সোমবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০১:১৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ
ঝিনাইদহের নবীন শিল্পী শামীমকে নতুন মোবাইল উপহার দিলেন বাংলাদেশ সেন্ট্রাল প্রেস ক্লাব (B.C.P.C)–এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মানবতার ফেরিওয়ালা খান সেলিম রহমান। নুরুল হক নুরের উপর হামলার প্রতিবাদে গলাচিপায় বিক্ষোভ ও মশাল মিছিল পালিত। গলাচিপায় দশম শ্রেণির ছাত্র আমরানের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার আজ (৩০ আগস্ট ২০২৫) এশিয়া ফাউন্ডেশনের একটি প্রতিনিধি দল বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খানের ব্রাহ্মণবাড়িয়া ৩১দফা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে  নবীনগরে নাটঘর ইউনিয়ন বিএনপি’র কর্মী সমাবেশ অনুষ্ঠিত । জামালপুরে অস্ত্রসহ মেহেরাব নামে এক যুবক গ্রেফতার৷  দালালমুক্ত ডিবিএলএম হাসপাতাল বর্হিবিভাগ করার দাবীতে মানববন্ধন উল্লাপাড়ায় কষ্টি পাথরের মূর্তি সহ দুই পাচারকারী গ্রেফতার জলঢাকা নর সুন্দর যুব কল্যাণ সংস্থা কর্তৃক আয়োজিত দ্বিবার্ষিক সম্মেলন ২০২৫ ইং “পিআর পদ্ধতি জনগণের কাছে অগ্রহণযোগ্য, নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র প্রতিহত হবে”- আমিনুল হক

পিতাহারা এক সন্তানের আর্তনাদ,তোমার পথ চেয়ে আছি বাবা তুমি ফিরে এসো

দূর্গাপুর(রাজশাহী) প্রতিনিধি:

রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার ৪নং দেলুয়াবাড়ী ইউনিয়নের ক্ষিদ্র লক্ষ্মীপুর গ্রামের এক সংবাদকর্মীর জীবনে নেমে এসেছে দীর্ঘ ছায়া। ছয় বছর ধরে নিখোঁজ তাঁর জন্মদাতা পিতা, অথচ আজও তার প্রত্যাবর্তনের অপেক্ষায় চোখে জল ধরে রেখেছেন সেই সন্তান। দৈনিক উপচার পত্রিকার ক্রাইম রিপোর্টার, জাতীয় সাপ্তাহিক অগ্রযাত্রা পত্রিকার রাজশাহী প্রতিনিধি, ও যমুনা প্রতিদিন অনলাইন স্টাফ রিপোর্টার সাংবাদিক মোঃ মনিরুল ইসলাম-যার বাবার সন্ধান আজও মেলেনি।

সাংবাদিক মনিরুল ইসলামের পিতা মাওলানা আতাউর রহমান (আক্তার) ২০২০ সালের ১২ এপ্রিল, করোনাকালীন সময়ে সারাদেশে চলমান লকডাউনের এক সকালে বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফিরে আসেননি। পরিবার ধারণাও করতে পারেনি যে, সেটিই হতে পারে তার শেষ দেখা। সকাল ৮টার দিকে তিনি বাড়ি ছাড়েন—এরপর দীর্ঘ ছয় বছর কেটে গেলেও তার কোনো সন্ধান মেলেনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মাওলানা আতাউর রহমান (আক্তার) চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার বিভিন্ন স্থানে প্রায় দুই দশক ধরে ইমামতি করেছেন। তিনি শিবগঞ্জ, কানসাট, রহনপুর, আমনুরা, গোদাগাড়ীসহ নানা এলাকায় মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি তাফসিরুল কোরআন মাহফিলে বক্তব্য দিতেন। জীবনের শেষ দিকে কিছুটা মানসিক উদ্বেগে ভুগছিলেন বলেও পরিবার জানিয়েছে।

নিখোঁজের সময় তার বয়স ছিল আনুমানিক ৫৫ বছর। গায়ের রং উজ্জ্বল শ্যামলা, মুখমণ্ডল গোলাকার, উচ্চতা ৫ ফুট ২ ইঞ্চি, পরনে ছিল চকলেট রঙের পাঞ্জাবি ও চেক লুঙ্গি। ডান গালের ওপরে একটি আঁচিলের দাগ ছিল এবং মুখে হালকা চাপ দাড়ি। তিনি রাজশাহী আঞ্চলিক ভাষায় কথা বলতেন।

তাঁর স্ত্রী মোছাঃ মনোয়ারা বেগম দুর্গাপুর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। মাইকিং, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, পোস্টার, বিজ্ঞপ্তি—সবই করা হয়েছে। তবুও আজও তিনি নিখোঁজ। দেশের প্রায় ৩০ থেকে ৪০টি সংবাদপত্র ও অনলাইন পোর্টালে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে তাঁর খোঁজে, কিন্তু কোনো সাড়া মেলেনি।

সাংবাদিক মনিরুল ইসলামের প্রশ্ন—যদি তাঁর পিতা মারা গিয়ে থাকেন, তবে তাঁর মৃতদেহ কোথায়? আর যদি তিনি জীবিত থাকেন, তাহলে এত বছরেও তিনি কোথায় আছেন? একবার কি তিনি বুঝতে পারেননি যে কেউ তাঁর জন্য আজও পথ চেয়ে বসে আছে? এ প্রশ্নগুলো আজও জ্বালা হয়ে পোড়ায় মনিরুলের পরিবারকে।

বাবার জন্য সাংবাদিক মনিরুল ইসলামের প্রার্থনা—যেনো আমার বাবা আমাদের মাঝে ফিরে আসেন। মহান আল্লাহ তো সবই পারেন, তিনি চাইলে আমার বাবাকেও ফিরিয়ে দিতে পারেন। দেশবাসীর কাছে অনুরোধ—আমার বাবার জন্য দোয়া করবেন।”

একজন সন্তানের দীর্ঘ ছয় বছরের অপেক্ষা, বুকের ভেতর জমে থাকা শূন্যতা, আর দিন রাতের প্রার্থনা—সমস্ত কিছুর কেন্দ্রবিন্দু একজন পিতা। সেই পিতা
আজ কোথায়? পরিবারটির এখন শুধু একটাই চাওয়া—যদি জীবিত থাকেন, সন্ধান মিলুক; আর যদি না থাকেন, অন্তত তার নিশ্চয়তা মিলুক।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমরা