সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬, ০২:৪৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ
জলঢাকায় তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে সংবাদকর্মীর ওপর মব সৃষ্টি করে অতর্কিত হামলা  ঠাকুরগাঁওয়ে ক্যান্সার-কিডনিসহ ৬ রোগের চিকিৎসার চেক বিতরণ করলেন এমপি সালাম বগুড়ার রানার সিটি এলাকার সুইপার পট্টিতে সংবাদ সংগ্রহে গিয়ে সাংবাদিককে হুমকি, চাঁদা দাবির অভিযোগ সম্পর্ক ফাউন্ডেশনকে রাজশাহী জেলার পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। সাংবাদিকের ওপর বোমা হামলা-অভয়নগর থানা পুলিশের নীরবতা..পুলিশ কি তবে সন্ত্রাসীদের রক্ষাকবচ? হাটহাজারীতে মোবাইল চুরির অভিযোগে অজ্ঞাতনামা এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। বেলকুচিতে সর্বধর্মীয় সম্প্রীতি সমাবেশ অনুষ্ঠিত আটঘরিয়ায় কর্মকর্তাদের সাথে এমপি মহোদয়ের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত  সালিশ বৈঠক শেষে সন্ত্রাসী হামলা: বিএনপি নেতা আবুল বাশার বাদশা নিহত, আহত ১ চুয়াডাঙ্গা জীবননগর থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে ৪ গ্রেফতার

সাংবাদিকের ওপর বোমা হামলা-অভয়নগর থানা পুলিশের নীরবতা..পুলিশ কি তবে সন্ত্রাসীদের রক্ষাকবচ?

মোহাম্মদ রমজান সরকার,স্টাফ রিপোর্টার:

পেশাগত দায়িত্ব পালন শেষে ফেরার সময় বোমা হামলার শিকার অনুসন্ধান মূলক জাতীয় দৈনিক অগ্রযাত্রা প্রতিদিন এর যশোর জেলা প্রতিনিধি, যশোর জেলা সাংবাদিক ইউনিয়ন অভয়নগর ইউনিটের সদস্য সাংবাদিক মোঃ আবুল বাসার। মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে আসা সেই সাংবাদিক এখন বিচারের আশায় দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন, আর অভয়নগর থানা পুলিশ পালন করছে এক ‘রহস্যজনক ও নগ্ন নীরবতা’। ঘটনার ছয় দিন পেরিয়ে গেছে, অথচ পুলিশি তদন্তের নামে চলছে কেবল কালক্ষেপণের মহড়া।

পুলিশের এই নিষ্ক্রিয়তা এখন আর কেবল দায়িত্ব অবহেলার ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন স্থানীয় সাংবাদিক সমাজ।

​গত ২৮ জুন, ২০২৬। নওয়াপাড়া কলেজ রোডের সিরাজকাটি নুরানি মাদ্রাসার সামনে দিয়ে ভ্যানযোগে নওয়াপাড়া বাজারে যাচ্ছিলেন ওই সাংবাদিক আবুল বাসার। পেছন থেকে অতর্কিত ভাবে চালানো হয় বোমা হামলা। পরিকল্পিত এই হামলার শিকার হয়েও ভুক্তভোগী সাংবাদিকের ভাগ্য সহায় ছিল বলেই আজ তিনি বেঁচে আছেন।

এ ঘটনায় ২৯ জুন অভয়নগর থানায় মামলা দায়ের করা হয়, মামলা নং-৩১, ছয় দিন পর আজ পর্যন্ত পুলিশের নথিতে ‘তদন্তাধীন’ ছাড়া আর কোনো অগ্রগতি নেই।

​হামলার পর যশোর জেলা সাংবাদিক ইউনিয়ন জেলা শাখা, অভয়নগর ইউনিট, নওয়াপাড়া প্রেসক্লসবের সাংবাদিকরা অপরাধীদের গ্রেপ্তারে প্রশাসনকে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছিলেন। সেই সময়সীমা পেরিয়ে আরও দুই দিন অতিবাহিত হয়েছে, কিন্তু অভয়নগর পুলিশের টনক নড়েনি। প্রশ্ন উঠেছে, সন্ত্রাসীরা কি তাহলে আইনের ঊর্ধ্বে? নাকি অভয়নগর পুলিশ প্রশাসন দীর্ঘদিনের অভ্যস্ততায় আবারও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের দাসত্ব করতে গিয়ে জনগণের নিরাপত্তা বিসর্জন দিচ্ছে-?
​আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এই ‘দাসত্বসুলভ’ ও নির্লিপ্ত ভূমিকা সরাসরি প্রশ্নবিদ্ধ করছে পুরো প্রশাসনিক ব্যবস্থাকে।

ভুক্তভোগী সাংবাদিক বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিনাতিপাত করছেন, অথচ অপরাধীরা বীরদর্পে ঘুরে বেড়াচ্ছে।

সাংবাদিক সমাজ এখন একটি বার্তাই স্পষ্ট করতে চায়—পুলিশ প্রশাসন যদি এই মামলার তদন্তে কোনো ধরনের ‘রাজনৈতিক কৌশল’ বা ‘আঁতাত’ বজায় রাখে, তবে এর পরিণতি ভয়াবহ হবে। ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম পেরিয়ে যাওয়ায়, এখন আর মৌখিক প্রতিবাদে সীমাবদ্ধ থাকবে না সাংবাদিক সমাজ।
অবিলম্বে হামলাকারী সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার করা না হলে অভয়নগর সহ জেলাব্যাপি বৃহত্তর কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হবে সাংবাদিকরা।

​প্রশ্ন এখন একটাই—পুলিশ কি তাদের আইনগত দায়িত্ব পালন করবে, নাকি রাজনৈতিক প্রভুদের সন্তুষ্ট করতে সন্ত্রাসীদের রক্ষাকবচ হিসেবে ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হবে-? জবাব দেওয়ার সময় শেষ হয়ে আসছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.


ফেসবুকে আমরা