খন্দকার জলিল, জেলা প্রধান, পটুয়াখালী:
পটুয়াখালীর গলাচিপায় সমাজের পিছিয়ে পড়া, দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত, দুস্থ ও হতদরিদ্র মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে আর্থিক সহায়তার চেক এবং শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে।
শনিবার (৪ জুলাই) সকাল ১১টায় উপজেলা পরিষদ হলরুমে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে উপজেলার ৬৭ জন উপকারভোগীর হাতে এই অনুদান ও খাদ্যসামগ্রী তুলে দেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবজুর মো. ইজাজুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রতিমন্ত্রীর সহধর্মিণী মারিয়া আক্তার নুর।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন— সহকারী পুলিশ সুপার (গলাচিপা সার্কেল) মো. সৈয়দউজ্জামান, গলাচিপা থানার অফিসার ইনচার্জ মো. ইমতিয়াজ আহমেদ, গণঅধিকার পরিষদের আহ্বায়ক মো. হাফিজুর রহমান মাষ্টার, সদস্য সচিব মো. জাকির হোসেন মুন্সি, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আশরাফ উজ্জামান এবং উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. জাফর রানা। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা। এছাড়াও স্থানীয় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং গণমাধ্যমকর্মীরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা ও জনপ্রতিনিধিদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “আপনারা যারা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সাথে যুক্ত আছেন, তারা সামান্য সুবিধার জন্য নিজেদের আত্মীয়-স্বজনের কথা না ভেবে, সমাজের প্রকৃত হতদরিদ্র ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ান এবং তাদের জন্য সুপারিশ করুন। অনেকেই পরিচিত হয়েও ভাতা না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করতে পারেন, কিন্তু আমরা সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার মাধ্যমে প্রকৃত যোগ্য ব্যক্তিদেরই এই অধিকার নিশ্চিত করতে চাই। এমনভাবে কাজ করতে হবে যেন আগামী দশ বছর পরও কেউ তদারকি করে কোনো অনিয়ম খুঁজে না পায়।”
সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবজুর মো. ইজাজুল হক বলেন, “আমাদের মূল লক্ষ্য সমাজে পিছিয়ে পড়া দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন করা। যারা প্রকৃতপক্ষে এই ভাতার যোগ্য, কেবল তারাই সরকারি সুবিধা পাবেন। প্রকৃত জেলেদের তালিকা হালনাগাদ করার কাজ চলছে, যেখানে কোনো অযোগ্য ব্যক্তির স্থান হবে না। আগামী দুই মাসের মধ্যে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।” তিনি উপকারভোগীদের উদ্দেশ্যে বলেন, অনুদানের এই অর্থ পরিমাণে কম হলেও তা সাধারণ মানুষের জরুরি প্রয়োজনে কাজে আসবে এবং সরকারের এই জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত বক্তারা সমাজের অসহায়, দরিদ্র ও দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত মানুষের কল্যাণে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সমাজের বিত্তবান ও সামাজিক সংগঠনগুলোকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। অনুদান পেয়ে উপস্থিত উপকারভোগীরাও সরকারের এই মানবিক উদ্যোগের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।