মোঃ আতাউর রহমান মুকুল, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার:
সুন্দরগঞ্জে অনুষ্ঠিত দিনব্যাপী কৃষি কংগ্রেসে বক্তারা বলেছেন—কৃষিতে উৎপাদন বাড়াতে হলে প্রযুক্তিনির্ভর চাষাবাদ এবং উদ্যোক্তা গঠনের কোনো বিকল্প নেই। কৃষিকে আধুনিক করতে হলে মাঠপর্যায়ের কৃষকদের প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তির সরবরাহ ও উদ্যোক্তা হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে।
সোমবার (১৪ জুলাই) গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে এই কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হয়।
প্রোগ্রাম অন এগ্রিকালচারাল অ্যান্ড রুরাল ট্রান্সফরমেশন ফর নিউট্রিশন, এন্টারপ্রেনরশিপ অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স ইন বাংলাদেশ (পার্টনার) কর্মসূচির আওতায় উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
কংগ্রেসে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর রংপুর অঞ্চলের সিনিয়র মনিটরিং কর্মকর্তা কৃষিবিদ অশোক কুমার রায়। তিনি বলেন,
“বর্তমান যুগ তথ্যপ্রযুক্তির। কৃষির উন্নয়নে প্রযুক্তিকে কাজে না লাগালে কৃষকরা পিছিয়ে পড়বে। ড্রোন, স্মার্ট সেচ, বীজ ও মাটির মান নির্ধারণ প্রযুক্তির পাশাপাশি কৃষককে উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।”
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাজ কুমার বিশ্বাস।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন গাইবান্ধা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা কৃষিবিদ সৈয়দা সিফাত জাহান। তিনি বলেন,
“নারীর অংশগ্রহণ ছাড়া কৃষিতে টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। পাশাপাশি পুষ্টিকর খাদ্য উৎপাদনে কৃষকদের দিকনির্দেশনা দিতে হবে।”
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. রাশিদুল কবির স্বাগত বক্তব্যে বলেন,
“সুন্দরগঞ্জের মাটির উর্বরতা ও কৃষকদের শ্রমে গড়ে উঠতে পারে নতুন কৃষি বিপ্লব, যদি আমরা সঠিকভাবে প্রযুক্তি ও বাজার ব্যবস্থাপনার সংযোগ নিশ্চিত করতে পারি।”
সঞ্চালনায় ছিলেন উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা আ.ন.ম শিবলী সাদিক।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন— অতিরিক্ত উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহবুবুল আলম বসুনিয়া,
কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মিজানুর রহমান, সহকারী কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা সাদেক হোসেন
এছাড়াও পার্টনার ফিল্ড স্কুলের সদস্য কৃষকদের মধ্য থেকে ওহেদুজ্জামান সরকার, হযরত আলী, ও মাহমুদা আক্তার তাঁদের অভিজ্ঞতা ও মতামত তুলে ধরেন।
তাঁদের বক্তব্যে উঠে আসে—
মাঠপর্যায়ে প্রযুক্তির সহজলভ্যতা,
প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষতা বৃদ্ধি,
উদ্যোক্তা হিসেবে আত্মনির্ভরশীলতা গড়ে তোলা,
কৃষিপণ্যের ন্যায্য বাজার মূল্য নিশ্চিতকরণ,
আলোচনার সারাংশে বলা হয়, আধুনিক প্রযুক্তি এবং উদ্যোক্তা উন্নয়ন—এই দুইয়ের সমন্বয়ই হবে টেকসই ও লাভজনক কৃষির মূল চাবিকাঠি।
কৃষি কংগ্রেস শেষে অংশগ্রহণকারীরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন, এই ধরনের কর্মসূচি নিয়মিত হলে কৃষির অগ্রযাত্রা ত্বরান্বিত হবে।