সেলিম রহমান বলেন, “ঈদযাত্রা আমাদের দেশের একটি বড় বাস্তবতা। এটি থামানো সম্ভব নয়, তবে সমন্বিত উদ্যোগ ও সচেতনতার মাধ্যমে একে নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল করা সম্ভব। রাষ্ট্র ও জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টাই পারে দুর্ঘটনামুক্ত ঈদযাত্রা নিশ্চিত করতে।” তিনি আরও বলেন, “ঈদের আনন্দ যেন পথে হারিয়ে না যায়—এই প্রত্যাশাই হোক আমাদের সবার অঙ্গীকার।”


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমরা