শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬, ০৪:১৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ
বিজয়নগরের পাহাড়পুর-চানপুরে লটকনের বাম্পার ফলন, হাসি ফুটেছে চাষিদের মুখে উত্তাল সাগর ও টানা ভারী বৃষ্টির কারণে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে টানা তিন দিন ধরে জাহাজ থেকে পণ্য ওঠানামা বন্ধ রয়েছে। একই সঙ্গে বন্দরের সংরক্ষিত এলাকার বেশ কয়েকটি ইয়ার্ড পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় কন্টেইনারে থাকা আমদানি পণ্য ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে চাঁদার দাবিতে শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডের প্রবেশপথে টিনের ব্যারিকেড দিয়ে মালামমাল পরিবহন বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগে রমজান আলী বলি নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। বুধবার (৮ জুলাই) রাতে নগরীর আন্দরকিল্লা এলাকা থেকে তাকে আটক করে সীতাকুণ্ড মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়। সংযোগ সড়ক না থাকায় সাতক্ষীরায় প্রায় ৩৩ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত সেতু জনদুর্ভোগের কারণ চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে মাগরিবের নামাজ আদায়ের সময় এক পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করে দুঃসাহসিক ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে আলমারি ভেঙে প্রায় ১৫ ভরি স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ ২ লাখ টাকা লুট করে নিয়ে যায় ডাকাতরা। বাধা দিতে গেলে তাহেরা বেগম (বৃদ্ধা) নামে এক নারীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে আহত করা হয়। মহেশপুরে অনুষ্ঠিত হয়েছে জামায়াতের যুব ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬ এর উদ্বোধনী ম্যাচ। সমাজসেবক আলহাজ্ব আব্দুল গনি শেখের ওপর মব সৃষ্টির ঘটনার তীব্র নিন্দা, ক্ষোভ ও উদ্বেগ ঢাকা প্রেস ক্লাব নেতৃবৃন্দের সাতক্ষীরায় পরিবেশ দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত বেতন-ভাতা বৃদ্ধি ও কর্মচারী হিসেবে স্বীকৃতির দাবিতে কোটচাঁদপুরে পোস্ট অফিস কর্মীদের স্মারকলিপি প্রদান পটুয়াখালীতে টানা ভারী বর্ষণে স্থবির জনজীবন

সংযোগ সড়ক না থাকায় সাতক্ষীরায় প্রায় ৩৩ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত সেতু জনদুর্ভোগের কারণ

আজহারুল ইসলাম সাদী, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার

সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার রমজাননগর ইউনিয়নের টেংরাখালী সীমানা খালের ওপর নির্মিত পাকা সেতুর কাজ শেষ হয়েছে গত মাসে।

কিন্তু সেতুর দুপাশে নির্মাণ করা হয়নি সংযোগ সড়ক। ফলে প্রায় ৩৩ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই সেতু এলাকাবাসীর কোনো কাজে আসছে না। সংযোগ সড়ক না থাকায় টেংরাখালী, পার্শ্বেখালী, মিরগাং, কালিঞ্চীসহ ৫-৬টি গ্রামের হাজারো মানুষ, বিশেষ করে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নড়বড়ে বাঁশের সাঁকো ব্যবহার করে সেতুর ওপর দিয়ে খাল পারাপার করছেন।

তবে সেতু নির্মাণে অনিয়ম, সংযোগ সড়কের মাটি বিক্রি এবং অপরিকল্পিতভাবে মাটি কাটার অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের অর্থায়নে উপজেলার ৬ নম্বর রমজাননগর ইউনিয়নের টেংরাখালী গ্রামের দাউদ গাজীর বাড়ির সামনে সীমানা খালের ওপর প্রায় ৩৩ লাখ টাকা ব্যয়ে সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছে। কাজটি বাস্তবায়ন করেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আরিফ এন্টারপ্রাইজ।

সরেজমিনে দেখা যায়, প্রায় এক মাস আগে সেতুর নির্মাণকাজ শেষ হলেও দুই পাশে সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হয়নি। ফলে সেতুটি কার্যত পানিবেষ্টিত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। বাধ্য হয়ে এলাকাবাসী ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকো দিয়ে চলাচল করছেন। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীরা। বই-খাতা হাতে প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তাদের সাঁকো পার হতে হচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সেতু নির্মাণের সময় সংযোগ সড়কের জন্য নির্ধারিত স্থান থেকে ভেকু মেশিন দিয়ে বিপুল পরিমাণ মাটি উত্তোলন করে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। এতে সড়কের দুই পাশ গভীর খাদে পরিণত হয়েছে এবং সংযোগ সড়ক নির্মাণের জন্য এখন প্রয়োজনীয় মাটি পাওয়া যাচ্ছে না। অপরিকল্পিতভাবে মাটি কাটায় সড়কের বিভিন্ন অংশ ভেঙে পড়েছে এবং কয়েকটি বসতবাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ গাজী বলেন, “সেতু নির্মাণ হয়েছে, কিন্তু ওঠানামার কোনো রাস্তা নেই। কবে সংযোগ সড়ক হবে, তা কেউ বলতে পারছে না। আবার সেতুর জন্য ভেকু দিয়ে মাটি কাটতে গিয়ে আমার বসতঘর খালে ভেঙে পড়েছে। বিষয়টি ঠিকাদার ও পিআইও অফিসকে জানিয়েও কোনো প্রতিকার পাইনি।”

রমজাননগর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য আব্দুল হামিদ লাল্টু বলেন, “বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পিআইওকে জানানো হয়েছে। তারা সরেজমিনে এসে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।”

মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য আনারুল ইসলাম বলেন, “সেতু নির্মাণের সময় দুই পাশের মাটি কেটে বিক্রি করা হয়েছে। এতে রাস্তা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের না জানিয়েই কাজ করা হয়েছে। আমরা সঠিক তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা এবং রাস্তার দুই পাশে পাইলিং দিয়ে টেকসই সংযোগ সড়ক নির্মাণের দাবি জানাচ্ছি।”

এলাকাবাসীর দাবি, সেতু নির্মাণে অনিয়ম ও সংযোগ সড়কের মাটি বিক্রির অভিযোগ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক। একই সঙ্গে দ্রুত সংযোগ সড়ক নির্মাণ করে স্থানীয় এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান ঘটানোর দাবি জানিয়েছেন তারা।

এ ব্যাপারে শ্যামনগর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মিরাজ হোসেন জানান, ঠিকাদারকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। বৃষ্টি কমলেই সংযোগ সড়কের কাজ শুরু করা হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.


ফেসবুকে আমরা